আমাদের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর প্রধানমন্ত্রী একই ব্যাক্তি। সন্মানিতা সরকার প্রধান, প্রাক্তন মাননীয়া বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমান আওয়ামীলিগের সভা নেত্রী, প্রজ্বলিত কন্ঠস্বর, কথার বৃষ্টি, বিদ্যার সাবমেরিন, জিল্লে ইলাহী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি বাংলাদেশের মত সর্ব বৃহৎ অপুষ্টিশালী দেশে সর্বেসর্বা।
আর বিশ্লেষন না হয় নাই দিলাম। গত ০৫-ই মে, bdnews24.com এ প্রকাশিত বিশিষ্ট বিশ্লেষক প্রনব সাহা লিখেছেন তার প্রথম অংশে,
এখানে আসলে বিষয় বস্তু ছিল আমাদের বর্তমান এবং হবু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ে। এতটা ত্যানা প্যাচানোর কারনটা আসলে গুরুত্ব বোঝানোর খাতিরে। বর্তমান "প্র" মন্ত্রী এতটাই ব্যস্ত থাকেন দেশ ও জাতির কল্যান সাধনে যে এইসব "স্ব" সংক্রান্ত আলগা দ্বায়িত্ব আর বোঝা নেয়ার ক্ষমতা বা সামর্থ্য আদৌ কি তার আছে কিনা, সন্দেহ থেকেই যায়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তাকে কিছু দ্বায়িত্ব মুক্তির সুযোগ কি আমরা করে দিতে পারি????
মুলতঃ আমাদের মত কুফা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজ হচ্ছে-
১. নথীতে সই করা।
২. ফিতা কাটা
৩. জনগুরুত্বপূর্ন ইস্যুগুলোকে হিসুর তোরে ভাসিয়ে দিয়ে নিজে যা ভাল মনে করেন তা ইমপ্লিমেন্ট করা।
৪. বানরের পিঠার ভাগের বড় অংশটা নিজের জন্য নিশ্চিত করা।
৫. নিজের ভাই বোন অথবা পুত্র সন্তানদের দিয়ে সঠিক দালালি নিশ্চিত করানো অথবা তাদের ও চেলা পুলাদের কাধে বন্দুক রেখে কার্য উদ্ধার করা।
৬. নির্বাচন আর বিরোধী দলকে নিয়ে গুটি চালানোয় উত্তরোত্তর দক্ষতা অর্জন করা।
৭. র্যাব, পুলিশ, আইন-আদালত, সেনা বাহিনীকে যে কোন মূল্যে নিজের হাতের মুঠোয় রাখা। এই সকল প্রতিষ্ঠান যে বিক্রয়ের উর্ধে না নিশ্চিত ভাবে ভুল প্রমান করা।
৮. বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে ব্রিগেড এন্ড আর্টিলারিস ক্রয় করা এবং বৈদিশিক মুদ্রায় নিজের কমিশন নিশ্চিত করা। সাথে বিদেশে দলীয় সাপোর্ট অর্জন করা।
৯. গালি গালাজ আর খিস্তি খেউওড়ের উপর পিএইচডি অর্জন যা বিরোধী দলের (যে যখন বিরোধী দলে থাকে) নেতার সম্ভ্রমহানীর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
১০। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
তাই এত গুরুত্বপূর্ন কার্যবিধির বাইরে গিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী কি করে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বভারে থাকেন, সেটা রীতিমত অবাক হওয়ার মত ব্যাপার নয় কি? সুস্থভাবে কেউ কি এই দুইটা দ্বায়িত্ব একই সাথে পালন করতে পারেন?? তাহলে মগা ম.খা
যাই হোক আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের গুরুজনসম। শেষ বয়সে এত ভার বহনে তিনি সক্ষম নন। ভুল হয়ে যেতেই পারে। তার-ও বোঝা উচিৎ এই ভুলের মাসুল কিন্তু দিতে হবে কোটি কোটি নির্দোষ মানুষকে, সাধারন জনগনকে। উদাহরন সূরুপ, যে গুম ও খুনের ঘটনা আজ নারায়নগঞ্জকে করে তুলেছে হত্যা, গুম, খু্ন, মাদক আর পাপের সূতিকাগারে। এই ঘটনায় কি কেউ তার ভুল ধরবে না একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে? নাকি প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের কন্যা ও একজন নারী এই কারনে তাকে কোন দোষ দেয়া যাবে না? ম.খা হলে তো তার বাপের নাম ভুলিয়ে ছাড়ত সবাই, তাই নয় কি?
