প্রায় একমাস হতে চলেছে আমার Boss-এর সাইবার ক্যাফেতে বসছি। হাসি মুখে সবার সাথে ভাল ব্যবহার করি, তাই ইতিমধ্যেই ক্যাফেতে আগের চেয়ে দ্্বিগুন Customer আসছে, এমনকি অন্য ক্যাফের regular customer ও আমার এখানে regular হয়ে গিয়েছে। সাদা কালো নির্বিশেষে সবার সাথে সমান ব্যবহার করি, তাই কালোরাও আমার উপর খুব খুশি।
কয়েকজন regular customer আছে যাদের ব্যবহারে আমি প্রায় অতিষ্ট। তবুও হেসে হেসে service দিয়ে যাই।
Janeঃ প্রথমেই ওর নাম না নিলে ওকে অপমান করা হবে। আমার লন্ডন জীবনে ওর চেয়ে বেশি বিরক্তিকর চরিত্র আমি আর দেখিনি। 6 ফুটের চেয়ে লম্বা মহিলা তাল গাছের মতো লম্বা ও চিকন। শুনেছি উনি Cambridge University থেকে সাংবাদিকতায় ডিগ্রীধারী , প্রতিদিন আসবে একগাদা CV প্রিন্ট করতে, প্রতিবারে একটা করে তার special কাগজ দিবে প্রিন্ট করার জন্য এভাবে কমপক্ষে 20টা পাতা বারে বারে প্রিন্টারে ভরতে কিযে বিরক্ত লাগে তা বলে শেষ করা সম্ভব না। তার উপর যতই ভাল ব্যবহার কর না কেন সে তার স্বভাবসুলভ খারাপ ব্যবহার করে, হেসে কথা বলা বৃথা। হঠাৎ হঠাৎ উচ্চ স্বরে স্বজোরে গলা পরিস্কার করবে কিংবা এক মিনিট পর পর 'ছি' 'ছি' বলে। এই পিস মহিলাকে না দেখলে বোঝা সম্ভব না যে কতটা বিরক্তিকর।
Gomezঃ এই তথাকথিত স্প্যানিশ ভদ্রলোক নাকি সাংবাদিকতা করেন, বয়স 50-55 হবে, microsoft office শিখছেন কোনো এক প্রতিষ্ঠানে, আমাদের ক্যাফেতে এসে অনুশীলন করেন। যাই হোক, একটু পর পর আমাকে ডাকবে এইটা কেনো হলো টাইপের প্রশ্ন নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু তার মুখে এত দূর্গন্ধ যে আমার বমি আসার উপকৃম হয়। কিছু বলতে পারিনা। হঠাৎ হঠাৎ প্রিন্ট কমান্ড দিয়ে বলবে ভুল হয়ে গেছে, ওটা আমরা লাগবে না।
সাদা বুড়োঃ শুনেছিলাম বুড়ো মানুষরা নাকি মাঝে মাঝে বড্ড বিরক্ত করে, এই বুড়ো তারই প্রমান। প্রতিদিন এসে একটু পর পর ইন্টারনেট থেকে প্রিন্ট করবে আর বলবে এই মেশিনে এই প্রবলেম তো ওই মেশিনে ওই প্রবলেম। আমার প্রিন্ট ঠিক মতো আসেনি কিংবা এটা এমন হল কেন, ওই দোকানে তো ঠিকই ছিল। সারাদিন কাষ্টমারের চাপে জান যায় যায় অবস্থা আর এর মাঝে বার বার এমন অভিযোগ শুনতে কেমন লাগে।
একঘেয়ে লাইফে আমি প্রায় পাগল হয়ে আসছি। এতো গেল কর্মক্ষেত্রের কথা, বাসস্থানের কথা না হয় আরেকদিন জানাবো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


