প্রসঙ্গঃ জুলাই যাদুঘর....
ইতিহাসের স্মৃতি মুছে নয়, সংরক্ষণ করেই এগোতে হবে
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে ফেলানীর স্মারক, সীমান্ত হত্যার দলিল ও আলোকচিত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন আলোচনা ও অভিযোগ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিষয়টি তাই আবেগ বা রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্য ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
কোনো জাদুঘরের প্রদর্শনী নতুনভাবে সাজানো হতে পারে। প্রশাসনিক, নকশাগত কিংবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণেও কোনো অংশ পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু যদি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, ছবি বা স্মারক সত্যিই সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে- কেন সরানো হলো, কার সিদ্ধান্তে সরানো হলো এবং সেগুলো বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত আছে।
রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা এক বিষয়; আর নিজের ইতিহাস ও জাতীয় স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সীমান্তে নিহত ফেলানী, গণ-আন্দোলন, রাজনৈতিক নিপীড়ন কিংবা দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়- এসবের যেসব দলিল ও স্মারক রয়েছে, সেগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়। এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণযোগ্য জাতীয় ইতিহাসের অংশ।
আমরা চাই না ইতিহাসকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী লেখা বা মুছে ফেলা হোক। আমরা চাই- যা ঘটেছে, তার সত্যনিষ্ঠ দলিল সংরক্ষিত থাকুক এবং মানুষ সত্য জানার সুযোগ পাক।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধঃ
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনীতে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে, কেন আনা হয়েছে এবং সরিয়ে নেওয়া ঐতিহাসিক উপকরণগুলো কোথায় সংরক্ষিত আছে- এসব তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হোক।
ইতিহাসের গৌরব যেমন সংরক্ষণ করতে হয়, তেমনি ইতিহাসের বেদনা, অন্যায় ও অস্বস্তিকর অধ্যায়ও সংরক্ষণ করতে হয়। কারণ ইতিহাস মুছে দিলে ইতিহাস শেষ হয় না বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন আরও বড় হয়ে ফিরে আসে।
ইতিহাস কোনো সরকারের নয়, কোনো দলের নয়- ইতিহাস জনগণের। সত্য যত কঠিনই হোক, ইতিহাসের জায়গা ইতিহাসেই থাকা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



