somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বেনামী গল্প

০৫ ই মে, ২০১৪ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[এটি একটি বেনামী গল্প। সময় অভাবে গল্পটির আকিকা করা সম্ভব হল না বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।]

‘স্যার হরলিক্স খাবেন?’

এই মেয়েটা কিছু খাওয়ার কথা বলা মানে ঘোর বিপদ। মতামত জানতে চাওয়াটা একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। হরলিক্স মেফতাকে খেতেই হবে। টেবিলে পরিষ্কার কাঁচের গ্লাসে বাদামী রঙয়ের কিছু তরল রাখা আছে। তরলটা হরলিক্স কিনা সে বিষয়ে বিস্তর সন্দেহ আছে মেফতার। মেয়েটা গতকালই ঝাল সেভেন আপ খাইয়েছে ওকে। সেভেন আপের সবুজ বোতলে কাঁচা মরিচ কুঁচি কুঁচি করে কেটে দিয়েছিল। এইটুকুন একটা মেয়ের মাথায় এত শয়তানী বুদ্ধি আসে কোথা থেকে? সবে তো টুতে! রাকা জন্ম থেকেই ফাযিল নাকি?

‘স্যার... কি হল? খান? হরলিক্স বাচ্চাদের বানায় টলার, স্ট্রঙ্গার এন্ড শার্পার!’
হেসে ফেলে মেফতা। ‘আমার টলার হওয়ার বয়স চলে গেছে। তুমি খাও’
‘না খেলে কিন্তু আম্মুকে বলে দেব আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে বিড়ি খান!’

কি বীভৎস আক্রমণ! বিড়ি! মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি। সিগারেট হলেও একটা কথা ছিল! কিছু বলাও যাবে না। পান থেকে চুন খসলেই ভেউ ভেউ করে কান্না জুড়ে দেবে। জীবনের প্রথম টিউশনি। আর যাই হোক মাসটা শেষ না করে ইতি টানা উচিৎ হবে না। তাই বলে তো এতটুকুন একটা মেয়ের বর্বর মিথ্যাচারকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না।

- ‘মিথ্যা বল কেন? মিথ্যা বললে দাঁতে পোকা হয় জাননা?’
- ‘আমার হবে না। আমি প্রতিদিন পেপসোডেন্ট দিয়ে দাঁত মাজি’
- ‘খুব পাকনা হইছো না?’
- ‘স্যার কিসের পাখনা? ময়ূরের নাকি মাছের?’
- ‘তোমার মাথার পাখনা! বই বের কর! ফাযিল মেয়ে কোথাকার!’
- ‘আম্মু... অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ...’
শুরু হয়ে গেল। কখন থামবে কে জানে। মেয়ের মা এসে তোলো তোলো করবে। কিন্তু আহ্লাদী মেয়ে কিছুতেই থামবে না। এ মেয়ে যে বড় হলে কি পরিমাণ ঢঙ্গী হবে সেটা কল্পনা করতেও মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে মেফতার।

‘চুপ! একদম চুপ!’

মেফতা ব্যর্থ। মেয়ের ‘মামনী’ চলে এসেছে। ‘আম্মুটা আমার কাঁদে কেন রে?’

একে তো নাচনী বুড়ি তাতে পড়ছে ঢাকে বাড়ি! মেয়ের ফোঁসফোঁসানী আর চোখের জল দেখলে যে কেউ ভাববে যে ভদ্রমহিলার মেয়েকে মেফতা মেরে তক্তা বানিয়ে দিয়েছে।

- ‘কি হয়েছে? স্যার মেরেছে?’
- ‘হরলিক্স... অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ...’

ও বুঝতে পেরেছি। স্যার হরলিক্স খায়নি।
‘বাবা হরলিক্সটা খেয়ে নাও। ওর যাকে পছন্দ হয় তাকেই হরলিক্স খাওয়ায়’
না বলতে যাচ্ছিল মেফতা। হঠাত কান্না ভুলে রাকা বলে ওঠে,- ‘মামনী, স্যার বি...’

