somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জৌলুশ প্রিয় স্বৈরশাসকদের পতনের পরের ইতিহাস......

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'এক বছরব্যপী' জৌলুশময় জন্মশতবার্ষিকী পালন করে মনোরঞ্জনপূর্ণ হয়নি, তাই আরও এক বছর বাড়িয়ে 'দুই বছরব্যপী' জন্মশতবর্ষ পালনের সরকারি পরিপত্র জাড়ি করা হয়েছে....

আমরা সুযোগ পেলেই বলি- "ইতিহাস খুবই নিষ্ঠূর"! মৃত্যুর পরেও তার নাম থাকে ভালো অথবা খারাপের পাতায়। প্রাচীন ইতিহাসে ফারাওরা যে সমস্ত অত্যাচারের কাহিনী রেখে গিয়েছে তার দুটি ঘটনা তুলে ধরছিঃ-

আতেন (Aten):
আতেন ছিল প্রাচীন মিশরের এক সূর্যদেবতা, যাকে সূর্যের চাকতির (Sun Disk) প্রতীক হিসেবে পূজা করা হতো। আগে আতেন ছিল অন্যান্য দেবতার মধ্যে একজন, তবে ফেরাউন আখেনাতেন তাকে একমাত্র ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিশ্বাসকে বলা হয় আতেনবাদ (Atenism), যা মূলত বহুদেবতাবাদী মিশরীয় ধর্মের বিপরীতে একধরনের একেশ্বরবাদী চিন্তা।

আখেনাতেন (Akhenaten):
আখেনাতেন (মূল নাম আমেনহোটেপ চতুর্থ) ছিলেন অষ্টাদশ রাজবংশের ফেরাউন (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৩৫৩–১৩৩৬)। তিনি মিশরের ধর্মব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনেন—অন্য সব দেবতার পূজা বন্ধ করে আতেনকে একমাত্র দেবতা ঘোষণা করেন এবং নতুন রাজধানী আখেতাতেন (বর্তমান আমার্না) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার মৃত্যুর পর পুরনো দেবতাদের পূজা আবার ফিরে আসে এবং আতেনবাদ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আজ আখেনাতেনের কাহিনীর মাধ্যমে বুঝা যাবে অত্যাচারী শাসকের মৃত্যুর পরেও কিভাবে তাকে এবং তার কৃতকর্মকেও নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়...

বর্তমান স্বৈরাচারও তেমনি একদিন তার নোংরা ইতিহাস রেখে যাবে আর তার সমস্ত নামের চিহ্ন গুলো পর্যন্ত মুছে ফেলা হবে একদিন। এর নামই ইতিহাস...কাউকে ক্ষমা করে না, করবেও না...

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকের দিকে প্রায় সতের বছর মিশরের অধিপতি ছিলেন আখেনাতেন। তিনি সিংহাসনে বসার পূর্বে মিশরীয়রা অনেক দেবতার পূজা করতো। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় এসে ওগুলো সব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একমাত্র সৌর দেবতা আতেনের উপাসনা চালু রাখেন।



আতেনের সম্মানে আখেনাতেন নতুন এক শহর নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন, নাম তার আমার্না। পাথুরে পাহাড় কেটে প্রায় ২০,০০০ লোককে এ শহর নির্মাণের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিলো। দিন-রাত অমানুষের মতোই পরিশ্রম করা লাগতো সেই দুর্ভাগাদের। শহরের কবরস্থানে পাওয়া কঙ্কালগুলো নিয়ে আর্কিওলজিস্টদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশেরই কাজ করার সময় কোনো না কোনো হাড় ভেঙেছিল।

শহরের অধিবাসীদের অধিকাংশই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাতো। তাদের অধিকাংশই ছিলো অপুষ্টির শিকার। তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা ছিলো না। তারা ব্যস্ত ছিলো আমার্নার সৌন্দর্য বর্ধন নিয়েই। যদি কেউ পেটের দায়ে লাইন ভেঙে কিছু বাড়তি খাবার নিতে চেষ্টা চালাতো, তাহলে বেদম পিটিয়ে এবং ক্রমাগত ছুরিকাঘাত করতে করতেই মেরে ফেলা হতো তাকে।



এতকিছু করেও অবশ্য লাভ হয়নি শেষ পর্যন্ত। আখেনাতেনকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি মিশরের অধিবাসীরা। মৃত্যুর পর তাই আখেনাতেনের মূর্তির অনেকগুলোই ভেঙে ফেলা হয়েছিলো, কিছু কিছু লুকিয়েও রাখা হয়েছিলো। রাজাদের তালিকাতেও ঠাই দেয়া পায় নি তার নাম। মিশর আবার তার আগের বহু ঈশ্বরের আরাধনাতেই ফিরে গিয়েছিলো।

একদিন আমাদের দেশেও এমনটা হবে- শুধু সময়ের অপেক্ষা......

(ফেসবুকে এই পোস্ট লিখেছিলাম ২০২১ সালের ২৪ মার্চ। যেহেতু আমি আগে থেকেই গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলাম, তাই জেল থেকে বের হয়েও দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া....গ্রেফতার এড়াতে পারলেও রিপোর্ট করে আমার আইডি ব্যান করে দেয়)।

মুজিববর্ষ হলো শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ বাংলাদেশ সরকার ২০২০-২১ সালকে (১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। বাজেট ১২০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরও এক বছর বাড়িয়ে দুই বছর মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনের নির্দেশনা জাড়ি করে সরকারি পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত পোস্ট লিখেছিলাম।

ছবিঃ গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জ ডায়েরি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মানুষের অস্তিত্বের লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৪


২০২৩ সালের নভেম্বর। ঢাকার কোলাহল পেছনে ফেলে আমরা যখন নারায়ণগঞ্জে পা রাখলাম, আমাদের চোখে তখন স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন। ঢাকায় জমি দখল হয়ে গেছে, ফেনীর জমি জোর করে কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×