
Bombay blood type যেটা পৃথিবীর প্রতি ১০ লাখ লোকের মধ্যে মাত্র ৪ জনের মাঝে আছে, সেটা ভারতের বোম্বেতে প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একজনের আছে। ডেইলি স্টার জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মুহাম্মদ কামরুজ্জামান যার রক্তের গ্রুপ হচ্ছে বোম্বে টাইপ, দূর্ঘটনায় পড়াতে উনার সার্জারীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয় কিন্তু বাংলাদেশের কোন ব্লাড ব্যাংকে এই গ্রুপের রক্ত নাই...অনেক ব্যাংক এই রকমের রক্ত যে আছে তা ও জানেন না (অন্যান্য দেশেও নাই বলে প্রতীয়মান)। বোম্বে থেকে চার জনের (Swapna Sawant, Krishnanand Kori, Mehul Bhelekar and Pravin Shinde) ডোনেট করা রক্ত ভারতীয় সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে আনা হয় কামরুজ্জামানের জন্য।
Bombay blood saves BanglaDeshi
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, বোম্বে টাইপ সবাইকে ব্লাড ডোনেট করতে পারে, তাদের gene যেটা H নামক ক্যামিক্যাল তৈরী করে, সেটা মিউটেশনের ফলে কাজ করে না। তার কোন H ক্যামিক্যাল থাকে না। আর অন্যান্য ব্লাড গ্রুপে H ক্যামিক্যাল থাকে, আর এই H ক্যামিক্যাল এর সাথে অন্য gene (ABO) এর কার্য দ্বারা একটা সুগার যুক্ত হয় H chemical এর সাথে।
A গ্রুপ যুক্ত করে এক রকমের সুগার (H এবং A সুগার কে বলা হয় A এন্টিজেন) , B গ্রুপ যুক্ত করে অন্য রকমের সুগার (H এবং B সুগার কে বলা হয় B এন্টিজেন)। A গ্রুপ আবার B গ্রুপ কে প্রতিরোধ করতে এন্টি B প্রোটিন বানায় যেটা B এন্টিজেন এর সাথে ক্রিয়া করে রক্তকে ধ্বংস করে থাকে আর তাই A গ্রুপ B থেকে রক্ত নিতে পারে না সেই ভাবে B গ্রুপ ও A গ্রুপ থেকে রক্ত নিতে পারে না। O গ্রুপে শুধু H ক্যামিক্যাল থাকে কোন সুগার এড করা হয় না ( তার আবার ABO gene কাজ করে না) । সুতারাং কোন এন্টিজেন ও তৈরী হয় না। তাই A, B, and O group এর সবাই O থেকে রক্ত নিতে পারে (কারন সবার মাঝেই H ক্যামিক্যাল আছে সুতারাং foreign chemical মনে করে শরীরের immune সিস্টেম তাকে ধ্বংস করে না)। কিন্তু বোম্বে টাইপের মধ্যে H ক্যামিক্যাল না থাকাতে, A অথবা B অথবা O থেকে রক্ত নিলে, তাদের মধ্যে থাকা H ক্যামিক্যাল কে তখন foreign chemical হিসাবে গন্য করে ধ্বংস করার জন্য Immune সিস্টেম কাজ করে এবং সব রক্ত ই ধ্বংস হয়।
যাদের এই গ্রুপ আছে, তাদের দরকার প্রতি ৬ মাসে একবার নিজের ব্লাড ডোনেট করা ইমার্জেনসীর জন্য। যদি ও ব্লাড ব্যাংক এই বোম্বে টাইপকে সংকটের সময় অন্যকে দান করে দিতে পারেন কিন্তু সচেনতা বাড়ালে, কিছু বোম্বে টাইপ রক্ত সব সময় স্টকে রাখার ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
আমি সচেতন ভাবেই রক্ত দাতা আর রক্ত গ্রহন করা মানুষদের নাম উল্লেখ করলাম...কেন করলাম তা সচেতন ব্লগার রা বুঝতেই পারছেন। মানবতার জয় হোক...মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দুর হোক

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৯:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




