একটি শীতরাতের উষ্ণ গায়ের ঘামে, পৃথিবীর সকল মৃত রাস্তা আছে থেমে, সমস্ত জীবন্ত বৃক্ষ জ্বালানী হবার আশায়, হাবুডুবু জল খাচ্ছে সূর্যের ভালোবাসায়। তালকানা অন্ধকারের ঘুমন্ত অজ্ঞতা, বিজ্ঞজনের কানের কাছে বারবার বলে,মূলত মানুষ ঘন আঁধার ভালোবাসে, স্বচ্ছ-তরল-নির্মল আলো পাবার ছলে।
ধীরে ধীরে ঋতু পরিক্রমা পাল্টে গেছে, অসময়ে কোকিলের ডাক বলে গেলো কথা, দেখি ফুলেরা মগ্ন নিজের সৌন্দর্যে, অতিথি পাখিদের বুকে জমাট হাওয়ার ব্যাথা। উত্তরের হাওয়া দক্ষিণে ধাবমান ক্রমশ, ভুল সময়ের উলের মাফলার গলায় জড়িয়ে ঘুরছে পরিপাটি গৃহস্থ কৃষক, মাঠে নেই সাদা পায়ে একা বক, দূর গাঁয়ের আকাশে আগুনের মতোন ফাগুনের বিলাসী মেঘ জ্বলছে মাঝ দুপুরের রৌদ্রালোকে, ইদানীং রোদ আর বৃষ্টি ছাড়া অন্য কোন সৃষ্টি নেই, মরা মানুষ কাঁদছে মরার শোকে।
জানি দিনরাতের আবর্তন সন্ধি স্থাপনে ব্যস্ত খুব, মানুষ অলীক ধাঁধাঁয় মগ্ন হয়ে, মরে বাঁচার ছলে দিয়েছে নিজেতে ডুব। এ শুধুই সময় পরিক্রমা, নেই দাড়ি কমা, সময়ের ক্ষমায় গাঁথা হচ্ছে কালের রোজনামচা। পদ্মের লোভে জলে উঠলো অসময়ের কম্পন, হাত পড়েছে অশুভ আততায়ীর। মানুষ কোথায়? চারপাশে জনতার ভিড়। খণ্ড খণ্ড মনোগত প্রলয়, জুড়ে আছে পৃথিবীর আদিমতম লয়, মানুষ ছাড়া সত্য কিছু নয়, এর কিছুটাও যদি করতো ধারণ একখানি হৃদয়। থেমে যেতো জ্বরা খরা, পুড়ে মরা, স্থিত হতো মানবতার ক্ষয়।
গাছে গাছে উৎপাদন হতো জ্বালানীর বদলে সুষম শস্য, সমস্ত হিস্র শ্বাপদ হতো মানুষের পোষ্য। ষড়ঋতু হতো স্থিতু, জলবায়ু বলতো মানুষের কথা, পাখিরা গাইতো মানুষের গান, জীবনের মহানুভবতা। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতো সময়ের ফিতা, সহবস্থানে থাকতো কবর আর চিতা। অনেকটা পথ হেঁটে, সভ্যতার অস্থির ফোটনোটে, ফুরিয়ে যাওয়া পথের কিনারে পড়ে থাকতো না, ছোট শিশুর মায়ের বড় জুতো পায়ে ঘুরে বেড়াবার হাস্যকর পরিহাস। মূর্তমান হতো যদি প্রাত্যহিক জীবনের ইতিহাস, দীর্ঘস্থায়ী হতো না তবে মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
@ কালের লিখন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



