somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরের জুতো

১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইশ্বরের হেভি জুতোর দরকার । শালা, সারা স্বর্গ এখন নাচা-গানার পরদিনের সল্টলেক । চতুর্দিকে বুভুক্ষু পেরেক । আর শালা ফুটলেই নরকে ছোট, কোথায় বেলেঘাটা কোথায় আইডি ! মোদ্দা কথাটা হল গুরুর জুতো চাই


ইশ্বর তো আমাদের সরকারী অফিসের বড়বাবু নয়, যেমন ভাবা তেমন কাজ; স্যাটাস্যাট হাবুর মাকে স্বপ্ন দিলেন । মাঝরাতে হাবুর মা ঘুম ভেঙে উঠে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগল ।


পাঁচড়া হাইস্কুলের হেডমাষ্টার বিভূতিবাবু সেজ মেয়েটার বিয়ের গতি করার জন্যে টিভিতে অনলাইনে অশেচনক কামিনীমাতাকে ধরেছেন, টেলিফোনে । আপাতত রাহু-কেতু এক । টাফ সিচুয়েশন । শিবরাত্রির দিন সাদা শাড়ি পরে ভিজে গায় পাঁচটা মাটির জুতো ... । বিভূতিবাবু অর কিছু শুনতে পেলেন না, ইশ্বরের মাথায় জুতো ! ছি: ছি: ছি:, টিভির ভলিউম এমনিতেই শূণ্য, সেজ মেয়ে মা'হারা পমপম এক্সাইটেড হয়ে শুনছিল এক সাইডের কথাবার্তা, সেও কিছু ঠাউর করে উঠতে পারল না।



সারারাত হাবুর মা বিছানায় বসে হাউ হাউ করে কাঁদল, হাবু এমনিতে ব্যোমকে ছিল, রাত্তিরবেলা ইচ্ছে ছিল গোস্বামীদের নারকোলগাছ দুটো একটু হালকা করে দেবে, মায়ের ঘ্যানঘ্যানে কান্না শুনে সে তো ল্যাবড়ে গেল । এ কি আব্দার রে ভাই, জুতো চাই !



মাল হাপিস করাই যখন হাবুর কাজ, ফোকাস একটু শিফট করলেই হল । টাকা চাই না, ঘড়ি চাই না, ঘড়া চাই না, স্রেফ জুতো । মায়ের মাথর দিব্যি খেয়ে সরাইঘাট এক্সপ্রেস রাজধানী এক্সপ্রেস, মোকামা ফার্ষ্ট প্যাসেঞ্জার সব জায়গা থেকে জুতো সরাতে লাগল । আরেকটা মেইন সোর্স ছিল মন্দির, হেজি-পেঁজি সমস্ত মন্দিরের সামনে ওত পেতে থাকে হাবু, সুযোগ পেলেই জুতো উঠিয়ে ফুড়ুত ।




হাবুর মায়ের জানাই ছিল না, হাবুর মধ্যে এরকম একটা প্রতিভা লুকিয়ে ছিল । কেবল ইশ্বরই সেটা জানতেন, ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দিয়েছেন । হাবুর মা স্বপ্নে ইশ্বরকে দেখেছেন বটে কিন্তু পায়ের দিকে নজর দেন নি, কোন সাইজের জুতো ফিট হবে তাই নিয়ে হাবু-হাবুর মা দুজনেই কনফিউজড । ইশ্বর ঠিকমতো চিনতেও পারেন নি হাবুর মা, পড়াশুনা নাই তো, তেত্রিশ কোটির মধ্যে কোন একটা হবে । ছেলে না মেয়ে সেটাও ক্লিয়ার নয় । হাবুর মা'র মতে ছেলে, হাবুর মতে মেয়ে; নইলে সে এত ইন্সপিরেশন পেত না । এইসব কথা শুনলেই হাবুর মায়ের মটকা গরম হয়ে যায়। সমস্ত জুতোই খুব সাধারন, মামুলি। মানুষের পায়ে ঠিক, কিন্তু ঈশ্বরের জন্য বিলো ষ্ট্যান্ডার্ড!



