বিচিন্তা: ভাষার মাস.....
সকল ভাষা শহীদের জানাই হাজার সালাম
দুর্ভাগ্য জনক সত্য হচ্ছে- যে জাতি নিজ মাতৃ ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছে সেই জাতি ভাষা দিবস পালন করে ইংরেজি সন তারিখ মেনে!
আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে তদানীন্তন অখণ্ড পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে ছাত্র-তরুণেরা পুলিসের গুলীতে প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি জানাই হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা।
না, আমাদের মুখের ভাষাকে কেউ 'কাইড়া নিতে' চায় নাই। এটা ডাহা মিছা কথা। বাংলা ভাষা নিষিদ্ধ হয়নি। বাংলায় কথা বলতে কেউ বারণ করেনি। বাংলা ভাষায় লেখাপড়া, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতা করা যাবেনা তাও কেউ বলেনি। তদানীন্তন পূর্ব বাংলা বা ইস্ট বেঙ্গল প্রদেশে সব কিছুই বাংলায়ই চলতো।
প্রস্তাব হয়েছিল, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এবং আন্তঃপ্রাদেশিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ভাষা বা লিঙ্গুয়াফ্রাংকা থাকবে, সেটা হবে উর্দু। এই ভাষাকে দেয়া হবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভাষা তো ইংরেজি ছিলই। পূর্ব বাংলায় ছাত্র-তরুণ, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দাবি ওঠে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হোক। সেই দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের প্রাণদানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় বাংলাভাষা। কেবল তাই নয়, ঐ আন্দোলনে পূর্ব বাংলার বাংলাভাষীদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার চেতনার যে স্ফুরণ ঘটে তা' ধাপে ধাপে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। তবে পাঁচটি প্রদেশের বাকি চার প্রদেশের লোকের কাছে বাংলা ছিল দুর্বোধ্য। অপরদিকে পাকিস্তানের শতকরা সাত ভাগেরও কম লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু। কিন্তু পাঁচটি প্রদেশের সব ক'টিতেই শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লোকেরা কমবেশি উর্দু জানতেন। এই বাস্তবতার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘুর ভাষা উর্দুকে লিঙ্গুয়াফ্রাংকা হিসেবে গ্রহনের চিন্তা করা হয়েছিল।
বহুভাষিক ভারতেও অন্য সকল ভাষাভাষীর দাবিকে উপেক্ষা করে হিন্দীকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। তবে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ভাষা হিন্দী। আসামে ভাষার দাবিতে অনেকেই প্রাণ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। ভারতে রাষ্ট্রভাষা হিন্দী হলেও অন্য ভাষাগুলো কেউ 'কাইড়া' নেয় নি। সবাই নিজ নিজ রাজ্যে করে যাচ্ছে মাতৃভাষার চর্চা।
পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন খুব বেশি হলে ৭/৮ জন। সেই প্রাণদান আমাদের মাতৃভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। গত একযুগে এদেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কত মানুষ জীবন দিয়েছে? কত মানুষ গুম, খুন, অপহরণের শিকার হয়েছে? গণতন্ত্র কি এসেছে? ফিরেছে কি ভোটের অধিকার? ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল বাংলাভাষা। এরা কেড়ে নিয়েছে মুখের ভাষা!
অমর একুশে'র এই দিনে আমরা কি চেষ্টা করবো এই জ্বলন্ত প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজবার?
(দুই বছর আগের পোস্ট, সামান্য এডিট করা)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


