somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন নাস্তিক মামা এবং এক রুপবতী বালিকার গল্প (১ম ও ২য় পর্ব একত্রে)

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্ব:
=====
জনৈক জ্ঞানী নাস্তিক মামা একদা ভ্রমন করিবার জন্য বিমানে উঠিলেন। তিনি লক্ষ করিয়া দেখিতে পাইলেন তাঁহার পাশের সিটে বসিয়া এক রুপবতী বালিকা মনোযোগ দিয়া বই পড়িতেছে। নাস্তিক মামা যার পর নাই আনন্দিত হইলেন। এই বালিকার সহিত গল্প করিয়া ভ্রমনের সময়টুকু কতটা আনন্দদায়ক হইবে তাহা ভাবিয়া তিনি পুলকিত হইলেন।

নাস্তিক মামা গলা খাকরি দিয়া বালিকাটিকে বলিলেন, "তুমি কি আকাশ ভ্রমনের সময়টুকু গল্প করিয়া কাটাইতে চাও? ইহাতে সময় দ্রুত কাটিয়া যাইবে।"

বালিকা সন্দেহের চোখে তাকাইয়া উত্তর দিল, "আপনি কি বিষয়ে গল্প করিতে চান?"

নাস্তিক মামা একটু ভড়কাইয়া গিয়া বলিলেন, " না মানে , ...... এ্য্য....এইধর........ এ্য্য.......সৃষ্টিকর্তা বলিয়া কাহারো অস্তিত্ব নাই, বেহেশত নাই, দোজখ নাই ....... মৃত্যুর পরে কোন জীবন নাই -- এইসব বিষয়ে আরকি।" (কথাটি বলিয়া নাস্তিক মামা কাষ্ঠ হাঁসি হাসিলেন)

বালিকা বলিল, "ওকে ঠিক আছে, আপনার গল্পের বিষয়বস্তু খুবই ইন্টারেস্টিং, কিন্তু তার আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।"

"কি প্রশ্ন?", নাস্তিক মামা সাগ্রহে জানিতে চাহিলেন।

"ছাগল, গরু এবং ঘোড়া - এরা সবাই ঘাস খায় কিন্তু ছাগলের হাগু ছোট ছোট গুটি টাইপ, গরুর হাগু একথাল কাদার মত আবার ঘোড়ার হাগু বেশ শক্ত এবং লম্বাটে সাইজের, একই খাবার খাওয়ার পরেও এদের হাগুর ধরন আলাদা কেন? এই বিষয়ে আপনার কি ধারনা?"

নাস্তিক মামা বালিকার বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন শুনিয়া বেশ খানিকটা সারপ্রাইজড হইয়া উত্তর করিলেন,"....হুম.. আমার এই বিষয়ে কোন ধারনা নাই"

বালিকা বলিল, "এই সাধারন জিনিসটা না জানার পরও আপনি কি সত্যি সত্যি নিজেকে 'সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বিষয়ক আলোচনার জন্য' যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করেন?"

(ইহা বলিয়া বালিকা পুনরায় বই পড়িতে আরম্ভ করিল)



২য় পর্ব:
=====

রুপবতী বালিকার নিকট হাতে নাতে ধরা খাওয়ার পরে নাস্তিক মামার আকাশ ভ্রমনের আনন্দ মাটি হইয়া গেল। ট্রানজিট এয়ারপোর্টে তিনি তাহার বন্ধু *বিবর্তনবাদী* মামার নিকট মেইল করিয়া হাগুর ধরন আলাদা হইবার কারন জানিতে চাহিলেন।

*বিবর্তনবাদী* মামা অনেক চিন্তা ভাবনা করিয়া উত্তর দিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

নাস্তিক মামা ভাবিলেন এইবার বালিকাকে দেখিয়া লইতে হইবে। তিনি এয়ারপোর্টের ওয়েটিং লাউন্জে বালিকাকে খুঁজিয়া বাহির করিলেন, অতঃপর বালিকার নিকটে গিয়া উচ্চ্স্বরে বলিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

ওয়েটিং লাউন্জের যাত্রিরা বিরক্ত হইয়া নাস্তিক মামার দিকে তাকাইল, কিন্তু বালিকা নাস্তিক মামার কথা শুনিতে পাইল না।

ইহাতে নাস্তিক মামা পুনরায় উচ্চ্স্বরে বলিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

আসলে বালিকার কানে ইয়ারফোন লাগানো ছিল, ফলে নাস্তিক মামার এই কথাটাও বালিকা শুনিতে পাইল না।

নাস্তিক মামা, অস্থির এবং অধৈর্য হইয়া উচ্চস্বরে ক্রমাগত বলিতে লাগিলেন:

"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ.........

নাস্তিক মামা আর বলিতে পারিলেন না, একজন বৃদ্ধা মহিলা ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিয়া আসিয়া ঠাশ করিয়া মামার গালে চড় লাগাইয়া দিলেন এবং আর একবার চেচামেচি করিলে থাপড়াইয়া নাস্তিক মামার পাতলা হাগু ছুটাইয়া দিবেন বলিয়া হুমকি দিলেন।

বৃদ্ধা মহিলার চড়ের আওয়াজে বালিকার চৈতন্য হইল। পাশের একজনকে প্রশ্ন করিয়া সে ঘটনাটি জানিয়া লইল। অতঃপর নাস্তিক মামার দিকে তাকাইয়া বলিল, "একজন বৃদ্ধা মহিলার চড় খেয়েই যদি আপনার শক্ত হাগু পাতলা হয়ে যায়, তাইলে হাগুর ধরন পাল্টানোর জন্য আবার বিবর্তনের দরকার কি?"
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্নীতির মাফিয়া চক্র পিঁপড়ার কলোনির মতো কাজ করে

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭

বাংলাদেশের দুর্নীতির মাফিয়া চক্র ঠিক পিঁপড়ার কলোনির মতো কাজ করে। জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু মানুষ ভাবছিলো এটা উইপোকার কলোনী। তারা ভাবছিলো রাজা শেষ তো তার কালো খেলাও শেষ।



উইপোকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ টা হোন্ডা ১০ টা গুন্ডা ইলেকশন ঠান্ডা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৯

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সত্যিকারের ইলেকশন হতে চলেছে। আপনারা সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যান; যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন যিনি সৎ ও যোগ্য তাকেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯



গতকাল রাত ১২ টায় খুব মেজাজ খারাপ হয়েছে।
বাসায় এসে বসেছি মাত্র। আর গলির ভিতর ঢুকেছে মিছিল। ধানের শীষের মিছিল। রাত ১২ টায় কেন মিছিল করতে হবে? ফাজলামোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×