'এক বছরব্যপী' জৌলুশময় জন্মশতবার্ষিকী পালন করে মনোরঞ্জনপূর্ণ হয়নি, তাই আরও এক বছর বাড়িয়ে 'দুই বছরব্যপী' জন্মশতবর্ষ পালনের সরকারি পরিপত্র জাড়ি করা হয়েছে....
আমরা সুযোগ পেলেই বলি- "ইতিহাস খুবই নিষ্ঠূর"! মৃত্যুর পরেও তার নাম থাকে ভালো অথবা খারাপের পাতায়। প্রাচীন ইতিহাসে ফারাওরা যে সমস্ত অত্যাচারের কাহিনী রেখে গিয়েছে তার দুটি ঘটনা তুলে ধরছিঃ-
আতেন (Aten):
আতেন ছিল প্রাচীন মিশরের এক সূর্যদেবতা, যাকে সূর্যের চাকতির (Sun Disk) প্রতীক হিসেবে পূজা করা হতো। আগে আতেন ছিল অন্যান্য দেবতার মধ্যে একজন, তবে ফেরাউন আখেনাতেন তাকে একমাত্র ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিশ্বাসকে বলা হয় আতেনবাদ (Atenism), যা মূলত বহুদেবতাবাদী মিশরীয় ধর্মের বিপরীতে একধরনের একেশ্বরবাদী চিন্তা।
আখেনাতেন (Akhenaten):
আখেনাতেন (মূল নাম আমেনহোটেপ চতুর্থ) ছিলেন অষ্টাদশ রাজবংশের ফেরাউন (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৩৫৩–১৩৩৬)। তিনি মিশরের ধর্মব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনেন—অন্য সব দেবতার পূজা বন্ধ করে আতেনকে একমাত্র দেবতা ঘোষণা করেন এবং নতুন রাজধানী আখেতাতেন (বর্তমান আমার্না) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার মৃত্যুর পর পুরনো দেবতাদের পূজা আবার ফিরে আসে এবং আতেনবাদ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
আজ আখেনাতেনের কাহিনীর মাধ্যমে বুঝা যাবে অত্যাচারী শাসকের মৃত্যুর পরেও কিভাবে তাকে এবং তার কৃতকর্মকেও নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়...
বর্তমান স্বৈরাচারও তেমনি একদিন তার নোংরা ইতিহাস রেখে যাবে আর তার সমস্ত নামের চিহ্ন গুলো পর্যন্ত মুছে ফেলা হবে একদিন। এর নামই ইতিহাস...কাউকে ক্ষমা করে না, করবেও না...
খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকের দিকে প্রায় সতের বছর মিশরের অধিপতি ছিলেন আখেনাতেন। তিনি সিংহাসনে বসার পূর্বে মিশরীয়রা অনেক দেবতার পূজা করতো। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় এসে ওগুলো সব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একমাত্র সৌর দেবতা আতেনের উপাসনা চালু রাখেন।

আতেনের সম্মানে আখেনাতেন নতুন এক শহর নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন, নাম তার আমার্না। পাথুরে পাহাড় কেটে প্রায় ২০,০০০ লোককে এ শহর নির্মাণের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিলো। দিন-রাত অমানুষের মতোই পরিশ্রম করা লাগতো সেই দুর্ভাগাদের। শহরের কবরস্থানে পাওয়া কঙ্কালগুলো নিয়ে আর্কিওলজিস্টদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশেরই কাজ করার সময় কোনো না কোনো হাড় ভেঙেছিল।
শহরের অধিবাসীদের অধিকাংশই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাতো। তাদের অধিকাংশই ছিলো অপুষ্টির শিকার। তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা ছিলো না। তারা ব্যস্ত ছিলো আমার্নার সৌন্দর্য বর্ধন নিয়েই। যদি কেউ পেটের দায়ে লাইন ভেঙে কিছু বাড়তি খাবার নিতে চেষ্টা চালাতো, তাহলে বেদম পিটিয়ে এবং ক্রমাগত ছুরিকাঘাত করতে করতেই মেরে ফেলা হতো তাকে।

এতকিছু করেও অবশ্য লাভ হয়নি শেষ পর্যন্ত। আখেনাতেনকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি মিশরের অধিবাসীরা। মৃত্যুর পর তাই আখেনাতেনের মূর্তির অনেকগুলোই ভেঙে ফেলা হয়েছিলো, কিছু কিছু লুকিয়েও রাখা হয়েছিলো। রাজাদের তালিকাতেও ঠাই দেয়া পায় নি তার নাম। মিশর আবার তার আগের বহু ঈশ্বরের আরাধনাতেই ফিরে গিয়েছিলো।
একদিন আমাদের দেশেও এমনটা হবে- শুধু সময়ের অপেক্ষা......
(ফেসবুকে এই পোস্ট লিখেছিলাম ২০২১ সালের ২৪ মার্চ। যেহেতু আমি আগে থেকেই গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলাম, তাই জেল থেকে বের হয়েও দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া....গ্রেফতার এড়াতে পারলেও রিপোর্ট করে আমার আইডি ব্যান করে দেয়)।
মুজিববর্ষ হলো শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ বাংলাদেশ সরকার ২০২০-২১ সালকে (১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। বাজেট ১২০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরও এক বছর বাড়িয়ে দুই বছর মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনের নির্দেশনা জাড়ি করে সরকারি পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত পোস্ট লিখেছিলাম।
ছবিঃ গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




