আমাদের সময়গুলো আবাদি নয়, উর্বর মাটি প্রস্তুত অথচ চাষাবাদ খাঁটি নয় কিছুতেই, বিষক্রিয়ায় থমকে আছে আসলের স্বাদ। মানুষের চোখে মুখে নানাবিধ অপবাদ। পশুর উন্মক্ততায় মেতেছে সীমানা লোভী মানুষের দল, দখলের পাঁয়তারা অন্ধ চেতনায়। দূরে একটি রুয়াউঠা নেড়ি কুকুর হাপাচ্ছে কালের ভোগ হয়ে। মরা কিছু ছাই সম্বল।
ছেঁড়া কিছু অলিখিত পৃষ্ঠা, ঝরা পাতার মতো গড়াচ্ছে সভ্যতার অসভ্য জমিন জুড়ে। মানবিক বোধ কেবলই চৈতন্যের শোধ দিয়ে যাচ্ছে জাগরণের ইতিহাস লিখবে বলে। অথচ ঘুমিয়ে আছে তালপাখা, দুধমাখা ভাত নেই মায়ের হাতে, রক্ত জলের দামে বিকোচ্ছে ঘাতহীন গাঢ় সংঘাতে। ঘুম নেই শিশুর চোখে, রাতভর শব্দতরঙ্গে নিদ্রা যায় রাতজাগা পেঁচা। কিছু পৃষ্ঠা শেষ অবধি অলিখিত, মানুষ বানিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত যূথবদ্ধ খাঁচা।
ষোড়শীর বুকের মতো মাথা উঁচু করে আছে অস্থায়ী সুরম্য অট্টালিকা, দেয়ালে দেয়ালে বর্ণহীন খেয়ালে নীতি কথা ঝুলছে চিকা হয়ে। ঢেউ খেলা বাতাসে ধানের শীষের বদলে আমরা দেখেছি নীল চাষ, আমাদের আছে অজস্র শাসন ও শোষণের বিষাক্ত ইতিহাস। অসংখ্য নাগরের হাত ধরে নেচেছে আমার বঙ্গজননী, চলমান জনপদ, দেখেছে হায়েনা শ্বাপদ, নয় মাসের অন্তঃসত্তা জননী পার হয়ে এসেছে জন্মকালীন আপদ, পাড়ি দিয়েছে বিজয়ের তৃষা লয়ে ঝঞ্ঝা আর বিপদ।
কি জঘন্য পরিহাস, দেখি আজও ক্ষমতার আড়ালে বিস্তর কথা চলে বেফাঁস, শুধু বোধের জমিনে চাষ হয়না সময়ের আবাদ। পুড়ছি অলীক দহনে, ধাবমান সরীসৃপ যেন এক আগলা বিবাদ। সুসময়ের কণ্ঠ চেপে ধরেছে জ্বালাময়ী দুরন্ত বিষাদ।
“তবুও তো পেঁচা জাগে, গলিত স্থবির ব্যাঙ আরও দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে।” মাতাজি কুসুমকুমারীর আদর্শ ছেলে জীবনানন্দ ধান খেতের আল ধরে হাঁটতে হাঁটতে আশাবাদী করে যায়, নৈরাশ্য মাখা জীবন্ত শব্দমালায় শুনি বাংলার নৈসর্গিক ধারাপাত।
অনাবাদী দুঃসময় পার করে এসো সময়ের চাষাবাদ হোক, সুমিষ্ট ফল থেকে হোক পরিপক্ক বীজের যোগান, আর একবার নব অঙ্কুরিত শস্যে ভরে যাক সমতল স্বপ্নের বাগান। দুঃস্বপ্নের ভ্রান্তি আর ক্রান্তিকাল পেরিয়ে চলো ভেসে উঠি, ডুব দিয়ে আর কতদিন জীবন্ত থাকা, শক্ত হোক হাতের মুঠি। লাঙলের ফলায় আসুক আশাবাদী ফসলের গান, নিম্নগামী স্বপ্নের চোরাস্রোত বয়ে যাক সভ্যতার বিষাক্ত বাতাসে একাকী উজান।
@ কালের লিখন
ফেব্রুয়ারি-০৭,২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



