এইকালে প্রতি মঙ্গলবার সিনেমা হলে টিকেটের দাম সবচেয়ে কম থাকে। আমরা সাধারনত Ilford এর Cine World এ সিনেমা দেখি। ওই দিকটায় ইন্ডিয়ান কমিউনিটি বেশি। হিন্দি সিনেমা চলেও ভাল। তিন সপ্তাহ হলো এখানে ছবিটা মুক্তি পেয়েছে, এখনও বেজায় ভিড়, বিশেষ করে মঙ্গলবার, আমাদের মতো সবাই কম পয়সাতেই চালায় দিতে চায়। গত মঙ্গলবার তো বেলা দু'টাতেই রাত আটটার টিকেট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।
যাক, আমরা ছয়জন গিয়েছিলাম, আমি সবচেয়ে পড়ে পৌছেছি। অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে গিয়েছিল আবার ওই দিকে টিউবে বসে ছিলাম 6/7 মিনিট। কোন একটা টিউব টাইমটেবিল মিস করেছে তাই অন্যটিও তার জন্য অপেক্ষা করে ছিল।
যাই হোক পোলাপাইন আগেই টিকেট কেটে রেখেছিল, তাই সমস্যা হয় নাই। এত বড় স্টার কাস্ট, সবার উচ্চাকাক্ষা থাকতেই পারে। প্রথমেই অমিতাভ হাজির হলো নারীখোর রুপে, তার ছেলের (অভিষেক) বিয়ে রানী র সাথে। রানী কনফিউজড, হঠাৎ শাখরুখের আগমন সে রানীকে কিছু কথা বলে যা রানীর মনে গেথেঁ যায় আর অন্যদিকে শাখরুখের স্ত্রী প্রীতি যারা কিনা ভালবেসে বিয়ে করলেও সাংসারিক জীবনে অসুখী।
পরবতর্ী কাহিনী .... রানী আর শাখরুখ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়। দুইজনই একসময় নিজের সংসার ছেড়ে দেয় অথচ দুই জনের কেউই তাদের এই ছেড়ে দেয়া জানতে পারে না। অনেক দিন পর ঘটনা চক্রে তারা জানতে পারে এবং এক হয়ে যায়। শুভ সমাপ্তি।
আমি খুব খারাপ ধরনের বর্ণনাকারী, তাই আমার কাছে এই ধরনের ফালতু বর্ণনা ব্যতীত কিছু আশা করা বোকামী।
এই বার আমার কেমন লাগল সেটাতে আছি। সবচেয়ে বিরক্তিকর লেগেছে শাখরুখের অতিরিক্ত ঘাড় ত্যাড়ামি, বুঝতে পারি নাই কাহিনীটাই এমন ঘাড় ত্যাড়া ছিল কিনা নিজগুনে শাখরুখ ত্যাড়া বানিয়ে নিয়েছে। কখনও কখনও মনে হয়েছে ইচ্ছে করে তিনঘন্টা টেনে নিয়ে যাবার প্রয়াস ছিল। লোকেশন, ড্রেস, ডায়ালগ ভালই ছিল।
রানী, অভিষেক, অমিতাভ, প্রীতি প্রমুখের অভিনয় ভাল লেগেছে কিন্তু কাহিনী ঠিক এখনও সমাজে খাপ খাওয়ানোর মতো সিনেমা হয় নাই। এখনও বলিউডের কয়েকজন পরিচালক সংসার নির্ভর সিনেমা বানাতে চায় আর সেখানে এই সিনেমাটা মনে হয়েছে সংসারকে ভাঙ্গারই প্রয়াস। কাহিনীর থিমটা হয়তো একদিন আমাদের কিংবা ভারতের সমাজে মানিয়ে যাবে, কিন্তু যতদিন না তা হচ্ছে ততদিন এই টাইপের সিনেমা হিট হবে সুপার হিট হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