অবস্থা বেগতিক। দ্রুত ডিসিশন বদল করে মেফতা। ‘কে বলল আমি হরলিক্স খাই না? এইতো খাচ্ছি... ’

রাকার মা চলে যায়। এক চুমুক হরলিক্স মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখে মেফতা। জিনিসটা পিওর হরলিক্স না। কি যেন মেশানো হয়েছে। তবে খারাপ লাগছে না। আল্লাহর নাম নিয়ে আস্তে আস্তে মুখে আটকে রাখা তরলটাকে সোজা পাকস্থলীতে চালান করে দেয় সে।
- ‘এবার খুশি? সত্যি করে বলতো কি মিশিয়েছিলে হরলিক্সে?’
- ‘শাহী মুরগীর মশলা!’
- ‘কি?? ডাকো তোমার আম্মুকে ডাকো। তোমার মত ইবলিশকে পড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব না’

রাকার কোন ভাবান্তর নেই। অন্য সময় হলে ঠিকি কেঁদে দিত। মেয়েটা পারেও বটে।

শেষ! টিউশনি টা গেল। টেবিলের ওপরে রাখা ব্যাগটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায় মেফতা। দু’পা এগিয়েও যায়।

হঠাৎ নীরবতা ভাঙ্গে রাকা। ‘আমি কিছু করিনি। সব দোষ আপুর!’

‘আপু মানে??’

দরজা খুলে কেউ একজন রুমে ঢোকে। রাকার আব্বু।
- ‘বাবা চলে যাচ্ছ? তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি’
- ‘জ্বি বলুন’
- ‘আমার বড় মেয়েটা এবার অ্যাডমিশন টেস্ট দেবে। ও তোমার কথা বলছিল। ওকে একটু কেমিস্ট্রিটা দেখিয়ে দিতে হবে তোমার’

অফারটাকে সরাসরি না করে দেয়া উচিৎ মেফতার। কিছুক্ষণ আগে যে ডিসিশন নিয়েছে তার সাথে এটা সাংঘর্ষিক। তাছাড়া সামনে সেমিস্টার ফাইনাল। তবে মুরগীর মশলাওয়ালীকে শায়েস্তা করার সুযোগটা হাত ছাড়া করাটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কত্ত বড় সাহস! মেফতাকে মুরগীর মশলা খাওয়ায়!

- ‘কিন্তু আংকেল আমার যে শুক্র-শনিবার ছাড়া সময় হবে না।‘
- ‘তাতেই হবে। ও পড়ালেখায় এমনিতেই অনেক ভাল!’
- ‘তাহলে তো ভালই। ’
- ‘এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+! শুক্রবারে আসতে আবার ভুলে যেও না কেমন?’
- ‘ভুলে গেলে রাকাকে ফোন দিতে বলবেন! আংকেল আসি তাহলে’
- ‘ওকে। আস’

এ টিউশনিটার এই একটাই প্রব্লেম। ইচ্ছা না থাকলেও হেঁটে হেঁটে যেতে হয়। বাড়ির সামনে আধ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও একটা রিক্সা পাওয়া যায় না। কিন্তু আজ বাড়ির গেটের সামনেই একটা ফাঁকা রিক্সা দাঁড়িয়ে আছে। কোন কথা না বলে রিক্সায় উঠে বসে মেফতা।

- ‘হ্যালো স্যার! আমার রিক্সায় উঠে পরলেন যে?’
- ‘তুমি! তুমি এখানে কি কর?’
- ‘দেখছো না দাঁড়িয়ে আছি! উজবুক কোথাকার। গার্ল ফ্রেন্ডের বাসাটাও চেন না!’
- ‘মানে কি?’
- ‘যেই একটা মেয়ের কথা শুনলে আর অমনি রাজী হয়ে গেলে! ক্যারেক্টার ঢিলা মফিজ...’
- ‘মানুষ এত খারাপ হয় কি করে?’
- ‘ক্যান ঝাল কোক ভালো লাগে নি?’
- ‘আমি কোন অভদ্র মেয়েকে পড়াতে পারব না’
- ‘মাইন্ড করো কেন? খিচুরীতে মুরগীর মশলা দিলে নাকি মুরগীর টেস্ট পাওয়া যায়! হরলিক্সে পাওনি বোধহয়?’
- ‘এটাই শেষ! আমি আর আসছি না...’
- ‘ঢং কত? না আসলে গার্ল ফ্রেন্ড চালানোর টাকা আসবে কোত্থেকে জনাব?’
- ‘কথায় কথায় এত ঝগড়া কর কেন? তুমি না আমার গার্ল ফ্রেন্ড! ওঠো রিক্সায় ওঠো জাদুমণি... ঝুনঝুনী টুনটুনি!’

মৃত্তিকা রিক্সায় ওঠে। রিক্সাওয়ালা রিক্সার পেডেলে পা দিয়ে মিটিমিটি হাসে! ক্রিং ক্রিং...
‘আমার রিক্সা চলে হাওয়ার বেগে উইড়া উইড়া...’
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×