আমি ফেসবুক করি!
সাধারণত আমার যোগাযোগের জগৎটা খুব ছোট। আমার মতোই সাধারণ কিছু মানুষ- যাদের আমরা কথ্য ভাষায় কমন পিপল বলি, তাদের সঙ্গেই ওঠাবসা, যোগাযোগ।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে দেশবরেণ্য একজন সেলিব্রিটির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। তিনি আবার আরেকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সৌজন্য পরিচয় ও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন(দুজনের অবস্থান কাছাকাছি)- আমি দুজনেরই গুণমুগ্ধ ভক্ত।
সত্যি বলতে, আমার নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা বিবেচনায় তাঁদের সুসজ্জিত বিশাল অফিস চেম্বারে তাঁদের মতো ব্যক্তিত্বের সামনে বসে কথা বলার সময় কিছুটা জড়তা কাজ করছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দুজনেই এতটা আন্তরিকতা ও সৌজন্যের সঙ্গে চা খেতে খেতে কথা বললেন যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই জড়তা কেটে গেল।
একপর্যায়ে তাঁদের একজন জানতে চাইলেন-
-'আপনি এখন কী করেন? মানে, কী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন?'
আমি একটুও না ভেবে, সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে উত্তর দিলাম-
-"জ্বি, আমি ফেসবুক করি। ফেসবুক ছাড়া আর কিছু করি না।"
বুঝতে পারিনি, আমার এই পরিচয় শুনে তাঁদের মনে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল! হয়তো কিছুই ভাবেননি। হয়তো আমার কথাকে নিছক রসিকতা হিসেবেই নিয়েছেন।
আমরা সাধারণত কাউকে জানতে চাইলে তাঁর পেশা, পদবি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক অবস্থান জানতে চাই। যেন এসবের বাইরে মানুষের আর কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। অথচ আমার বর্তমান বাস্তবতায় ফেসবুকই আমার ভাবনা প্রকাশের জায়গা, পড়াশোনা, লেখালেখি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যম।
তবু এটাও সত্য, ফেসবুকের জগৎকে সবাই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখেন না। এখানে অনেক মূল্যবান চিন্তা যেমন জন্ম নেয়, তেমনি অসংখ্য চটুলতা, ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা ও অর্থহীন কথাবার্তাও হারিয়ে যায়। তাই হয়তো ‘আমি ফেসবুক করি’- এই পরিচয়টি কারও কাছে খুব একটা পেশাগত বা মর্যাদাপূর্ণ মনে হবে না। আমার অবশ্য কোনো পদবি নেই, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও নেই। নিজের অবস্থানকে বড় করে দেখানোর তেমন কোনো আগ্রহও নেই।
আমার ছোট্ট উপলব্ধি- মানুষের পরিচয় জানতে চাওয়ার চেয়ে মানুষটিকে জানার আগ্রহ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সত্যকে আড়াল করার চেয়ে সরলভাবে সত্য বলার মধ্যে একধরনের স্বস্তি আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



