somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইকো থ্রিলার- মার্ডার- অ্যা ফেভারিট হবি

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-আম্মা, আমারে ছাইড়া দেন, আম্মা। আমি আর আপনার ধারে থাকুম না, আম্মা। আমারে আপনে মাইরেন না। পায়ে পড়ি আম্মা।
রহিমা বুয়া অঝোর ধারায় কাঁদছে আর রিমির সহানুভূতি অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রহিমা বুয়া যতোই চিৎকার চেঁচামিচি করুক না কেন, রিমি কিন্তু একেবারে নির্বিকার। মনের আনন্দে কাঁচের জানালার অন্যপাশে বসে বসে চুল আঁচরাচ্ছে আর বুয়ার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
একটু পরেই এগারোটা বাজবে। তখনই ঘটনা শুরু হবে। ছাদের পানির ট্যাংকি খুলে দিয়ে আসবে সে। পাইপ বেয়ে বেয়ে রাহিমা বুয়াকে আটকে রাখা ঘরে সে ঘরে পানি ঢুকতে থাকবে। পুরো রুমটা এমন বিশেষ ভাবে তৈরী যে পানি চুঁইয়ে বের হয়ে যাবার কোন উপায় নেই। রহিমা বুয়া কতোক্ষণ পানির সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারে দেখা যাক। রিমির ধারণা বুয়া ১৫ মিনিটের বেশি টিকতে পারবে না। সবচে বেশি সময় টিকেছিল সবুজ ভাইয়া। ঘড়ি দেখে কাঁটায় কাঁটায় ১ ঘন্টা। পুরো ঘরটা পানিতে ভরতে সময় লেগেছিল ৫০ মিনিট। তারপর আরো ১০ মিনিট সময় সবুজ ভাইয়া টিকে ছিল। নিয়মিত জিম করাতেই বোধহয় এতোটা সময় টিতে থাকতে পেরেছিলেন সবুজ ভাইয়া। পানি ভরতে শুরু হলেই সবার মনে প্যানিক শুরু হয়ে যায়। হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করে মানুষ। মূলত সবাই কিন্তু পানি নয়, প্যানিক থেকেই মারা যায়। যখন ওরা বুঝতে পারে এখান থেকে বেরুবার আর কোন উপায় নেই, তখন ভয়টাই কাজ করে বেশি।
-আম্মা আম্মাগো, পায়ে পড়ি আম্মা, ছাইড়া দেন আমারে।
কথাবার্তা চালানোর জন্য কাঁচের জানালায় ছোট্ট একটা ফাঁকা জায়গা রেখেছে রিমি। পানির উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে এটা বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে বন্দীর সাথে কথাবার্তা বলে শুরুটা ক্লাসিক্যাল করে তোলা যায়।
-না, বুয়া। কেঁদে কোন লাভ নাই। তোমাকে ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এই রুমে যাকে একবার বন্দী করি আমি, মৃত্যুতেই তার মুক্তি।
-আমারে মাইরা আপনের লাভ কী, আম্মা। আমারে মাইরা লাভ কী আপনের?
রিমি দেখেছে ভয় ঢুকলেই মানুষ একই কথা দুইবার করে বলা শুরু করে।
-সেটা তুমি বুঝবে না, বুয়া। আদার ব্যাপারি জাহাজের খবর নিয়ে কী করবে?
-জানি আম্মা, তবু বলেন আমারে। আমি শুনুম। আমারে আপনি মারবেন ক্যা?
-কেন মারবো? সত্যিই শুনতে চাও?
-হ।
-তাহলে শুনো। আমার বাবা আমার মাকে এভাবেই মেরেছিলেন। আমি তখন খুব ছোট। আমাদের এ বাড়িটা তখন নতুন। এ রুমটা বাবা খুব পরিকল্পনা করে বানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল মাকে মেরে ফেলা। কাক পক্ষী কেউ জানবে না, অথচ একটা মানুষকে যন্ত্রণা দিতে দিতে মেরে ফেলা যাবে কতোটা নিশ্চিন্তে! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি সেটা দেখে ফেলি। বাবা সবার থেকে কাজটা গোপন করতে পারলেও আমার থেকে পারে নি।
-কেন আপনের বাবা এ কাজ করসিল?
