কেন এমন হলোঃ
আমাদের জুলাই বিপ্লবের সন্তানেরা....
এক সময় যাদের শ্রদ্ধা করতাম, আজ তাদের দেখে রাগে ফুঁসি! এক সময় আমরা জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়কারীদের অসীম শ্রদ্ধা করতাম। তারা ছিলেন সাহসের প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মশাল। তাদের ডাকে কোটি জনতা রাস্তায় নেমেছিলো, চোখে ছিল আশার আলো- একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু আজ? আজ সেই স্বপ্নই বিষাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের সাথে সাথে তাদের মুখোশ খুলে গেছে। দেখা গেছে, অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন। আন্দোলনের ব্যর্থতা বা বিভ্রান্তিকর কৌশলের কোনো দায় তারা নেয়নি। বরং জনগণের কষ্ট, রক্ত, ত্যাগ- সবকিছু তাদের ক্যারিয়ার গড়ার সিঁড়িতে পরিণত হয়েছে।
জনগণের মনের কথা শোনার পরিবর্তে তারা আমাদের উপরেই রাগ দেখিয়েছে। পরামর্শ উপেক্ষা করে, অন্ধকারে রেখে, একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যার পরিণতিতে আন্দোলন দুর্বল হয়েছে, মানুষের প্রাণ গেছে, কিন্তু তারা কোনোদিন উত্তর দেয়নি।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো- যারা এক সময় "ভবিষ্যতের আশার আলো" বলে পরিচিত ছিলেন, তারা এখন জনগণের চোখে প্রতারণার প্রতীক। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ক্রোধ মূলত জন্ম নিয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকেঃ
১. বিশ্বাসভঙ্গ ও স্বার্থপরতাঃ
সমন্বয়কারীরা শুরুতে জনগণের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হলেও, সময়ের সাথে সাথে দেখা গেছে—তারা ব্যক্তি স্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ বা বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষের সুবিধার জন্য আন্দোলনের আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন।
২. অস্বচ্ছ নেতৃত্ব ও দায়হীনতাঃ
তাদের অনেক সিদ্ধান্ত ছিল জনবিচ্ছিন্ন, স্বৈরাচারী ও পরামর্শহীন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে উপেক্ষা করে সমন্বয়কারীরা একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতিঃ
আসল লক্ষ্য ছিল অবৈধ সরকারকে প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। কিন্তু আন্দোলনের একপর্যায়ে লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতিপক্ষ দমনে কিংবা নিজস্ব অবস্থান মজবুত করায় পরিণত হয়- এতে সাধারণ মানুষ বিচলিত ও হতাশ হয়েছে।
৪. জবাবদিহিতার অভাবঃ
আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরও কেউ দায় স্বীকার করেনি, কেউ ব্যাখ্যা দেয়নি কেন কোথায় ভুল হলো। ফলে জনগণের মনে প্রশ্ন জমেছে, ক্ষোভ জমেছে।
৫. ভিত্তিহীন দাবি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোঃ
সমন্বয়কারীরা মাঝে মাঝে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা দিয়েছেন যা বাস্তবতা বিবর্জিত। সেই সংগে জা-শি র সাথে মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের কোটি কোটি বিএনপি কর্মী সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে এবং মনে করেছে, এরা তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমজনতা এখন বিশ্বাস করে, জা-শি এবং জানাপা একই শক্তি।
৬. জনগণের কষ্টকে পুঁজি করাঃ
কিছু নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে- আন্দোলনকে নিজেদের ক্যারিয়ার ও পরিচিতি তৈরির জন্য ব্যবহার করেছেন। শহীদ, আহত ও নিখোঁজদের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা তারা দেখাননি।
সারসংক্ষপঃ
আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, অযোগ্য নেতৃত্ব, স্বার্থপরতা এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিরক্তির মূল কারণ। যে সম্মান একসময় অন্তরের গভীর থেকে দেওয়া হয়েছিল, আজ তা প্রশ্নবিদ্ধ- এটাই বাস্তবতা। আজ মানুষ রাগান্বিত, ক্ষুব্ধ, এবং প্রতারিত বোধ করছে। যারা জনগণকে ব্যবহার করে, তাদের ইতিহাস ক্ষমা করে না। সময়ই দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৪:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




