somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিনথেটিক আকাশ।

০৮ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পর লিখছি। গত কয়েক মাস পরীক্ষা আর পড়াশোনার চাপে রাতগুলো অতীতচারী হতে পারেনি। তাহলে কি সব কান্না শুধু অতীতের জন্যই? কি জানি! ইদানিং আর মাঝরাতে কান্না পায় না। এখনতো প্রায় রাত তিনটা। জানালায় ওয়াল মেটের মত রাতের আকাশ ঝুলে আছে। পরীক্ষা শেষ হয়েছে কয়েকদিন হলো। ব্যাস্ততা নেই বললেই চলে। হঠাৎ কেমন জানি থেমে গেলো সব কিছু। চেষ্টা করলাম পুরনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু মনে হচ্ছে কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। অনেক দিনের বিরতিতে সম্পর্কগুলো শীতল হতে হতে বরফ হয়ে গেছে। একটু একটু করে একা হতে হতে একদম একা হয়ে গেছি। তবু সেই সব দিনের কথা কি আর ভোলা যায়? কিছু কথা যেন কখনই ভুলবো না,কিছু কথা মনেই পড়বে না। কিছু কথা হয়তো কাউকেই বলব না। আর কিছু কথা হয়তো কখনো জানতেই পারবোনা। কিছু কিছু অনুভুতির যেন কোন মানে নেই। সেদিন যেন হঠাৎ করেই নিউমার্কেটের ভেতর হলমার্কের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল।
সময় যেখানে থেমে থাকার কথা ছিল,সেখানই থেমে আছে। এমন অদ্ভূত শূণ্যতার মাঝে মনে পড়ে নীপবৃক্ষটার কথা। এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত বৃক্ষ। বর্ষা এলেই এটাতে অনেক ফুল ফুটতো। কোন এক সন্ধ্যায় খেয়াল করলাম গাছটাতে আর একটা পাতাও নেই।
কেমন জানি ফাঁকা লাগছিল। পাতার বাঁশির সুরের মত সরু একটা সুর ভেসে আসছিল। বুঝলাম,নীপবৃক্ষটাকে পেছলে ফেলে,আকাশের চৌকাঠ পেরিয়ে কে যেন হারিয়ে গেলো। আমিও দিকভ্রান্ত হয়ে দিগন্তের কাছে এসে দাড়িয়ে রয়েছি। মাথার উপরে এক সিনথেটিক আকাশ, এই আকাশ থেকে আমার মুক্তি নেই।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি নীপবৃক্ষটা জেগে আছে। আমি নিঃশব্দে হেসে উঠি যাতে কেউ শুনতে না পায়।

একটা সময় ছিল মানুষের সংগ তখন অসহ্য লাগতো। নির্জন দুপুর গুলো কাটতো বিষন্ন বিকেলের অপেক্ষায়। তীব্র একটা যন্ত্রনা নিয়ে দেখতাম বেলা শেষের আলো। রাত্রিগুলো ঘিরে থাকতো নিঃসঙ্গতার শূন্য অনুভব। কিন্তু ইদানিং যেন কিছুতেই কিছু হয়না। অন্যের আবেগের তীব্রতা দেখে অনুভব করতে পারছি নিজের আবেগ শূন্যতাকে। নির্জনতা কিংবা জনতা, কিছুতেই যেন কিছু যায় আসে না। নিজেকে নিয়েও যেমন কিছু ভাবিনা, তেমনই দেশ,জাতি নিয়ে ভাববারও আগ্রহ হারিয়েছি। টেবিল ঘড়িটার ব্যাটারী নেই অনেকদিন হলো। সেল ফোনের ঘড়িটাও সেট করা নেই। হাতঘড়িরতো অভ্যাসই নেই। এখন এই মধ্যরাতে কয়টা বাজে দেখতে ইচ্ছে করলেও পাশের ঘরে যেতে হবে। এমন কেন হ্য়? যার ঘড়ি নেই তার কেন এতো সময় দেখতে ইচ্ছে করবে?

তবে মনে হচ্ছে,রাত অনেক হলো। কথায় আছে, ক্ষুধার্ত অন্যের খাওয়া দেখেও শান্তি পায়। বন্ধুদের সম্পর্কগুলোর খুঁনসুটি আর মান অভিমান গুলো দেখে আমারো খুব একটা খারাপ লাগে না। সেদিন কলাবাগান থেকে হেঁটে হেঁটে বাসায় আসছিলাম। সন্ধ্যার অন্ধকার তেমন গাঢ় নয়। এই অন্ধকারটায় যেন একটু আলো মিশে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে সেই অন্ধকারের আলোয় দেখছিলাম লেকের পাশে শত শত প্রেমিক প্রেমিকার অর্থহীন প্রেমালাপ আর একটু একটু করে একা হয়ে যাওয়া কিছু প্রবীন মানুষের আরো কিছুদিন বাঁচার চেষ্টা।

রাতের অন্ধকারটা অনেক বেশি জমাট। জোছনার রুপালি আলোও কিছু কিছু রাতের অন্ধকারকে মলিন করতে পারে না। এখন সেপ্টেম্বর মাস। তবুও গরম কম না। একটু একটু পর পর তৃষ্ণা পাচ্ছে। বেডের পাশেই ছোট্ট একটা ফ্রিজ। কিন্তু পানির বোতল একটাও নেই। বিদ্যুৎ গেছে প্রায় আধঘন্টা হল। তাই পুরোনো এসির ভোঁতা শব্দটাও নেই। অবশ্য গরমে সেদ্ধ হচ্ছি। ঠান্ডা পানির খালি বোতল গুলো ফ্যানের বাতাসে গড়িয়ে যাচ্ছে।

কেমন যেন একটা জমাট গাঢ় স্তব্ধতা নিয়ে দিন গুলো কেটে যাচ্ছে। একাকী সময় কাটাতে যাচ্ছি ব্যাস্ত শপিং মলে কিংবা ছবির প্রদর্শনীতে। নিঃসঙ্গ এই দিন গুলোতে নতুন মুখ গুলোকেই বড্ড আপন মনে হয়।

বহুদিন অরন্য,সমুদ্র কিংবা পাহাড় দেখা হয়নি। নিজেকে মাঝে মাঝে যন্ত্রের মত লাগে। বিজ্ঞানকল্পকাহিনীর হাইব্রিড মানুষগুলোর মতো হয়তো প্রতিটা মানুষেরই একটা যন্ত্র অংশ থাকে। বৃষ্টিতে ভিজে, রাতের জোছনা দেখেও তাই যন্ত্রটাকে বিকল করতে পারি না। পার্থিব সমস্যা গুলো বড় বেশি পীড়া দেয়।আচ্ছা, অপার্থিব কোন সমস্যা কি হয়? খুব সম্ভবত,মানুষ তার অপূর্নতাগুলো কে বড় করতে গিয়ে সেটাকে অপার্থিব বলে বিশেষায়িত করে।

এইতো বিদ্যুৎ এসে গেছে। এবার দেখি, একটু ঘুমানোর চেষ্টা করি। রাতের আকাশ কিছুটা ফিকে হতে শুরু করেছে।

(পুরোনো ডাইরির পাতা থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথার বুলেট ছুড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?

দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।

এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×