-জানি না।
-তেনিও তো শুনসি মারা গেলেন কয়েক বছর পরেই।
-হ্যা। আমিই তাকে মেরেছিলাম। ঠিক যেভাবে তিনি আমার মাকে মেরেছিলেন ঠিক সেভাবে। আর কি জান বুয়া, বাঘ যখন একবার মানুষের মাংস খায়, তখন সে এর প্রেমে পড়ে যায়। একবার যখন কেউ খুন করে তখন খুন করার মজা পেয়ে বসে তাকে। তাই স্রেফ মজার জন্যই আমি তোমাকে খুন করব। সবাইকে খুন করি আমি। তুমি যখন ঘুমে থাকো, তখনই আমি তাদের খুন করি। তুমি টেরই পাও না। ওহহো! এগারোটা বেজে গেল বলে! দাড়াও, আমি পানিটা ছেড়ে দিয়ে আসি।
-না আম্মা, না!!!
রিমি বুয়ার ডাক না শুনেই দৌড়ে সিড়ি ভেঙে উঠা শুরু করল। আর তখনই ঘটল ঘটনাটা। একটা মাকড়সা ছাদ থেকে ঝুলে পড়ল রিমির ঠিক চোখের সামনে। বুয়ার মতোই তীব্র চিৎকার বের হয়ে এল রিমির মুখ থেকে-
-বুয়াআআ..., মাকড়সা!
রিমি দৌড়ে চলে এল তার নিজের রুমে ঠিক আগের জায়গায়। বুয়া রিমির মাকড়সা ভীতির কথা জানে দীর্ঘদিন থেকে। সে গ্লাসের সেই ছিদ্রটির পাশে দৌড়ে চলে এল।
-দরজা খুইলা দেন, আম্মা। মাকড়সাটারে আমি দেখতাসি। বললাম তো, আমারে ছাড়া এই বাড়িতে আপনি একা একা থাকবেন ক্যামনে। তাড়াতাড়ি দরজা খুলেন।
আশু মুক্তির চিন্তায় বুয়ার চোখ তখন চকচক করতে থাকে।
-দরজা খুলবো? ওকে। প্লিজ বুয়া, মাকড়সাটা মেরে ফেলো কিন্তু। কী বিশাল আর বিশ্রি ওটা!
-হ আম্মা, দরজাটা খুলে দেন।
রিমি দরজাটা খুলে দিল। বুয়া ধীর পায়ে বের হয়ে এল। তারপর হঠাৎ করে কিছু বুঝে উঠার আগেই সজোরে ধাক্কা দিয়ে রিমিকে ফেলে দিল বিশেষ সেই রুমটির ভেতর। মুহুর্তের মধ্যে ক্ষিপ্র গতিতে দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিল সে।
রিমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। তার বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট করতে হচ্ছে।
-বুয়া, তুমি এটা কী করছো?
-একটু আগে আপনি যা করসিলেন আম্মা।
-আমি বুঝতে পারছি না, তুমি কী করতে চাও?
-আমি অখন ছাদে গিয়া পানির কলটা ছাইড়া দিয়া আসুম, আম্মা। তারপর বইয়া বইয়া দেখুম আপনার মরনের দৃশ্য।
-তুমি কেন এ কাজ করবা, বুয়া? আমি তো মজা পেতাম বলে করতাম।
-আমিও মজা পামু, আম্মা। আপনি যেদিন সবুজ ভাইরে মারছিলেন, সেদিন আমিও আপনার পেছন খাড়াইয়া খাড়াইয়া দেখছি, আম্মা। আপনের মতো আমিও মানুষের মরনের দৃশ্য দেখতে মজা পাই। নইলে কবেই আপনারে ছাইড়া পালাইতাম আমি। যাই আম্মা। কলটা ছাইড়া দিয়া আহি।
রিমি ফ্যাল ফ্যাল করে বুয়ার যাওয়ার দৃশ্য দেখতে লাগল। সে জানে এখন হাজারো অনুরোধ করে কোন লাভ হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×