somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বিচিন্তা: ভাষার মাস.....

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিচিন্তা: ভাষার মাস.....

সকল ভাষা শহীদের জানাই হাজার সালাম
দুর্ভাগ্য জনক সত্য হচ্ছে- যে জাতি নিজ মাতৃ ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছে সেই জাতি ভাষা দিবস পালন করে ইংরেজি সন তারিখ মেনে!

আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে তদানীন্তন অখণ্ড পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে ছাত্র-তরুণেরা পুলিসের গুলীতে প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি জানাই হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা।

না, আমাদের মুখের ভাষাকে কেউ 'কাইড়া নিতে' চায় নাই। এটা ডাহা মিছা কথা। বাংলা ভাষা নিষিদ্ধ হয়নি। বাংলায় কথা বলতে কেউ বারণ করেনি। বাংলা ভাষায় লেখাপড়া, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতা করা যাবেনা তাও কেউ বলেনি। তদানীন্তন পূর্ব বাংলা বা ইস্ট বেঙ্গল প্রদেশে সব কিছুই বাংলায়ই চলতো।

প্রস্তাব হয়েছিল, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এবং আন্তঃপ্রাদেশিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ভাষা বা লিঙ্গুয়াফ্রাংকা থাকবে, সেটা হবে উর্দু। এই ভাষাকে দেয়া হবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভাষা তো ইংরেজি ছিলই। পূর্ব বাংলায় ছাত্র-তরুণ, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দাবি ওঠে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হোক। সেই দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের প্রাণদানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় বাংলাভাষা। কেবল তাই নয়, ঐ আন্দোলনে পূর্ব বাংলার বাংলাভাষীদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার চেতনার যে স্ফুরণ ঘটে তা' ধাপে ধাপে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। তবে পাঁচটি প্রদেশের বাকি চার প্রদেশের লোকের কাছে বাংলা ছিল দুর্বোধ্য। অপরদিকে পাকিস্তানের শতকরা সাত ভাগেরও কম লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু। কিন্তু পাঁচটি প্রদেশের সব ক'টিতেই শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লোকেরা কমবেশি উর্দু জানতেন। এই বাস্তবতার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘুর ভাষা উর্দুকে লিঙ্গুয়াফ্রাংকা হিসেবে গ্রহনের চিন্তা করা হয়েছিল।

বহুভাষিক ভারতেও অন্য সকল ভাষাভাষীর দাবিকে উপেক্ষা করে হিন্দীকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। তবে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ভাষা হিন্দী। আসামে ভাষার দাবিতে অনেকেই প্রাণ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। ভারতে রাষ্ট্রভাষা হিন্দী হলেও অন্য ভাষাগুলো কেউ 'কাইড়া' নেয় নি। সবাই নিজ নিজ রাজ্যে করে যাচ্ছে মাতৃভাষার চর্চা।

পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন খুব বেশি হলে ৭/৮ জন। সেই প্রাণদান আমাদের মাতৃভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। গত একযুগে এদেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কত মানুষ জীবন দিয়েছে? কত মানুষ গুম, খুন, অপহরণের শিকার হয়েছে? গণতন্ত্র কি এসেছে? ফিরেছে কি ভোটের অধিকার? ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল বাংলাভাষা। এরা কেড়ে নিয়েছে মুখের ভাষা!

অমর একুশে'র এই দিনে আমরা কি চেষ্টা করবো এই জ্বলন্ত প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজবার?


(দুই বছর আগের পোস্ট, সামান্য এডিট করা)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১:২৪
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধের মাঝেই আম্মানে তিন রাত দুই দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্স তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করায় আমাদের জর্ডানের আম্মানে অনেকটা বিনা পরিকল্পনায় তিন রাত অবস্থান করতে হয়। আমরা যখন কুইন আলিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন প্রায় মধ্যরাত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৭)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৩




সূরাঃ ৭ আরাফ, ২ নং ও ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করা হয়েছে, যেন এর দ্বারা সাবধান করার বিষয়ে তোমার মনে কোন সংকোচ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×