
আটপৌর কেরানীর আকাশে কোন সূর্য থাকেনা।মিমু তুমি
চলে না গেলে আমি বুঝতেই পারতাম না।আমি ভুলে গেছি কবে
কোন কালে নিপ্পন নাকি কোন দেশে সূর্য উঠেছিল।ইদানীং শুনি সেটা জাপান
নয় ফিজি।
নক্ষত্রের কিছু ঝলকানিকে আলো ভেবে অফিস ছুটির পর সবার
শেষে বাসে বাডুর ঝোলা হয়ে ঘরে ফেরে বাজারের ব্যাগ নিয়ে দে ছুট।সস্তা আলু পটল ডিম
পামওয়েলে ভর্তি ব্যাগে ক্লান্ত শরীর।দোকানী করুনার চোখে দেখে
অধম বেচারা!
ভিখারির থালা হতে ফিরে আসে আধুলি,ঘরে এসে টিভির রিমোট
খোঁজে জীবন মানে জী বাংলা। বউ ঝামটা মারে ছেলে ট্যা ট্যা করে,বাবা খুক খুক
কেঁশে বলে খোকা ইনহোলার শেষ।ব্যাস্ততা শেষে নগ্ন রাতে নামে বীভৎস কাম
অনাদি ব্যাৎসায়ন কোকশাস্ত্র।
তেলপিয়া মাছের মুখে আসে আগামীর ডিম শিশু।পঁচা প্রণয়ের দূঃগর্ন্ধ ছোটে,প্যাক কাদায়
কেঁকিয়ে চলে জীবনের চোরাস্রোত।গেটের মুখে পড়ে থাকে রাজা কনডমের প্যাকেট।কিশোরীর মুখে ফুটে স্বলজ হাসি।
গলির মুখে ঝংকার তুলে মমতাজের গান
পানের পিকে ঠোট লাল করে সস্তা ফেসপাউডার মাখা যুবতী। ভাদ্রের ভ্যাপসায় জয় গোস্বামীর কবিতা
ট্রামের চাকায় পিষ্ট।ডাস্টবিন হতে উঠে আসা কমরেডের লাল লিফলেট,পাতি গুন্ডার
খিস্তি ছোটে। ইস্ট ইনডিয়া কোম্পানীর ইতিহাসসের পাতায় মোড়ানো চানাচুরের ঝাঁলে
কিশোরীর ঠোট বাঁকানো ফেসবুকে সেলফি,লাইক কমেন্ট ঝড় উঠে। সিনেমার পোস্টারে অর্ধনগ্ন বুকে খোঁজে
ঝুলে পড়া স্ত্রীর বুক।বেঙ্গল গ্যালারী বেইলী রোড ছেড়ে চলে বোট্যানিকাল গার্ডের চিপাায়।
ককুরের মুখের খাবার কেড়ে নেয় পোলিও শিশু,বস্তা বন্দী নাগরিকের লাশ পড়ে থাকে ফুটপাথে।ওহঃ মিমু তুমি জানো না
ঢাকাই ছবির সংলাপ মুখে লিপিস্টিক ঠোট "জীবন মানে শাবানার সংসার"
রেল ক্রসিংএ ট্রাফিক জ্যাম বাইপাসে চলে জীবনের স্পন্দন।হট পটে উল্টো যায় পাঙ্গাশ
মাছের ঝোল ।
যদি নামে বৃষ্টি হাটু জলে কাদা থাকে,ঘূর্নি বায়ুতে মেঘ ডেকে যায়
নিকষ কালো অন্ধকার কোথায় থাকে সূর্য? তবু সকাল আসে,পাঁক খেয়ে এগিয়ে
চলে জীবনের চোরাস্রোত। সিনেমা হল মুক্তি পায় নতুন চলচিত্র। বার বছরে কিশোর উদাস কন্ঠে
গেয়ে উঠে "জীবন মানে যন্ত্রনা"।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



