৯০ দশকের বাংলা নব বর্ষ বেশ ঘটা করে পালন হত । শহরে এই দিনটি পালনের সাথে আনন্দ উদযাপন, গান , পথ নাটক, বাংলা ব্যান্ডের বিশাল আয়োজন , পান্তা ইলিশ - এগুলোর ভেতর সীমিত ছিল। গ্রামে হাল খাতা হোত, গ্রামের উদযাপনের একটি মুল আকর্ষণ ছিল বৈশাখী মেলা। মেলা ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলত। শহরের তরুণ তরুণীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন । ওই সময়টা ফিডব্যাকের একটা গান "মেলায় যাইরে " এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে , এটিই বৈশাখের প্রধান গানে পরিণত হয়েছিল .
সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয়েছে। হাল খাতা এখন আর তেমন জনপ্রিয় না। বৈশাখী মেলা এখনো জনপ্রিয়। রমনা বটমূলে আগের মত এখনো বৈশাখের প্রথম গান "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো ..." বেজে উঠে। বাসন্তী রঙের সাড়ি পরে কাতারে কাতারে নারীরা বের হন প্রভাত ফেরীতে।
বিদেশে, প্রবাসী মানুষেরা বাস্ততার মাঝেও বাংলাদেশি , বাঙ্গালি পরিচয়টা বজায় রেখে বাংলা নববর্ষ পালন করেন । সোশাল মিডিয়াতে ঘবরাখবর পাওয়া যায় ।
অদ্ভুদ ব্যাপার হল বৈশাখের প্রথম দিনে নিচের গানটাই মাথায় ঘুরতে থাকে ।
---------------------------------
তোমার বাড়ির রঙ্গের মেলায়
দেখেছিলাম বায়স্কোপ,
বায়স্কোপের নেশায় আমায় ছাড়েনা ।।
ডাইনে তোমার চাচার বাড়ী
বায়ের দিকে পুকুরঘাট,
সেই ভাবনায় বয়স আমার বাড়েনা ।।
অন্তরে থাক পদ্ম-গোলাপ
গদ্যে-পদ্যে আঁকছি মুখ
ঘুরতে ছিলাম রঙ্গের মেলায়
অপূর্ব সে তোমার চোখ,
অমন পলক ফেলতে তো কেউ পারেনা।।
তোমার বাড়ির রঙ্গের মেলায়
দেখেছিলাম বায়স্কোপ,
বায়স্কোপের নেশায় আমায় ছাড়েনা ।।
হঠাৎ তোমায় মন দিয়েছি
ফেরৎ চাইনি কোন দিন
মন কি তোমার হাতের নাটাই
তোমার কাছে আমার ঋণ,
মন হারালেও মনের মানুষ হারে না।।
তোমার বাড়ির রঙ্গের মেলায়
দেখেছিলাম বায়স্কোপ
বায়স্কোপের নেশায় আমায় ছাড়েনা।।
ডাইনে তোমার চাচার বাড়ি
বায়ের দিকে পুকুরঘাট
সেই ভাবনায় বয়স আমার বাড়েনা ।।
গানটির লিঙ্ক
শিল্পীঃ বাপ্পা মজুমদার, সঞ্জীব চৌধুরী
অ্যালবামঃ আকাশচুরি
সুরকারঃ বাপ্পা মজুমদার/ সঞ্জীব চৌধুরী
গীতিকারঃ কামরুজ্জামান কামু
বছরঃ ২০০২
ব্যান্ডঃ দলছুট
--------
এখন আর সময় করে নতুন বছরটি আমান্ত্রন জানাতে পারি না । তবু সবই মিস করি, প্রতিবার , প্রতিবছর।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


