আসসালামু আলাইকুম , হঠাৎ করে ইচ্ছে হল আড্ডা দেওয়ার জন্য । কিন্তু তেমন কেউই বর্তমানে আমার আশেপশে নেই । তখন মনে এল ব্লগ এর কথা .........
আসলে কিছু লিখার জন্য আমার এই লিখা নয়, লিখাটা লিখছি কিছু আলোচনা করার জন্য । আমি বর্তমানে সৌদি আরবে থাকি। ২০০৭ সালের শেষের দিকে বিদেশ পাডি দেই। বর্তমানের এই সময়টাতে এসে কিছু কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ।২০১২ সালের এই রমজান মাসে আমার সৌদি প্রবাসের ৫ বছর পার হয়ে গেল । এবং আমি চিন্তা করছি আমার ফেলে আসা বয়সন্ধি কাল কে নিয়ে , বিষেশ করে আড্ডা 'র কথা নিয়ে ভাবছি । ঐ সময়কার আড্ডা এবং বর্তমান সময় এর অনুভুতি কি এই নিয়ে ।
ঐ সময় যখন আমরা আড্ডা দিতাম তখন আমাদের আলোচনার মূল বিষয় বস্তু ছিল ব্যাক্তিগত ও বন্ধু জনিত ঘটে যা্ওয়া কারন গুলো । অনেক সময় এই ভাবে কাটিয়ে দিয়েছি অকাতরে , কখন ভাল কিছু শিখতে পেরেছি এবং কখনো বা না । এই সৌদি আরবে থাকে এমন একজন সুদানি নাগরিক কে আমি একদিন প্রশ্ন করলাম তাদের দেশে এর বিভক্তি'র ব্যাপারে । দক্ষিন সুদান এবং উত্তর সুদান বিভক্তির ব্যাপারে । তখন আমাদের সাথে উপস্থিত ছিল এক সিরিয়ান ইলেকট্রিক ইনজিনিয়ার , নাম সামির , বয়স ২৩/২৪ এই রকম । কথার পেক্ষিতে সুদানি লোকটি বলল দক্ষিন সুদানের বেশির ভাই অধিবাসীই খ্রিষ্টান , তবে সমস্যা সেখনে নয় । সমস্যা টি হল শিক্ষা ব্যাবস্থা । মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ উত্তর সুদানে তালিম দেয়া হয় আরবী কেন্দ্রিক শিক্ষা , যার মূল বিষয় হচ্ছে কুরআন এবং হাদিস । যদিও সেখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে তবুও তারা চিন্তাশীলতায় উত্তম ছোটবেলার কুরআন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্থা থাকার কারনে । আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বলতে চাই তারা খুব সহজ-সরল এবং পরনির্ভশীল নয় , কঠোর পরিশ্রমী তারা । এটি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা । এবং তারা পরনিন্দা মোটেও চর্চা করেনা । যাই হোক , তখন সে বলল দক্ষিন সুদানে খ্রিাষ্টান মিশনারী গুলো তাদের কে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষত করার জন্য আমেরিকা সহ বিভিন্ন খ্রিষ্টান দেশের আর্থিক সহ যাবতীয় সহযোগীতা দিত । এর কারন এই নয় যে তারা শিক্ষত হয়ে যাবে , এর মূল কারন ছিল চিন্তা চেতনার দুরত্ব তৈরি করা । এই ভাবে অনেক গুলো সময় পার হয়ে যাওয়ার পর তারা তাদের দেশকে দুভাগে বিভক্তি করতে উঠে পরে লেগে গেল । দক্ষিন সুদানের লোকেরা ধর্মীয় দোহাই ও পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের প্রভাবে আন্দোলন শুরু করে দিল। যদিও সুদানের প্রেসিডেন্ট বশির এর বিচক্ষনতায় সেখানে কোন বড় ধরনের অধটন ছাড়াই দেশ বিভক্তি হয়ে গেল । তবে আমেরিকার টার্গেট হলো তাদের প্রকৃতিক সম্পদ জ্বালানী তেল।
এই ব্যাপারে সিরিয়ান ছেলেটি বলল প্রায় একই সমস্য আমাদের দেশেও । অনেকেই মনে করে যে পাশ্চাত্য দেশগুলোর অনুকরন না করলে আমরা নিশ্চিত পিছিয়ে পরব । অথচ আমাদের সমাজের অধিকাংশ লোকই নিজের কর্তব্য পারনে উদাসীন । যার কারন হিসেবে সে চিন্তিত করল শিক্ষা ব্যাবস্থাকে । সে বলল : কোরআন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্থা কমে যাওয়ার কারনে মানুষের মনের আল্লাহ্ ভীরুতা কমে গেছে । তার কথায় অধিকার আদায় এর ব্যাপারে প্রায় প্রত্যকেই যেকোন আন্দেলনে ঝাপিয়ে পরতে রাজি কিন্তু কর্তব্য পালনে নিঃশ্চুপ ভুমিকায় দন্ডায়মান ।
এই বিষয় নিয়ে প্রায় ঘন্টা খানিক কথা হলো । এবং পরবর্তীতে আমি আমার টিন-এইজ বয়সের ব্যাপারে একটু চিন্তা করে দেখি , আসলে ঐ সময় টিতে প্রায় সবাই নানা ধরনের সমস্যার সামনা-সামনি হয়ে থাকে। মানুষ তার প্রতিভা কে খুঁজে পায় এই বয়সেই এবং নানাধরনের সামাজিক সমস্যা ও দেখা দেয় তার সাথে । যেমন : আমাদের দেশের মানুষ কিন্তু উচু-নিচু হিসাব করে বন্ধু-বান্ধব এর বন্ধনে আবদ্ধ হয় না, বরং এখানে আবেগ টিকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় । সবাই এমন কাউকে খুজে যে তার মনের অনুভুতি কে বুঝতে পারে ।