somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুলাই ঘোষণা পত্র এবং জুলাই সনদ......

০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকে এখনো মনে করছেন “জুলাই সনদ” মানেই “জুলাই ঘোষণাপত্র” কিন্তু আসলে দুই জিনিস দুই রকম।

জুলাই ঘোষণাপত্র হচ্ছে ওই ৩১ ডিসেম্বর নাগরিক কমিটি যে ঘোষণা দিতে চেয়েছিল, যেখানে ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর একটা ধারণা উপস্থাপন করা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এগুলো থাকবে। অনেকটা একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কাঠামোতে। জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই একটি দরকারি বিষয়। কারণ আমাদের জাতীয় জীবনে জুলাই অভ্যুত্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। কিন্তু সমস্যা এখানে হয় যখন এনসিপি জুলাই ঘোষণা কে সংবিধানের অংশ করতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি এখানে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ও পরিষ্কার, সংবিধান তো হচ্ছে দেশ চালানোর গাইডলাইন, সংবিধানে ঘোষণাপত্র থাকতে পারে না। তবে ঘোষণাপত্রকে হয়তো তফসিল আকারে রাখা যেতে পারে।

এটা তো গেল জুলাই ঘোষণাপত্র তাহলে জুলাই সনদ কি জিনিস?

জুলাই সনদ হচ্ছে একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দলিল, যেখানে যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করা হয়েছিল সেখান থেকে আসা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে, এই বিষয়ে সবার লিখিত সম্মতি অঙ্গীকার নেওয়া। অর্থাৎ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাস করে যে সরকারই আসুক, সে যেন এই সংস্কারগুলো ফেলে না দেয়, এই নিশ্চয়তা তৈরির জন্যই এই সনদ।

তবে শুধু দলগুলো স্বাক্ষর করলেই যে সেটা কার্যকর হবে, তার তো কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা ’৯১-এর পরেও দেখেছি, ২০০৮-এও দেখেছি, বহু সংস্কার প্রস্তাব আলোকিত আলোচনার মধ্য দিয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।

এই জায়গায় এসে জামায়াত ও এনসিপি বলছে, জুলাই সনদকে গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে। কিন্তু এই প্রস্তাব ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একবার গণভোটের প্রসঙ্গ এলে, তখন তারা নিয়ে আসতে পারে নতুন সংবিধান বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন, জুলাই অভ্যুত্থানকে বিপ্লব ঘোষনা ইত্যাদি নানা কিছু। তখন আর সংসদ নির্বাচন মূল বিষয়ে থাকবে না এবং বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় নির্বাচন ছাড়াই একটা অনির্বাচিত ব্যবস্থায় পড়ে যাবে।

তাহলে সমাধান কী?

গণভোট এড়িয়ে একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব দলের স্বাক্ষর নেওয়ার পর একটি অধ্যাদেশ জারি করুক। সেই অধ্যাদেশে বলা থাকবে, নির্বাচনের পর গঠিত সরকার এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, এবং সনদে এটাও লেখা থাকতে হবে যে ঠিক কত বছরের মধ্যে পরবর্তী সরকার এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, সেটি হতে পারে দুই বছর বা তিন বছর।

এভাবেই জুলাই সনদ আইনি সুরক্ষা পেতে পারে, আর সংস্কারের প্রতিও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে। সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে নিয়ে প্রায় সব দলকেই খুব ইতিবাচক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় দল বিএনপি মোটামুটি বেশিরভাগ সংস্থার মেনে নিয়েছে। এখন তারা যদি জুলাই সনদে আন্তরিকভাবে স্বাক্ষর করে এবং এটিকে অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে একমত হয় তাহলে ভবিষ্যতে পাস করে আসলে সেটি বাস্তবায়ন করতে তাদের একটা আইনগত এবং সামাজিক প্রেসার থাকবে। যারা সত্যিকার অর্থেই জুলাই সনদের বিষয়বস্তু অর্থাৎ একমত হওয়া নানা সংস্কার প্রস্তাব কে বাস্তবায়নে রূপ দিতে চায়, তাদের উচিত হচ্ছে এই ধরনের অধ্যাদেশ জাতীয় একটি সমাধানে আসা। তা না করে গণভোট, গণপরিষদ নির্বাচন, বিপ্লব, এই সমস্ত কথাবার্তার দিকে যাওয়া মানেই হচ্ছে সংসদ নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া এবং গণতন্ত্রকে ঝুঁকিতে ফেলা।


(ব্লগার বন্ধু রন্টি চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:০৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জ ডায়েরি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মানুষের অস্তিত্বের লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৪


২০২৩ সালের নভেম্বর। ঢাকার কোলাহল পেছনে ফেলে আমরা যখন নারায়ণগঞ্জে পা রাখলাম, আমাদের চোখে তখন স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন। ঢাকায় জমি দখল হয়ে গেছে, ফেনীর জমি জোর করে কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×