তাই অন্য কারো হাতে না হোক তার প্রিয় কোন ব্যাক্তির হাতে তিনি তুলে দিতে পারেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের গুরুদ্বায়িত্ব। এমন একজন যে কিনা সুস্থ, সাবলীল, ঠান্ডা মাথায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখেন, যে কিনা স্বয়ং ত্রাসের মহীরূহ কিন্তু শিশুতুল্য সরল, নির্লোভ, ভাজা মাছ উলটে খেতে হলে চেলা চামুন্ডাদের সহায়তার প্রয়োজন হয়, তেমনি একজন সুন্দর ও তরতাজা স্বাস্থ্যবান পুরুষ (
জ্বি আপনারা যে প্রস্তাবিত লোকটির নামের জন্য অপেক্ষা করছেন সেই কাল পুরুষ, বাংলার শিংগ, নেতি নৈতিকতা দিয়ে যার মেদ ভুড়ির সৃষ্টি, সেই অকুতোভয় নৈসর্গিক সুন্দর পুরুষ আর কেউ নয় সে আমাদের-ই প্রিয় শামীম ওসমান। যার কাছে আছে নুর হোসেনের মত হাতিয়ার। ভাইবেননা ইনি ৯১ এর স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের বেকুব সেই শহীদ নুর হোসেন, ইনি হচ্ছেন সুকৌশলী, শৈল্যজীবি নারায়নগঞ্জের নুর হোসেন। বাংলার Asset ।
আমাদের বড় ভাই শামীম ওসমান বলেছেন, আমার কাছে সবচেয়ে সন্মানের স্থানে আছে আপা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা), তার কথা ছাড়া আমি এক চুল-ও নড়ি না। আবার ইন্ডেপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের "আজকের বাংলাদেশ" অনুষ্ঠানে আরেক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন নুর হোসেন তার-ই লোক যদিও তিনি নজরুল সহ ৭ জনকেই নিজের লোক বলে দাবী করেছেন এবং শুধু তাই নয়, পুরা নারায়নগঞ্জ তার এবং সবাই তার লোক। যদিও মনে হতে পারে নারায়নগঞ্জ তার পৈতৃক সম্পত্তি আর ওইখানকার সবাই তার চাকর বাকর কিন্তু আসলে তা না, আমরা সবাই জানি উনার মত উঁচু মানের একজন মানুষ যাকে কিনা সবাই সন্মান করে ডগ ফাদার থুক্কু গড ফাদার বলে সে কি মিন করে তা আমরা আসলেই বুঝতে পারি কিন্তু কিছু করতে পারি না। কারন আমরা তাকে যারপরনাই সন্মান করি। তাই বলছি, যে নিহত আর হত্যাকারী দু পক্ষকেই নিজের লোক দাবী করেন, যে ব্যাক্তিকে চোর বাটপার, মক্ষীরানী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী, র্যাব, থানা পুলিশ, আইনজীবি সবাই এতো সন্মান করেন, যার পুরো কার্যকলাপ স্বরাষ্ট্র বিষয়ক, যার হাত পতিতা থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সুপ্রসারিত, তাকে আমরা কেন চোখের আড়াল করে রাখছি? ভালবেসে কেন তাকে আলিঙ্গন করছি না? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রবালয়ে কেন তাকে স্বাগত জানাচ্ছি না?
আমরা কি জানি, যারা কম্পিউটারের এন্টি ভাইরাস তৈরি করেন তারা সবার প্রথমে শিষ্যত্ব গ্রহন করেন ওয়ার্ন্ড ক্লাস হ্যাকারদের? যাতে তাদের কোম্পানির এন্টি ভাইরাস হয় অপ্রতিরোধ্য। অন্য কোম্পানির প্রডাক্টের সাথে কম্পিটিশনে হয় অগ্রগন্য, এইটাই তো বিজনেস। আমাদের সরকার পরিচালনাও বিসনেস, প্রজাতন্ত্রের রুলস অব বিসনেসের গাইড লাইন মেনেই তাদের চলতে হয়, তাহলে সেই স্ট্র্যাটেজিক বিসনেসের আওতায় শামীম ওসমানকে কেন আনা যাবে না? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হচ্ছে এই বিসনেসের প্রক্টরিয়াল এডমিন, সেই ক্ষেত্রে উনার চেয়ে সুযোগ্য একজনের নাম কেউ বলতে পারবে? নিয়ে এসেই দেখুন না। বিশ্বাস করুন, দেশের এরচেয়ে ভয়াবহ খারাপ অবস্থা হওয়ার আর সম্ভাবনা নাই তা না, বরং সম্ভব না। সেই সূত্রে এই মহান ব্যক্তি হচ্ছে তুরুপের তাস। বিষে বিষ ক্ষয়, একবার এই প্রস্তাবটা গ্রহন করেই দেখুন না, আর ক্ষয়ের কিই বা বাকি আছে? প্রচন্ড ক্ষুধার সময় কেউ কলা খেতে দিলে, তাতে ফরমালিন আছে কিনা সেটা দেখবেন? না গব গব করে খাবেন? সিদ্ধান্ত আপনাদের। সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনি মোক্ষম সময়। শুনতে পেলাম ভারতে NDA প্রার্থী মোদী জয়ের দোড় গোড়ায়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এতিম হওয়ার পথে। শামীমের মত প্রচন্ড ক্ষেপা ষাড় এখন আমাদের দরকার, সেই সাথে ভারতের তাবেদার ইন নিউ স্টাইল। নতুবা উলটো রথে দেশ আমাদের পুরোটাই প্রাচ্যের ডান্ডির (নারায়নগঞ্জ) মত ছিড়া ঘুড্ডির মাফিক ঠুন্ডা ডান্ডিতে পরিনত হবে। রিস্ক থাকবেই, চেষ্টা করতে দোষ কোথায়?
আসুন না, লুসিফারকে একবার আমন্ত্রন জানাই। হয়তঃ তার বিধাতা মনে মনে এইটাই চাইছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৪ রাত ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



