শিরোনাম শুনে যদি মনে হয় এটা কোন প্রেমের গল্প তাহলে ভুল করবেন। সবাই এত উচ্চ উচ্চ প্রসঙ্গে কথা বলছে আজকাল যে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। তাই কিছু হালকা কথা হলো ভাল হয়।
এদেশে এসে প্রথমেই সবাই যা করে তা হলো যত অভিজ্ঞতাই থাক না কেন, আর জীবনবৃত্তান্ত যতই বড় হোক না কেন, কেঁটে ছেঁটে এক পাতা করে গোটা চল্লিশেক মুদ্রন করে বেরিয়ে পড়ে কাজের সন্ধানে। আমিও তাই করলাম। বড় ভাইরা বলত এখানে যাও তো, সেখানে যাও। বাসে করে চলে যেতাম তাদের নির্দেশিত জায়গায়। তারপর এক ধার ধরে সব দোকানে ঢুকতাম। ভিড় দেখলে কেটে পড়তাম, না থাকলে খুবই ভদ্রভাবে কর্তব্যে নিয়োজিত লোককে বলতাম, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার কোন চাকুরী নেই, তোমার দোকানে কি কোন চাকুরি আছে?
প্রায় সময়ই বলত নাই। তখন বলতাম "আমার জীবনবৃত্তান্তটা রেখে দাও। লাগলে আমাকে ডেকো, কেমন? " এইভাবে প্রায় দু'মাস খুঁজেছি। অনেকেই আশার বানী শোনাতো, কিন্তু লাভ হচ্ছিল না।
এই দেশের সেলসম্যান কিংবা ম্যানেজাররা (দুঃখিত ইংরেজী ব্যবহার করলাম, এই মুহুর্তে অর্থ মনে করতে পারছি না) এতই ভদ্র(!!) যে প্রতাখ্যান করতোও হাসি মুখে। একবার এক মহিলা সব কথায় সুইটহার্ট সুইটহার্ট বলছিল, যেন তার সাথে আমার গত শতাব্দী থেকে পরিচয়। সুইটহার্ট আমাদের তো কোন জায়গা খালি নেই, সুইটহার্ট তুমি কখন কখন কাজ করতে পারবে, সুইটহার্ট তোমার বৃত্তান্তটা অবশ্যই আমি উপরওয়ালাদের কাছে পাঠাবো.....। আমার মনে হচ্ছিল এইবার তো আমার চাকুরী হয়েই যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনও আমার সেই সুইটহার্টের কাছ থেকে কোন খবর পাইনি। কবে তাকে ভুলে গেছি, শুধু তার সুইটহার্ট শব্দটা মাঝে মাঝে কানে ভাসে।
একেই হয়তো বলে সত্যিকারের বিক্রেতার পরিচয়।
বলার লোভ সামলাতে পারছি না, আমি এখন খুব ভাল চাকুরি করি। আমার বিলেতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ধারাবাহিক কিছু লিখবো চিন্তা করছি, দীর্ঘ চিন্তার অবকাশ হচ্ছে না বলে লিখতে পারছি না।
সবাইকে ভুয়া এই খেরোখাতাটি পড়ার জন্য কিছু শুকনো ধন্যবাদ পাঠিয়ে দিলাম সবার ঠিকানায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


