ইলিয়াসঃ নতুন আইনটা নিয়ে লেখা আপনার খেরোখাতার নিবন্ধটা ভাল লাগলো। মনে করেছিলাম, আমার ভাবনাটা মন্তব্যের স্থানে লিখে দেব, কিন্তু বড় হয়ে যাবে, এই আশংকায় আলাদা করে প্রকাশ করলাম।
বস্ত্র কারখানার দূর্ঘটনায় আমরা সবাই কম বেশি দুঃখিত। কেউ মনের কথা লিখে, কেউবা মনের মধ্যে চেপে রেখেই দুঃখে দর্ীঘশ্বাস ফেলছে। যেমনি দুঃখের তেমনি হতাশার। আজ পযনর্্ত যতগুলো এধরনের দর্ূঘটনা ঘটেছে, তার কোনটারই বিচার হয়নি, হবেও না।
যতই আমরা গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে গলা ফাটাই, শেষপযনর্্ত সরকার উচ্চশ্রেনীর প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করে। গুটি কয়েক ভুখা নাঙ্গার মৃত্যু তাদের মস্তিষ্কে আলোড়ন তোলে না।
আপনার হয়তো মনে আছে, ছোটবেলায় ব্যাটারী দেয়া গাড়ির আবদারে যখন মাটিতে গড়াগড়ি দিতেন, তখন শেষ পযনর্্ত বাবা একটা চকলেট ধরিয়ে দিতেন শান্ত করতে। চকলেট মুখে দিয়েই ভুলে যেতেন গাড়ির স্বপ্ন। ঠিক তেমনি, যখন চারিদিকে বার বার ঘটে যাওয়া র্দূঘটনা নিয়ে সবাই কোলাহল করছে, তখন নতুন আইনের ছব্দবেশে আমাদের চকলেট হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এতেই আপনাকে চুপ করতে হবে, বেশি চিল্লা ফাল্লা করে লাভ নেই।
বলছেন প্রতিবাদ করতে, কিভাবে করবেন? মিছিল করবেন, আমৃত্যু অনশন করবেন। যান অনশন করতে যান, পুলিশ পিটিয়ে ভাগিয়ে দেবে। যদি নাও দেয়, এই দল তো সেই দল, হাজার হাজার দল আপনাকে সর্মথন দেবে। আওয়ামী লীগ আসবে, কমিউনিষ্ট পার্টি আসবে তারা আপনাকে সমাজের প্রতিবাদী মুখ হিসেবে তুলে ধরে বলবে আপনাকে এগিয়ে যেতে। ভাল কথা, ওগুলো কিন্তু সব ছলনা, কারন কিছুদিন পরে ওরা আপনাকে ভাগিয়ে দিয়ে নিজেরাই ওই ইস্যুতে (বাংলা মনে আসছে না) সরকারের পতন চাইবে। সবকিছুতেই তারা ক্ষমতায় যেতে চায়, আপনার মতো কোন প্রতিবাদ তারা করতে চায় না।
তাই ভাই প্রতিবাদ করে কোন লাভ নেই। ইন্দ্রিয়গুলো বন্ধ রাখুন। ভাল থাকতে পারবেন। আজ যা দেখছেন, কাল সেগুলো মনে রাখার দরকার নেই। কালকে নতুন করে চিন্তা করতে শুরু করুন, দিনের শেষে সব ভুলে যান। ভাল থাকবেন।
[প্রতিশব্দ আন্দোলনে একাত্ম প্রকাশ করে খেরোখাতার নিবন্ধটি সম্পূর্ণ বাংলায় লিখতে চেষ্টা করেছি]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



