somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক আমি
আমি এখনও পড়াশুনা করছি। তার সাথে বেশ কিছু দিন ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছি। বাবা মায়ের ছোট ছেলে। ঘোরাঘুরি এবং খাওয়া দাওয়া করতে বেশ পছন্দ করি।

র‍্যাগিং

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, অথচ র‍্যাগিং এর নাম শুনে নাই, এরকম কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু, আসলে র‍্যাগিং কী? র‍্যাগিং এর নামে কী হয়?

একজন শিক্ষার্থী যখন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আসে, তখন চারপাশের সবকিছুই তাঁর কাছে অপরিচিত লাগে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে এসে পরিবার ছেড়ে বাইরে পড়তে আসে। পরিবার এবং পরিচিত পরিবেশ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী অনেক অসহায়, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে র‍্যাগিং নামক অত্যন্ত বাজে জিনিস একজন শিক্ষার্থীর মনে কীরকম বাজে প্রভাব ফেলে, এটা ভুক্তভুগী ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না।

সিনিয়র যারা, তাঁরা মনে করে এটা স্রেফ ফান। কিন্তু একটা জুনিয়রের কাছে এটা মোটেও ফান না। সিনিয়ররা বলে, জুনিয়রদের সাথে ফ্রী আর আন্তরিক হওয়ার জন্য র‍্যাগিং আবশ্যক। আসলেই কি তাই? আমার তো মনে হয় এতে সিনিয়রদের প্রতি আরও বিরুপ মনোভব জন্মে থাকে জুনিয়রদের।

জুনিয়ররা নতুন, ওরা কোনো নিয়মকানুন জানে না কীভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাফেরা করতে হয়। আর এই নিয়মকানুন শেখানোর জন্য সিনিয়ররা জুনিয়রদের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। সিনিওররা বলে, ওরা নাকি জুনিয়রদের বড় ভাই বোন।

আচ্ছা, যখন একজন মানুষ পরিবারে বড় হয়, তখন আচার ব্যবহার, ভদ্রতা, চালচলন সবকিছু পরিবার থেকেই শেখে। তো, বাংলাদেশে এমন কোন পরিবার আছে, যে পরিবারে এইসব নিয়মকানুন শেখানো হয় মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের মাধ্যমে?

আমি মনে করি, একজন জুনিয়রকে যদি ভয় না দেখিয়ে তাঁদের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলা যায়, এতেই সম্পর্ক ভালো হবে। যারা র‍্যাগিং করে, এদের জুনিয়ররা সামনে ভয়ে সম্মান করে, কিন্তু আড়ালে ঠিকই গালি দেয়।

র‍্যাগিং কখনোই কোনো কিছুর সমাধান হতে পারে না। এটা একপ্রকার মানসিক টর্চার। মানসিক টর্চার অনেকেই সহ্য করতে পারে না। যার ফলে আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর উদাহারণের কথাও শোনা যায়। কয়েকজনের শুধু মনের আনন্দ প্রাপ্তির জন্য একটা জীবন শেষ হয়ে যায়। সিনিয়র যারা, তাঁরা জুনিয়রকে কখনোই নিজেদের ভাই বা বোন মনে করে না। কারণ, নিজের ভাই বা বোনের প্রতি কেউই এরকম টর্চার করতে পারে না।

তবে দুই একজন শিক্ষার্থী আছে, যারা অত্যন্ত বেয়াদব। আমার মতে, ওদেরকে প্রথমে বোঝানো উচিত ভদ্রভাবে। এতেও কিছু না হলে তাঁকে ইগনোর করা উচিত সবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, সিনিয়র আর সহপাঠীদের সাহায্য ছাড়া কেউ চলতে পারে, এরকম খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। আবার, নিজের এলাকায় সবাই মাস্তান, কিন্তু অপরিচিত জায়গায় সবাই বিড়াল। সুতরাং, আশেপাশের পরিবেশ দেখে, আর নিজের ভালোর জন্য বেয়াদব এমনিই টনটনা হয়ে যাবে। এর জন্য র‍্যাগিং এর কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না।

অনেকেই র‍্যাগিং এর বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছে। তবুও, র‍্যাগিং কেন কমছে না? “আমি র‍্যাগ খেয়েছি, তাই র‍্যাগ দিবো। “ এই নীতি থাকলে র‍্যাগিং কোনোদিনই কমবে না। তবে, হ্যাঁ, বড়ভাই বড়আপু হিসেবে শাসন করার অধিকার আছে সিনিয়রদের। কিন্তু, শাসন আর র‍্যাগিং এর পার্থক্যটা আগে বুঝতে হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে র‍্যাগ খেয়েছি একবার মাত্র। কিন্তু, আমি একবার কিছু বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে একবার একজনকে র‍্যাগ দেই । তবে এখন আমি র‍্যাগিং সমর্থন করি না। র‍্যাগিং এর ফলে সম্পর্ক বাড়ে না, অবশ্যই নীতিগতভাবে কমে। র‍্যাগিং এর, মানসিক টর্চার আর শারীরিক বর্ণনা নাই বা লিখি। শুধু বলবো, এগুল বর্বরতা, নির্যাতন আর মানসিক অত্যাচার।

দেশের প্রায় প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়েই র‍্যাগিং প্রচলিত আছে। তবে, র‍্যাগিং এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বিখ্যাত। কিছুদিন পর আবার হয়তো নতুন ব্যাচদের ক্লাস শুরু হবে। আমি মনে প্রাণে চাই, অন্তত ওরা র‍্যাগিং মুক্ত থাকুক। এতে করে হয়তো র‍্যাগিং অনেকটাই কমে যাবে পরবর্তীতে। তবে, আমি একা কিছুই করতে পারবো না। একা কেউ কিছু করতে পারে না।

তবে, আমি স্বপ্ন দেখি, দেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় হবে র‍্যাগিংমুক্ত, আন্তরিক, ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×