somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

একজন সন্তান হারা পিতার নিদারুণ কষ্ট.....

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন সন্তান হারা পিতার নিদারুণ কষ্ট.....

মাছরাঙা টিভিতে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত 'রাঙা সকাল' নামে একটা অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিশিষ্টজনদের নিয়ে আলাপ চারিতা, স্মৃতি রোমন্থন, অভিজ্ঞতা আমন্ত্রিত অতিথি শেয়ার করেন। রাঙা সকাল অনুষ্ঠানটা প্রায়ই আমি দেখি। কদিন আগে কবি নজরুল ইসলাম এর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী তাঁর জীবনী, সংগীত, কবিতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে ৭ দিনে ৭ জন ভিন্ন ভিন্ন বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একদিন আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক আসাদুল হক। তিনি নজরুল জীবনের একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলেন, ঘটনাটা আমাদের অনেকেরই জানা তবুও এখানে শেয়ার করছিঃ-

১৯২৮ সনে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর চার বছরের শিশু সন্তান বুলবুল যে রাতে মারা গিয়েছিল, সে রাতে কবির পকেটে একটা কানাকড়িও ছিল না।
অথচ কাফন, দাফন, গাড়িতে করে মরদেহ নেওয়া ও গোরস্থানে জমি কেনার জন্য দরকার ১৫০ টাকা। সে সময়ের ১৫০ টাকা মানে অনেক টাকা! কবি এত টাকা কোথায় পাবেন! বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং লাইব্রেরীতে লোক পাঠানো হল....টাকার জন্য। না, টাকার তেমন ব্যবস্থা হয়নি। শুধুমাত্র ডি. এম লাইব্রেরি দিয়েছিল ৩৫ টাকা। আরো অনেক টাকা বাকি। কবিকে টাকা জোগাড় করতেই হবে।
কবি বন্ধু শৈলজা নন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে আসাদুল হক জানালেন( যা পরবর্তীতে সুফী জুলফিকার হায়দারের লেখা নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায় বইয়ে উল্লেখ আছে) - শিশু সন্তানের মরদেহ ঘরে রেখে কবি গেলেন এক প্রকাশকের কাছে। প্রকাশক ইনিয়েবিনিয়ে শর্ত দিল- কবিতা লিখে দিতে হবে, তারপর টাকা.....

কবি মনের নীরব কান্না, যাতনা লিখে দিলেন কবিতায়.....
"ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি।
করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঝের ঝরা ফুলগুলি।
ফুল ফুটিয়ে ভোর বেলা কে গান গেয়ে
নীরব হ’ল কোন বিষাদের বান খেয়ে
বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যারাণী চুল খুলি।
কাল হতে আর ফুটবে না হায়, লতার বুকে মঞ্জরী
উঠছে পাতায় পাতায় কাহার করুণ নিশাস মর্মরী।গানের পাখি গেছে উড়ছে শূণ্য নীড়
কণ্ঠে আমার নাই সে আগের কথার ভিড়
আলেয়ার এ আলোতে আর আসবে না কেউ কুল ভুলি।"


এই গান লেখার পর প্রকাশক কবিকে ১০০ টাকা দিলেন। নিতান্তই প্রয়োজনে কবি আরও কিছু টাকা বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রকাশক টাকা দিতে ইতস্তত করছিলেন......কবি আবার একটা কাগজে লিখলেনঃ-
"শূন্য এ-বুকে পাখি মোর আয়
ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল
অকালে ঝরিয়া যায়
তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ
পাণ্ডুর হল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদীজল করুণ বিষাদ
ডাকে, ‘আয় ফিরে আয়!
গগনে মেলিয়া শত শত কর
খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড়
লুটায় লতা ধুলায়।
তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
আবার ফুটিবে বনে ফুলদল,
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল
তোর চোখের চাওয়ায়।'

গানটা লিখে কাগজটা প্রকাশকের হাতে দিয়ে বেড়িয়ে গেলেন বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহ বিষাদের কবি নজরুল ইসলাম ..... কোনো টাকা নেননি। তাই বলে কবি পূত্র বুলবুলের দাফণ প্রকৃয়ায় বাধাগ্রস্থ্য হয়নি।
ভগ্ন হৃদয়ে কবি গৃহে ফিরে দেখেন তার বন্ধু কমরেড মোজাফফর আহমেদ এবং কবি শৈলজা নন্দ কাফন - দাফনের সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

(দুটো গানের সম্পুর্ণ লিরিকস নিয়েছি গুগল থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:২০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করে নাই কারণ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩


সেখানে একজন আসিফ নজরুল ছিলেন না, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন না! পুরো বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবলের উন্মাদনা। যে সব দেশ মাঠে লড়ছে আর যারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি উত্তেজনা সবখানেই সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×