somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বিপ্লব-পরবর্তী সমাজে "বেয়াদব শ্রেণী"র উত্থানঃ ইতিহাসের আয়নায় একটি পর্যালোচনা....

১৩ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিপ্লব-পরবর্তী সমাজে "বেয়াদব শ্রেণী"র উত্থানঃ ইতিহাসের আয়নায় একটি পর্যালোচনা....

ইতিহাস সাক্ষী- প্রত্যেক বিপ্লবই একটি জাতিকে বদলে দেয়, ভেঙে দেয় পুরোনো কাঠামো, আবার গড়ে তোলে নতুন সমাজচেতনা। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ঢেউ সবসময় শুভ নয়। অনেক সময় বিপ্লব-পরবর্তী সমাজে জন্ম নেয় এক নতুন শ্রেণী- যাদের মধ্যে থাকে সুযোগসন্ধান, নৈতিক অবক্ষয়, এবং কর্তৃত্ববিরোধিতার নামে অনিয়ন্ত্রিত আত্মপ্রকাশ।

ফরাসি বিপ্লবের পর যেমন ‘জ্যাকোবিনদের উন্মাদনা’ নতুন এক অরাজকতার জন্ম দিয়েছিল, তেমনি রুশ বিপ্লবের পর লেনিনের রাশিয়ায় দেখা দিয়েছিল এক নতুন এলিট গোষ্ঠী- যারা জনগণের নামে ক্ষমতা ভোগ করেছিল। বিপ্লবের নাম করে যারা পুরোনো অন্যায়ের জায়গায় নতুন অন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিল।

কিউবার চে গুয়েভারা ও ফিদেল ক্যাস্ট্রো এক অর্থে ছিলেন দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রতীক, কিন্তু সেই বিপ্লবও কিছুদিন পর জন্ম দিয়েছিল "বিপ্লবের রক্ষক" নামের কঠোর আমলাতন্ত্র। ভগৎ সিং ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীরা ছিলেন নৈতিকতার উচ্চতম প্রতীক- কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেই আদর্শে স্থির থাকতে পারেনি।

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস বিপ্লব ভারতে রাজনীতি ও নৈতিকতার নতুন দিগন্ত খুললেও, স্বাধীনতার পরের ভারত হয়ে ওঠে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় বিভাজন, শ্রেণী বৈষম্য ও সুবিধাবাদের নতুন ঠিকানা।

আমাদের ইতিহাসও এই বাস্তবতা থেকে মুক্ত নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণআন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পচাত্তরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন- প্রতিটি ছিল এক একটি গৌরবগাথা। এবং সর্বশেষ জুলাই ২০২৪-এ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আবারও দেখিয়েছে, ইতিহাস কখনো ঘুমিয়ে থাকে না।

কিন্তু তার পরপরই, আমরা লক্ষ্য করছি এক নতুন শ্রেণীর আবির্ভাব- যাদের বলা চলে “বেয়াদব শ্রেণী”। ওরা বিপ্লবের সন্তান নয়, ওরা ফ্যাসিস্ট সরকারের কোলে জন্ম নেওয়া বিকৃত প্রজন্ম। They talk too loud, but think too little.
ওদের চোখে নেই শ্রদ্ধা, নেই বিনয়, নেই নৈতিকতা। এরা বিপ্লবের আদর্শকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাশ্রয়ী, প্রতিশোধ, আত্মপ্রচারণা ও হীন মনোবাসনার জন্য প্রতিপক্ষকে অসম্মান করার প্রতিযোগিতা। ইতিহাসের অন্য কোনো বিপ্লবে এমন শ্রেণীর বিকৃতি খুব কমই দেখা গেছে। অধিকাংশ বিপ্লবই নতুন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে ফ্যাসিস্ট শাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এক বিকৃত মানসিকতার তরুণ শ্রেণী, বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিকে পরিণত করেছে ব্যক্তিগত উল্লাস আর নৈতিক বিশৃঙ্খলার উৎসবে।

এ যেন এক “বিপ্লব-বিকৃতি”- যেখানে সাহস আছে, শৃঙ্খলা নেই; প্রতিবাদ আছে, মূল্যবোধ নেই; স্বাধীনতা আছে, কিন্তু দায়িত্ববোধ নেই।

ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট- প্রত্যেক বিপ্লবের আসল শক্তি আসে আত্মশুদ্ধি থেকে। তরুণ প্রজন্ম যদি এই বেয়াদব সংস্কৃতির বেড়াজাল ছিঁড়ে আবার নতুন করে আদর্শ, নৈতিকতা ও দায়িত্বের পথে ফিরে আসে, তবে এই জুলাই বিপ্লব সত্যিই জাতির ইতিহাসে এক স্থায়ী মোড় হয়ে থাকবে।

কারণ প্রকৃত বিপ্লব কেবল রাস্তায় নয়- মানুষের চেতনায়, নৈতিকতায়, এবং কর্মে ঘটতে হয়। আর সেই চেতনার আগুন এখনো নিভে যায়নি- শুধু প্রয়োজন তাকে আবার জ্বালিয়ে তোলার সাহস।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×