- সব মানুষেরই ভালো খারাপ দুটি দিক থাকে। এজন্যই তো সেদিন বলেছিলাম। ভেতরের মানুষটাকে দেখার চেষ্টা করিও। অনেক কিছুরই খবর পাবে।
- তুমি সেদিন যেটা বলেছিলে সেটা ভুল। আমার কোন লুকোনো কষ্ট নেই। হয়তো আছে যতটুকু সবার থাকে। আর যদি লুকোনো কষ্ট থেকেও থাকে তবে সেটা খুঁজে পেতে আমার কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর কেটে যাবে!
- আমি শুধু আমার অভিমত দিয়েছি, বেদ বাক্য বলিনি। মানুষের ভেতরে কি আছে সেটা সে নিজেও জানেনা! আমিও না, তুমিও না...
- তাহলে এসব উদ্ভট কথা বলো কেন?
- চেষ্টা করতে তো সমস্যা নেই। ফুল না পেলেও ফুলেও গন্ধ তো পাওয়া যাবে।
- তোমার ভেতরটা দেখবো নাকি?
- মনে হয়না বেশীদূর এগুতে পারবে।
- তাহলে বেগার খেটে লাভ কি! একটা প্রশ্ন করি? যদিও উচিৎ হবেনা তবুও করছি। ঠিকঠাক উত্তর দেবে।
- করো। সাধ্যমত চেষ্টা করবো।
- তোমার লাইফে কখনো কি কোন মেয়েকে ভালো লেগেছিলো? সরি ফর আস্কিং।
- কত মেয়েকেই তো ভালো লাগে রোজ! এককালে একটা মেয়েটাকে অন্ধভাবে ভালোবাসতাম। এখনো বাসি, তবে চোখ কান খোলা রেখেই। মেয়েটা অবশ্য এসবের কিছু জানেনা।
- ওয়াও! আমি চিনি মেয়েটাকে?
- তাতো বলবো না। মেয়েটাকে কোনভাবেই জানানো যাবে না।
- আরে আমি ঐ মেয়েকে বলবো নাকি যে তুমি ওকে পছন্দ করো? আমাকে বললে কিচ্ছু হবেনা। প্রমিজ, বলবো না।
- জানি বলবে না। আর আমিও তোমাকে বলছি না! পরিবারে মিলবে না। যদি কখনো বুঝতে পারি যে মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে তবে তখন বলতেও পারি।
- শোনো এরকম একতরফা ভালোবাসায় কোন লাভ নেই। শুধু শুধু কষ্ট পেতে হয়।
- ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি... তাই তোমার কাছে ছুটে আসি...’
- জানোই যখন মিলবে না তখন ঐ মেয়ের পিছে ঘুরঘুর করো কেন?
- জ্বিনা। ঘুরঘুর কখনো করিনি, করিও না। তোমার কি মনে হয়? মেয়েটাকে বলে দেয়া উচিৎ?
- জানিনা। তবে তোমার যদি উত্তর জানাই থাকে তবে ভুলে যাওয়া উচিৎ।
- উত্তর কি হবে জানিনা। শুধু এতটুকু জানি যে মেয়েটা আমাকে খারাপ ভাবতে পারে। আর সেটাই যদি হয় তবে আমার খুব খারাপ লাগবে। অনেক ভেতরের কথা বললাম, তাই না?
- না। তবে কাছাকাছি। আমি আবার তোমাকে ঐ মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মন খারাপ করে দিলাম না তো!
- না। ওর কথা মনে হলে মন ভালোই হয়। মেয়েটাকে মনে হয় তুমি কখনো খুঁজে পাবেনা!
- হতে পারে। তুমি যদি ওকে খাটের তলায় লুকিয়ে রাখো তাহলে খুঁজে পাবো কি করে?
- হয়তো বলে ফেলবো কোন একদিন। তবে শর্ত একটাই। শুনে মনে রাখা যাবে না।
- কি মুশকিল! শুনেই আবার ভুলে যাবো!
- ভুলতেই হবে! আমি জানি তুমি পারবে!
- তুমি যে রাত জেগে জেগে আমার সাথে চ্যাট করো, আমি কিন্তু ঐ মেয়েটাকে বলে দেবো!
- দিও! আমি নিশ্চিত সে অবাক হবেনা।
- বাব্বাহ এত্তো কনফিডেন্স! ভালো। বাই বাই করি। সুর্য্য উঠবে একটু পর।
- তাইতো! গুড মর্নিং! বাই...
ফেসবুকের পাতায় বন্দী হয়ে আছে পাঁচ বছর আগের নিদ্রাহীন একটি রাত।
মানুষের বদলে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর দীর্ঘ একটা সময়। পনের বছরের কিশোরের চাওয়া, বিশ বছরে গিয়ে গিরগিটির মত বদলে যায়। পাঁচ বছরের শিশুটি দশ বছরে গিয়ে মায়ের কাছে আর ফিডার খাওয়ার বায়না ধরে না। নাদিয়াও আর নাদিমকে গভীর রাতে টেক্সট করে ঐ মেয়েটার খবর জানতে চায়না। নাদিমেরো ইচ্ছে করেনা বলতে, ‘নাদিয়া মেয়েটা যে তুমিই ছিলে!’
নাদিয়া আজকাল সেলফি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায়। কিছুক্ষণ আগেই আপলোড হয়েছে একটা। ‘With my Jantush Ta! @KFC’! বিরক্তি নিয়ে ছবিটা দেখে নাদিম। ছবি তো নয়, যেন টুথ পেস্টের বিজ্ঞাপন!
চোট্ট একটা বিপ দিয়ে ফেসবুকের চ্যাট বক্সে একটা নাম ভেসে ওঠে! সাথে একটা সতর্কবার্তা!
‘ওগো গণ্ডারের আব্বু! হোয়াটস অ্যাপে কতক্ষণ আগে নক করছি! রিপ্লাই দাও না ক্যান?’
নাদিম বিদ্যুৎ বেগে মোবাইলটা হাতে তুলে নেয়!
‘অমাবশ্যার তারা’ – নাদিমের রাত জাগার নিত্যদিনের সঙ্গী এখন সে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


