somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যোৎস্নাগুলো হারিয়ে যায় ভোরের শিশির হয়ে.....

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানালার কাঁচে একফোঁটা, দু'ফোটা করে শিশির জমছে। ঝাপসা দেখাচ্ছে চারপাশ। আকাশ কি বিষণ্ণ, ক্লান্ত মেঘে ঢাকা? বুঝা যাচ্ছে না। উত্তরের হাওয়া একটু পর পর দরজায় কড়া নাড়ছে। এসব রাত এত দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর মনে হয়। আগে শীত মানে ছিল অদ্ভুত এক ভালোলাগা। চারদিকে উৎসব উৎসব ভাব। আর এখন সবই যান্ত্রিক।
কলেজে থাকতে রংপুর এর এক আপু ছিলেন, আপু বলতেন "এখনই এত বই পড়ো না, বাস্তবের সাথে মিলাতে পারবে না। কষ্ট পাবে। " এখন মনে হয় কথা একেবারে ও মিথ্যে বলেনি। বই আর চারপাশ যোজন যোজন ফারাক। যখন সুস্থ থাকি, ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে পড়াশোনা, আর সব ভুলে যাই। কিন্তু অসুস্থ হলেই সব চোখের সামনে চলে আসে, সময় যেন থমকে দাঁড়ায়। কত কি যে করার ছিল। কিছুই হল না। যে পথে কোনোদিন না হেঁটে ও মনে হয় চিরচেনা। নিজের শহর থেকেও পরিচিত মনে হয়। অনিমেষের সেই জলপাইগুড়ি, কলকাতার ট্রাম, শিলিগুড়ির আঁকাবাঁকা পথ, আর স্বপ্নের দার্জিলিং। দার্জিলিং মানেই ভালবাসা কিংবা দীর্ঘশ্বাস। দার্জিলিং এর অপার্থিব সৌন্দর্যে একটা সূর্যোদয় আমার হোক। কুয়াশাচ্ছন্ন, শুভ্রতায় ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় একটা সকাল একেবারে ভিন্নরুপে এসে ধরা দিক।

অদ্ভুত বিষণ্ণতা ছেপে ধরে। কিসের পিছনে ছুটছি, আর কেনইবা ছুটছি! সব মিথ্যে মনে হয়। জীবন মানেই মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা। এর চেয়ে বড় সত্য আর নেই। কুয়াশায় ঢাকা নিঃসীম চরাচরের মত ঝাপসা হয়ে যায় কতশত স্বপ্ন। সেই সাথে দূরে সরে যায় হাইডেলবার্গ এর স্বপ্ন। তারপর দূরবর্তী ট্রেনের হুইশেলের মত কিছু একটার অপেক্ষায় থাকি। যে শব্দ নিয়ে যেতে পারে অনেকটা পথ, দিতে পারে বিশুদ্ধ, নির্মল কোন আনন্দ। অথবা আবারো ভুল কোনো স্টেশনে।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য'র কোনো এক বইয়ে পড়েছিলাম, অসুস্থ দাদা হুইলচেয়ার সমেত তীব্র অভিমানে হারিয়ে গিয়েছিলেন,আর কখনো ফিরেননি। আমারো মাঝে মাঝে এমনি করে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে বহুদূর। রোজকার এই টিপিক্যাল চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে অনেকদূর হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। ঝাপসা কাঁচে দেখা যায় কোনো বারান্দায় দাঁড়ানো কোন প্রেয়সীর একান্তই অশ্রু নির্গমন কিংবা তুমুল ভালবাসায় হারিয়ে যাওয়া। অতকিছু দেখতে নেই, মানুষের সম্পর্কে যত কম জানা যায় ততই ভালো। (অসমাপ্ত)

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১২:২৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×