somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ছারপোকা

১৪ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা কালো কুচকুচে উকুনের মত পোকা রাহাতের পা বেয়ে উপরে উঠছে। পোকাটার নাম ছারপোকা। চুপচাপ রক্ত খায়। অন্যদিন হলে পোকাটাকে দু’আঙুল দিয়ে ধরে কলমের হেড দিয়ে টিপে মারত রাহাত। বিশ্রী একটা গন্ধ এসে নাকে বাঁধত ওর। গা গুলিয়ে উঠত। কিন্তু আজ পোকাটাকে বিন্দু মাত্র বাঁধা দিচ্ছে না সে। কতটুকুই আর খাবে বেচারী? খাক না! টেবিলের উপর থেকে পিন ভর্তি স্ট্যাপলারটা হাতে নেয় রাহাত। একনাগারে কিছুক্ষণ ফাঁকা স্ট্যাপল করে। স্ট্যাপলারের মেটালিক সাউন্ডটায় একধনের মাদকতা আছে। অসহায় পিনগুলোকে কষ্ট দিতে অদ্ভূত ধরনের আনন্দ পায় সে। রাহাতের প্রতিটি চাপে পিন নয়, যেন অন্য কিছু পিষ্ট হয়। খচ-খচ খচ-খচ....

সকালে ফোন করেছিল রাফা। ধরবে না ধরবে না করেও শেষ পর্যন্ত ফোনটা ধরেছিল রাহাত।
- রিসিভ করলে কেন?
- বল...
- মানুষের তো একটা কমন সেন্স থাকে। কাল থেকে কতবার ফোন দিয়েছি?
- আমার নেই
- মানুষ এত খারাপ হয় কি করে?
- তুমি যেভাবে হয়েছো
- তোমার সাথে রিলেশন করার সিদ্ধান্তটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত!
- এতদিন পর তোমার বোধদয় হল নাকি অনেক আগেই হয়েছে?
- আমাকে অ্যাভয়েড করছো কেন?
- কারণ অ্যাভয়েড করার সময় চলে এসেছে
- মানে??
- দেখো রাফা। আমি অবোধ বালক নই আর তুমিও সেই জাতীয় কিছু নও। আমি মুখ খুলতে চাচ্ছি না। কারণ ন্যাকা কান্না দেখলে আমার পিত্তি জ্বলে
- তুমি কি বলতে চাচ্ছ?
- সেটা কি সংবাদ সম্মেলন করে জানাতে হবে? তোমাকে অভিনন্দন জানানোটা বাকী ছিল। সেটা জানাতে চাচ্ছি।
- বুঝলাম না
- বোঝাটা তোমার কাজ নয়। আমাকে তো বুঝতে পারোই নি। কষ্ট করে হলেও রাতুলকে বোঝার চেষ্টা করিও। তারপর নাহয় অন্য কাউকে...

রাফা হয়তো কিছু একটা বলত। কিন্তু সেই কিছু একটা শোনার মত ধৈর্য রাহাতের ছিল না। ঠাস করে ফোনটা কেটে দিয়েছিল রাহাত। আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কটা ছিন্ন করার দরকার ছিল। আজ তা হয়ে গেছে। এটাকেই বিশ্বাস বলে! কষ্টে মুখে হাসি চলে আসে রাহাতের। বাবা অসুস্থ্য ছিল রাহাতের। মাস দুয়েক সময় দিতে পারেনি রাহাত। এরই মাঝে রাতুলের সাথে সম্পর্ক হয়ে গেল! কি ভেবেছিল রাফা? রাহাতের চোখকে ফাঁকি দেবে সে? ভালোবাসার মানুষের চোখ ফাঁকি দেয়া যে পৃথিবীর অন্যতম কঠিন কাজ সেটা হয়তো রাফা নামক মেয়েটার জানা ছিল না। একবার ইচ্ছে করছিল ইচ্ছেমত অপমান করে রাফাকে। কিন্তু লাভ কি তাতে? মরা মানুষকে অপমান করেই বা কি হবে? মরা মানুষ! মরাই তো! রাফা মরে গেছে। রাহাতের পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোন পৃথিবীতে নিষ্পাপ শিশু হয়ে জন্ম নিয়েছে রাফা।

- রাহাত নৌকায় ঘুরবে?
- এখন?? এই ঝড়ের মধ্যে?
- ঝড় কই? সামান্য বাতাসে তুমি ভয় পাচ্ছ?
- তোমার মাথায় বড় ধরনের সমস্যা আছে
- থাকুক। সেটা আমার মাথা বুঝবে। তুমি নৌকায় উঠবে কিনা বল?