দিন যায়, মাস যায়, হাবুদের বাড়িতে জুতোর পাহাড় জমে ওঠে। হাবুর মা সেগুলো সার্ফ দিয়ে কেচে, পালিশ-ফালিশ করে চাঁদনি চকের চোরাবাজারে বেচে দিয়ে আসে । হাবু যথারীতি দূরপাল্লার ট্রেনে আর মন্দির-মসজিদে জুতো সরিয়ে এক্সপার্ট হয়ে উঠেছে । এখন সে ঘুঘুমাল । পালা-পার্বণে আগে থেকে ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখে, কোন মন্দিরে গরবাচৌথায় ভীড় আর কোন মসজিদে ঈদ-উল ফেতরে হেভি ক্তাউড তা একন হাবুর নখদর্পনে ।এমন করে দিন কাটছিল । ঈশ্বরও এর মধ্যে আসেননি হাবুর মায়ের কাছে মাল ডেলিভারী নিতে । ঈশ্বরের মর্জি তো! বোঝা ভার । এদিকে হাবুর নেশা-প্রেম সবই ... । বিশেষত লেডিজ চপ্পল । একেকটা চপ্পল শুঁকে সে নারী সম্পর্কে অনুসন্ধান করে, কল্পনা করে নেয় উর্মিলা কিম্বা রবিনা ট্যান্ডনের চেহারার । বিছানায় রাত্রে শোয় সেই সব জুতো নিয়ে । হাবুর মা ধরে নিয়েছেন ছেলের এই নেমকহারামীর জন্য ঈশ্বর আসছেন না ।



শিবরাত্রির দিন গঙ্গার ঘাটে হাবুর চোখ চিক্ চিক্ করে ওঠে, দু'পাটি বেওয়ারিস জুতো ! দুধ সাদা রং । লেডিজ চপ্পল । হাই হিল । হেভি । ফাটাফাটি । বীভত্স । গুটি গুটি পায়ে হাবু এগোয় সেটা সটকানোর জন্যে । এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে । জল বরাবর চেয়ে চোখ আটকে যায় । ওফ্ ! সারা শরীর ভিজে, সাদা শাড়িতে ঘাটে উঠে আসছে পমপম । ওফ্ গুরু ! উর্মিলা মাতন্ডকর কেউ না । রবিনার গুষ্টির পিন্ডি ! এ কি জিনিস গুরু । ঘাটে বসে পমপম মাটির জুতো বানাচ্ছে ঈশ্বরের জন্যে । হাবু চেয়ে থাকে অপলক । এই প্রথম জুতো সরাতে গিয়ে তার হাত কাঁপছে । একবার জুতোর দিকে তাকায় একবার পমপমের দিকে । লাব ডুব, লাব ডুব । মাটি কাঁপছে । সব ঝাপসা ।




জুতো বানানো শেষ করে ধীর লয়ে সিঁড়িতে এসে পড়ে থাকা জুতোর দিকে একবার তাকিয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠতে থাকে । মন্ত্রমুগ্ধের মত হাবু জুতো দুটো উঠিয়ে যেতে থাকে পমপমের পিছন পিছনে । তার কানে তখনও বাজছে ঈশ্বরীর কন্ঠস্বর: ' জুতোটা একটু দেখবেন । প্লীজ ।'







প্রথম প্রকাশ: ছায়াবৃত্ত, মার্চ, ২০০৪
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ভোট দেশে

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



আমার বয়সে(৩০+) আজও সরকার নির্ধারণ বা নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।

এখন প্রায় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। তবুও নানা অজানা কারণে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ভোট হয় কি হয়না। সেদিন এক স্থানীয় পাতি নেতার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×