তখন দেখা যায় তাদের মনে কিছু একটা করার প্রয়াস জন্ম নেয় , তবে সাধারনত সামাজিক ভাবেই কোন একটি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকায় নিজেদেরকে উপত্থাপন করার দিকেই বেশি ঝুকে । তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন হল ক্রীড়া্ ও সমাজ কল্ল্যান মূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা । তবে অনেক জায়গায়ই তা মারাত্বক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয় আমাদের আর্থিক অনটনের কারনে সৃষ্ট সমস্যা দ্বারা ।এদের মধ্য থেকে দুই প্রকার লোকই টিকে থাকতে পারে তবে তা বেশীর ভাগই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে , প্রথমত : এমন কোন তরুদের প্রচেষ্ঠায় তৈরী যাদের পারিবারিক মানমর্যাদা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্বার্থার্নেশী মহলের কাজে আসবে । এবং দ্বিতীয় : এমন কোন তরুন দেরকে নিয়ে গঠিত যা আমাদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মারপিট ও নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজে লাগে । কিন্তু যারা বাদ পড়ল ? তারা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল । কারন তারা মারপিট ও করতে পারবে না এবং আমাদের প্র্রচলিত নোঃরা রাজনিতি ও সমর্থন করেনা । আমার দৃষ্টি কিন্তু তাদের দিকেই । তারা সাধারনত আড্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং পরবর্তীতে কেউ লেখাপড়া দির্ঘায়ীত করে কেউবা আবার কোন না কোন কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে । এই তিন ধরনের তরুন মিলে হয়ে যায় চিরা-চরিত বাংলার জগা-খিচুরি !
আমি চাই , আমাদের তরুন সমাজ যেন এই ভাবে বিভাক্ত হয়ে না যায়। যেহেতু আমি আড্ডা কে কেন্দ্র করে আমার লিখা শুরু করেছি সেহেতু সেই আড্ডাকে ই কাজে লাগাতে চাই । আমি ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইনশাহ্ আল্লাহ্ আমার এলাকার সকল তরুন দের কে নিয়ে একটি পাঠাগার তৈরি করব, যা হবে আমাদের তরুন দের সংসদ । ফেইসবুকে আমাদের একটি প্রেইজ আছে যা ঐ লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে , যদিও তা এখনও কোন প্রতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করেনি । আমি আমার লেখার শেষে এর লিংক টি দিয়েছি আপনাদের জানার সুবিধার্থে । আমি চাইনা আমাদের এই দেশ টি বিভক্ত হয়ে যাক বিভিন্ন দল ও মতের যাতা তলে । দু একটি ক্ষেত্র ছাড়া আমাদের রাজনীতি প্রায় পুরোটাই ইসলাম বিবর্জিত । অথচ এই একটি মাত্র ব্যাবস্থাই পারে আমাদের জীবন , সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি তথা পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থা কে সঠিক পথে নিয়ন্ত্রন করতে । তবে আজকাল কিছু উদ্ভট রকমের লোকদের দেখা মিলে যারা নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় , তারা তো কোরআন কে নিয়ে নুন্যতম গবেষনা ও করে না । জানেও না যে কি নিয়ামত এই কোনআন ? তাদের কে অনু্রোধ , কোরআন এর মধ্যে নিজেকে খুঁজুন , অবশ্যই অবশ্যই পেয়ে যাবেন ।এবং এই ব্যাপারে আপনাদের সহায়তা করবে নবী করিম সাল্লাহু আলাহী সাল্লাম এর হাদিস । আমি মনে করি আমরা যদি সবাই মিলে এই ভাবে নিজ নিজ এলাকা ভিত্তিক ইসলামিক শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা মূলক সংগঠন করতে পারি তবে তা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় সফলতার দুয়ার খুলে দিবে ।আমাদের কে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষ নিতে হবে । যে কোন প্রকার ফিতনা-ফসাদ থেকে আমাদের সমাজ ও দেশ কে বাচাতে হবে । আমাদের কে এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে যা আমাদের কে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যায় । আমরা নেত্রীত্ব্ চাইনা , আমরা আমাদের কতব্য পালন করে সকলে সকলের অধিকার আদায় করে দিতে চাই এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে । ইনশাহ আল্লাহ আমরা সবাই সচেষ্ট হলে তা অসম্ভব কিছু নয় । তবে অবশ্যই তা করতে হবে ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সাথে ।
আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে আমার এই লিখাটি কোন লিখার জন্য লিখা নয় । এটি একটি আড্ডা তবে গঠন মূলক আড্ডা । আশা করি আপনারা আপনাদের মতামত জানাবেন এই আশাতে এখানে ই ইতি .................
দারউল খায়ের

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