না বলার সুযোগ থাকত না রাহাতের। দমকা বাতাস উপেক্ষা করে নৌকা ছেড়ে দিত মাঝি। নদীর বিদ্রোহী পানিগুলো এসে সজোরে নৌকায় আঘাত করত। মাঝরাতের মদ্যপের মত দুলত নৌকা। নদীর উত্তাল ঢেউগুলোতে পা ভেজাত রাফা। রাহাত ভয় পেত।

- পড়ে যাবে তো!
- গেলে যাব। তাতে তোমার কি?
- তাতে কি মানে? আমার একমাত্র বউটা হারিয়ে গেলে বউ পাব কই?
- বউয়ের শোকে তুমিও হারিয়ে যাবে!

হা... হা... হা...। ছারপোকাটার দিকে তাকিয়ে পাগলের মত খটখট করে হাসে রাহাত। বউ! রাহাত তোর বিয়ে হল কবে?

বিয়েটা সেদিন করতেই পারত রাহাত। সেদিন বলতে ছ’মাস আগে, রাফার একুশতম জন্মদিন ছিল যেদিন। সেদিনই প্রথম শাড়ি পড়ে এসেছিল রাফা। সাজুগুজুও কম করেনি। রিক্সায় করে ঘুরছিল দু’জন।

- শাড়িতে তোমাকে সুন্দর লাগছে
- একটা বউ বউ ভাব আছে না?
- হুম!
- তাহলে চল বিয়ে করে ফেলি!
- কোথায় ফেলবে? নদীতে!
- আমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলছি
- আমিও সিরিয়াস। বউ পালবে কে? আমি নাকি আমার শ্বশুর আব্বা?
- আহা আমরা তো জাস্ট বিয়ে করব, সংসার না!
- তোমাকে সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার
- তুমিই তো আমার সাইক্রিয়াটিস্ট! দেখ...

আবার খটখট করে হাসে রাহাত। ছারপোকাটার রক্ত খাওয়া বোধহয় শেষ হয়েছে। রক্ত ভর্তি পেট নিয়ে কিছুক্ষণ ঘাপটি মেরে বসে ছিল বেচারী। এখন সুরসুর নেমে যাচ্ছে। প্রয়োজন ফুরালে সবাই এভাবে সুরসুর করে চলে যায়। স্ট্যাপ্লারটা আবার হাতে নেয় রাহাত। খচ-খচ খচ-খচ... ...

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কর কাজ নাহি লাজ

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৬ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৪


রাফসান দা ছোট ভাই
ছোট সে আর নাই
গাড়ি বাড়ি কিনে সে হয়ে গেছে ধন্য
অনন্য, সে এখন অনন্য।

হিংসেয় পুড়ে কার?
পুড়েপুড়ে ছারখার
কেন পুড়ে গা জুড়ে
পুড়ে কী জন্য?

নেমে পড় সাধনায়
মিছে মর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাঁর বোতলে আটকে আছে বিরোধী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:০৭



সেই ২০০৯ সালে তিনি যে ক্ষমতার মসনদে বসলেন তারপর থেকে কেউ তাঁকে মসনদ থেকে ঠেলে ফেলতে পারেনি। যারা তাঁকে ঠেলে ফেলবে তাদের বড়টাকে তিনি বোতল বন্দ্বি করেছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন গঙ্গা পানি চুক্তি- কখন হবে, গ্যারান্টি ক্লজহীন চুক্তি নবায়ন হবে কিংবা তিস্তার মোট ঝুলে যাবে?

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬


১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ফারাক্কা বাঁধ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে খরা ও মরুকরণ তীব্র করে, বর্ষায় হঠাৎ বন্যা তৈরি করে কৃষক ও পরিবেশের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। পানি বঞ্চনা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ কি আমার বন্ধু শাহেদের ঠিকানা জানেন?

লিখেছেন জিএম হারুন -অর -রশিদ, ১৬ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:৩৪



কেউ কি আমার বন্ধু শাহেদের ঠিকানা জানেন?
আমার খুবই জরুরি তার ঠিকানাটা জানা,
আমি অনেক চেষ্টা করেও ওর ঠিকানা জোগাড় করতে পারছিনা।

আমি অনেক দিন যাবত ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছি,
এই ধরুণ, বিশ-একুশ বছর।
আশ্চর্য্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগার ভাবনা:কথায় কথায় বয়কট এর ডাক দেয়া পিনাকীদের আইডি/পেইজ/চ্যানেল বাংলাদেশে হাইড করা উচিত কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন?

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৭ ই মে, ২০২৪ রাত ১২:১৩



অপূর্ব একজন চমৎকার অভিনেতা। ছোট পর্দার এই জনপ্রিয় মুখকে চেনেনা এমন কেউ নেই। সাধারণত অভিনেতা অভিনেত্রীদের রুজিরোজগার এর একটি মাধ্যম হইল বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়া। বাংলাদেশের কোন তারকা যদি বিদেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×