somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেভার লেট মি গো

১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

..
কখনো কখনো এমন হয় না গোধূলির আলোয় প্রিয়জনের সাথে কাটানো সময় শেষে বাড়ি ফেরার পথে হুট করে মন বিষণ্ণতায় ভরে যায় অথবা বৃষ্টি শেষে স্নিগ্ধ পিচঢালা পথে হাঁটতে গিয়ে ভালো লাগার পরিবর্তে দমবন্ধ অনুভূতি দেয় kazuo Ishiguro এর "নেভার লেট মি গো " তেমন একটা বই। বর্ষার প্রথম কদম কিংবা শরতের বিকেলে মাঠ ভর্তি ফসলের গায়ে দোল খাওয়া মৃদু হাওয়া আমাদের জীবনে যেমন সুন্দর স্মৃতির জন্ম দেয় গল্পের ক্যাথি ও তেমন একজন। যে সব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র স্মৃতিগুলো হারাতে চায় না। শূন্য প্রান্তরে চারদিকে ছিন্ন কাগজের টুকরো, শুকনো পাতা উড়ছে । সেই খোলা হাওয়ায় দাঁড়িয়ে ক্যাথি ভাবে এই পৃথিবী তার বন্ধু, ভালোবাসা সবই কেড়ে নিয়েছে কিন্তু স্মৃতিগুলো একান্তই তার নিজের, সেগুলো নিশ্চয় মুছে ফেলতে পারবে না। হয়তো কিছু মানুষের কাছে তারা ছিল শুধু মাত্রই অর্গান ডোনার। অথচ তারা আর দশটা মানুষের মতই অনুভূতি সম্পন্ন ছিল। শৈশবের দুরন্তপনা, টিনএজের যত পাগলামি, ক্লাসের কোন ছেলে কি করেছে, নোংরা ম্যাগাজিন দেখে হি-হি-হি করা, ভালোবাসার মানুষকে কখনো বলতে না পারা, শুধুই অনুভূতি বয়ে বেড়ানো সবই ছিল তাদের মধ্যে। অথচ প্রতি সপ্তাহে তারা তাদের বেস্ট আর্ট গুলো জমা দিত, তারা ভাবতো এগুলো হয়তো তাদের সৃজনশীলতা যাচাই করার জন্য। এগুলো ছিল তাদের মধ্যে আদৌ কোন সোল আছে কিনা যাচাই করার জন্য। কি নিষ্ঠুর নির্মমতা! যে মানুষ গুলোর মধ্যে কারো কষ্টে ব্যথিত হওয়া, সুখে হাসা, ভালোবাসা অনুভব করা , ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, হারানোর ব্যথা সবই বিদ্যমান, তাদেরকে প্রমাণ করতে হচ্ছে তাদের আদৌ কোনো সোল আছে কিনা।
ইংল্যান্ডের Hailsham নামক একটি স্কুলে বেড়ে উঠে কিছু শিশু। যারা ছিল মুলত ক্লোন মানব। যাদেরকে তৈরি করা হয়েছিল অর্গান ডোনার হিসেবে। যারা পৃথিবীর চোখে শুধুই মাত্র ডোনার। গল্পের ক্যাথি, রুথ, টমি তিনজন বন্ধু। হেইলশ্যাম এ তারা স্বপ্নের মত শৈশব কাটায়। তখনও তারা পুরোপুরি সত্যটা জানতো না। একদিন ছোট্ট ক্যাথি গান শুনতে শুনতে বালিশ বুকের সাথে আকড়ে ধরে নাচতে থাকে। O baby, never let me go, never let me go. যদিও ছোট্ট ক্যাথি এর মিনিং বুঝতে পারেনি। যাদের কখনো কোন পরিবার, বিয়ে কিংবা সন্তান হবে না। দূর থেকে ম্যাডাম এই দৃশ্য দেখে ভেজা চোখে দাঁড়িয়ে ছিল। যার ক্ষমতা খুবই সীমিত।
ক্যাথি আর টমির বন্ধুত্ব ছিল অনেক গভীর, কিন্তু এই অনিশ্চিত জীবনে যদি শেষ পর্যন্ত রুথ একা হয়ে যায় সেই ভয় থেকে সে টমির সাথে সম্পর্কে জড়ায় এবং ক্যাথিকে সবসময় দূরে সরিয়ে রাখে। ক্যাথি মনের গভীরে টমির জন্য অনুভূতি লুকিয়ে রাখে কিন্তু কখনো কিছু বলে না। প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী কখনো কখনো হয়তো স্বার্থপর রুথ তার দ্বিতীয় ডোনেশনের পর বুঝতে পারে সে টমি আর ক্যাথির মাঝে শুধু শুধু দেয়াল হয়ে আছে। তখন সে ক্ষমা চেয়ে তাদেরকে এক হতে বলে। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। টমি একবার ডোনেট করে ফেলে। তবু ও টমি আর ক্যাথি তাদের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। তারা একটা কথা শুনে যদি কেউ তাদের ভালোবাসা সত্যি এটা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তাদের ডোনেশন তিন বছর পিছিয়ে দেয়া হয়। যাতে তারা কিছু সময় একসাথে কাটাতে পারে। তারা ম্যাডামের কাছে ছুটে যায় এটা জানার জন্য। টমি লুকিয়ে লুকিয়ে করা বেস্ট আর্ট গুলো নিয়ে যায়, সে যে ক্যাথির যোগ্য এটা প্রমাণ করার করার জন্য। বাট এমন কিছু কখনোই ছিল না যেটা শুধু মাত্রই গুজব। দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে। শুধুমাত্র একসাথে কাটানোর জন্য কিছু সময় চায়। ওহ, কি প্যাথেটিক! টমি তখন পাগলের মত চিৎকার করতে থাকে। রুথ মারা যায়। থার্ড ডোনেশনের সময় টমি মারা যায়। সেদিন সে শুধু পলকহীন ভাবে ক্যাথির দিকে তাকিয়ে ছিল। পৃথিবীতে আমরা কত কিছুর পিছে ছুটি। অথচ প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো সময় এর চেয়ে মুল্যবান আর কিছুই নেই। কিছুই না। আমার তখন একটা কথাই মনে আসে... hold your tongue, and let me love. জীবনের নির্মম বাস্তবতা জেনে ও তারা ভালোবাসতে চেয়েছিল। ক্যাথি প্রিয়জন হারানোর ব্যথা নিয়ে অপেক্ষা করে মৃত্যুর। ওহ, ঈশ্বর! এ হারানোর ব্যথা কি কষ্টের। বেঁচে থাকা কি অসহনীয়। পৃথিবীর কাছে যাদের অনুভূতির কোনো মূল্যই নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:০১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×