somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর বর্তমান চিত্র......

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর বর্তমান চিত্র......

আমাদের এক সহপাঠী বন্ধু অসুস্থ্য হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতে ভর্তি। বন্ধু রোগীকে দেখতে আমরা চার বন্ধু গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তিনি হাসপাতালের ভি আই পি কেবিনে চিকিতসা নিচ্ছেন- ভি আই পি কেবিনের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থাকালে শতশত সাধারণ রোগী এবং তাদের সাথে থাকা আত্মীয় স্বজনরা বারান্দায় কতোটা মানবেতর অবস্থায় আছে- যা না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না! হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আমরা শহীদ মিনার চত্তরে যাই......


"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি"-অবিস্মরণীয় এই গান গাইতে গাইতে একুশের ভোরে নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয়নি এমন বাঙ্গালি খুঁজে পাওয়া ভার। একুশে ভোরের এই অনুভূতিটাই ভিন্ন। একাধারে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সীমাহীন গর্ব, অন্যদিকে ভাই হারানোর গভীর বেদনা। বাঙ্গালী মনের এই অনুভূতি আর ভাষা আন্দোলন তাৎপর্যকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ মিনার। প্রতি ফেব্রুয়ারিতে মানুষের ঢল নামে এখানে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় গোটা চত্বর কিন্তু সারাবছর কেমন থাকে এই মিনার?

শহীদ মিনারের বর্তমান অবস্থা নিজের চোখে দেখার পরও বিশ্বাস হতে চায় না। তবু এক অপ্রিয় সত্যকে বিশ্বাস করতে হয়। ভাষা আন্দোলনের গৌরব গাঁথার প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবসে ভাষাবীরদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে ফুলের মালা হাতে আসেন দেশের দিন দেশের সাধারণ মানুষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত-সব ধরনের মানুষ। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কী ভুলিতে পারি গাইতে গাইতে প্রভাত ফেরীতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় শিশু থেকে বৃদ্ধ। দেখলে গর্বে বুক ভরে যায়। শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন বিদেশী কূটনীতিকরাও। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় গোটা আঙিনা। ভাই হারানোর গভীর বেদনায় মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সীমাহীন গর্বে প্রতিবছর দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিটি বাঙ্গালী। অবশ্য এখন শহীদ মিনার হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, উপর শ্রেনীর কেউ মারা গেলে "সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন" এর মঞ্চ।

একুশের চেতনাকে ঘিরে বিকশিত হয়েছে দেশের শিল্প সাহিত্য। বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে একুশে ফেব্রুয়ারি এবং তার আগে প্রস্তুতির দু'দিন ও পরের দু'দিন এই পাঁচদিন বাদ দিলে বছরের অবশিষ্ট ৩৬০ দিন কেমন থাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার! ঝরাপাতা, চীনাবাদামের খোসা, পোড়া বিড়ি সিগারেট, পলিথিনের ছেঁড়া ব্যাগ, চানাচুর-চিপ্সের খালি প্যাকেট, ছেঁড়া ঠোঙ্গা, কাকের পায়খানা, ব্যবরুত কন্ডম, ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয় মিনার চত্বর। পরিচর্যাহীন বিবর্ণ পোলিও রোগীর মত শহীদ মিনার।

একুশের বই মেলা উপলক্ষে এখন শহীদ মিনারের মূল বেদীতেও লোকে লোকারণ্য। দেখা গেল, শহীদ মিনারের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে জুতা পায়ে মিনারের মূল বেদীতে উঠে অসংখ্য নারী-পুরুষের আনন্দ আশ্রম! অত ভীরের মধ্যেও এক লোক তার ছেলেকে সাইকেল চালনা শেখাচ্ছে। বেদীর উপর এখানে ওখানে ঘুমিয়ে আছে বেশ কয়েকজন ছিন্নমুল মানুষ। মূলবেদীর দেয়ালে বসে ঝালমুড়ি খাচ্ছে কেউ কেউ। মুড়ি ছিটিয়ে কাক জড়ো করছে এক সুবেশী মেয়ে আর তার ছেলে বন্ধু। একদিকে জোড়ায় জোড়ায় আপত্তিকর ভঙ্গিতে বসা প্রেমিক যুগল। সকাল-দুপুর ও বিকাল যখনই শহীদ মিনার এলাকা অতিক্রম করেছি- এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। একজন পাহাড়াদার ছাড়া শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোন লোককে একদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শহীদ মিনার সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে হযরত তেলশাহর মাজার। আগে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে মাজার থেকে শহীদ মিনারে আসার পথ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেই কাঁটাতারের বেড়া কবে যে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। ভবঘুরেদের কাছে শুনি- নৈশ প্রহরী ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের শহীদ মিনার চত্বর আরো নোংরা, আরো কদর্য এমনকি ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠে।

তেলশাহ মাজারের সাথে পথ উন্মুক্ত থাকায় শহীদ মিনার চত্বরে রাতের আঁধারে গাঁজার আসর বসে, বাবা ও ফেনসিডিল সেবীদের আড্ডা জমে, ভাসমান পতিতারা খদ্দের নিয়ে মূল বেদীতে উঠে আসে, আশপাশের ফুটপাথের বাসিন্দারা এবং নিশাচর মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করে। একজন ঝালমুড়ি ওয়ালা জানান, দিনের চাইতে সন্ধ্যার পর বেচা-কেনা ভাল হয়। তবে রাতে এখানে যে সব কু-কাণ্ড ঘটে তা বলতে রুচিতে বাধে। মাঝে মাঝে টহল পুলিশ এসে বখরা নিয়ে চলে যায়।

একুশে ফেব্রুয়ারির একটি দিনকে কেন্দ্র করে পাঁচটি দিন পরিবেশ ভাল থাকলেও বছরের বাকি ৩৬০ দিন শহীদ মিনার চত্বরের পবিত্রতা বলতে কিছু থাকে না।

আমাদের উপস্থিতিতেই একুশে বই মেলা উপলক্ষে কোলকাতা থেকে ঢাকায় আসা একটি ভারতীয় পরিবার শহীদ মিনার দেখতে এসেছিলেন। নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঘুমন্ত মানুষ, দুরন্ত প্রেমিক প্রেমিকার নিলাজ চিত্র দেখে ভারতীয় পরিবারটি নীরবে দ্রুত শহীদ মিনার চত্বর ত্যাগ করে চলে যান।

অযত্ন-অবহেলার শিকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে যা দেখা গেছে, পীড়াদায়ক অনেক কথা বলা যায় না, লেখা যায় না। এক ফুচকা- চটপটি বিক্রেতা জানালেন- ১৭/১৮ তারিখ থেকে শহীদ মিনার চত্তর পরিস্কার করার কাজ শুরু হবে এবং তখন "আট কলেজের পোলা-মাইয়ারা রাইত-দিন রাস্তায় আর আস্পাশ সব যায়গায় ছবি আকবো- তহন এই যায়গা চিন্তেই পারবেন্না।!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১১:২১
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×