somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাজল ভোমরা
পেশায় আপাদমস্তক সাংবাদিক( রিপোর্টার)। মুক্তমনা কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসী। ঘৃণা করি কারো অধিকারে অনধিকার হস্তক্ষেপ। লিখতে চাই রাজনৈতিক ভন্ডামী আর সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে।

আশার গুড়ে বালি।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জনমনে ধারণা ছিলো, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরপরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর বিএনপির জন্য নতুন সার্কুলার জারি করে বলেছে, ঘটা করে মনোনয়ন সংগ্রহ করা যাবেনা্। এবং এটা বলার একদিন পরই সরকারে আজ্ঞাবহ পুলিশ নয়া পল্টনে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে যে তান্ডব দেখালো সেটাতে আবারো প্রমানিত হলো, সরকার কোনো ভাবেই বিএনপি তথা বিরোধী দলকে নুন্যতম স্পেস দেবে না।
নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। কিন্তু সরকার যে দায়িত্ব আদৌ পালন করতে পারছে না, সেটা এখন নিশ্চিত। বরং এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে সরকার রাষ্ট্রকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করে দেয়ার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে ।
মার খেতে খেতে জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে। সে তাড়া এখন সর্বব্যাপী, সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের পথ-ঘাট, হাট-বাজার, নগর-বন্দর-গ্রাম এখন হয়ে পড়েছে শ্বাপদসঙ্কুল। রাস্তাঘাটে বিপদ। ঘর থেকে বের হলে বিপদ। এমনকি ঘরের ভেতরেও বিপদ ওঁৎ পেতে থাকছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নেই কোথাও। বিরোধী রাজনীতিকদের দলনে ও সরকারের লোকদের পাহারা দেওয়ার কাজে আইন-শৃক্মখলা বাহিনী দিনরাত ব্যস্ত থাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা তারা ভাববার অবকাশ পাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে তারা শাসক দলের দুষ্কৃতকারীদের সহযোগী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এতে নাগরিক জীবন আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তিবাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। সরকারের মন্ত্রীরা বিরোধী দলকে ‘দেখ্ লেয়েঙ্গা' বলে অবিরাম চেঁচাচ্ছেন। বিরোধী দল নিধনের জন্য দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। সেভাবে দেশব্যাপী হাজার হাজার পুলিশকে আকাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছে।
ভাবখানা এমন যে, বিরোধী দল যদি কোথাও একদিন একটা জনসভা করে, যদি সরকারের বিরুদ্ধে দু'চার কথা বলে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সরকারের পতন ঘটে যাবে। এখন ঘরের ভিতরেও দু'চারজন মিলিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার করে আনছে।ঠুনকো অভিযোগে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে ডেইলি নিউ নেশনের বর্ষীয়ান সম্পাদক ব্যারিষ্টার মঈনুল ইসলামের উপর।মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালতে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এর মাত্র অল্প কিছুদিন আগে কুষ্টিয়ার আদদালতে হামলা চালিয়ে মারাত্নক আহত করা হয় অকুতেভয় সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে। তিনি এখন মালেশিয়ায় চিকিৎসাধীন।
দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতময় করে তোলা হচ্ছে। মানুষের এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। খুন-খারাপি বেড়েছে, যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে, সন্ত্রাস বেড়েছে। শুধু কমেছে মানুষের জীবনের মূল্য।
১৯৭২-'৭৫ সালেও দেশের ভিতরে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো। আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতেও সে সময় শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার বিরোধী দলকে তাড়া করে ফিরছিলেন। আপন দলের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। মানুষের কথা বলার কোনো সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো বাকশাল কাযেম করে। কিন্তু এ পরিস্থিতি তৈরি করে শেখ মুজিবুর রহমান দেশের যেমন কোন কল্যাণ করতে পারেননি, তেমনি তার নিজের জন্য ডেকে এনেছিলেন বেদনাদায়ক পরিণতি। সরকারের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। সরকারকে বলি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিপদের ওপর বিপদ ডেকে আনে। আর সরকার হারায় জনসম্পৃক্ততা ও জনসমর্থন। সেখানে উট পাখির মতো বালিতে মুখ বুঁজে সমাধান খুঁজলে কোন লাভ হয় না। সুতরাং নিজেদের ও জনগণের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক পথে পরিচালিত করেন। সরকারের নির্ভর হতে হয় জনগণের উপর, সন্ত্রাসী মাস্তানের উপর নয়। বর্তমান সরকার যেন এখন সম্পূর্ণরূপে মাস্তাননির্ভর। আর তাই জনগণ থেকে সরে সরে অনেক দূরে। এই দূরত্ব এই সরকারকে কোন অতলে যে নিয়ে যাবে, কে জানে।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৫৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×