somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনিসের সংসার -- গল্প

১৯ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতে বৃষ্টি হবে। চারদিক অন্ধকার করে ঝড় আসবে। আনিস তার ঘড়ের দক্ষিন দিকের জানালা টা বন্ধ করে দিল,জানালা পুরোপুরি বন্ধ হয় না,ছিটকানি ভাঙ্গা।ঘরে সামান্য আলো আছে। সেই আলো ঘড় আরো বেশি অন্ধকার করে দিল।এখন বৈশাখ মাস, ঝড় বৃষ্টির মাস,কাল বৈশাখি হতে পারে। আনিসের মনে পরল, অনেক কাল আগের কথা ঝড় বৃষ্টির রাতে সে তার বাবার গায়ের সাথে লেপ্টে থাকত,তখন বয়স আর কত হবে, চার কি পাঁচ। অথচ কি পরিস্কার মনে আছে। বাবা বলতেন ভয় কিরে ব্যাটা,আমি আছি না, তুই ঘুমা। পরদিন খুব ভোরে আম কুড়াতে যেত। অনেক কাল পরে আজ আবার বাবার কথা মনে পড়ল। তার চোখ ঝাঁপসা হয়ে এল। কত নিশ্চিতেই না বাবার পাশে ঝড়ের রাতে ঘুমানো যেত। অনেকদিন হল এখন আর কেউ সেইভাবে বলে না,ভয় কিসের আমি আছি না।
আনিসের মাথা ব্যাথা শুরু হল। ব্যাথাটা এতক্ষন টের পায়নি, এখন খুব বোঝা যাচ্ছে। ইদানিং তার এই রোগ শুরু হয়েছে। আগে ছিল না,মাথা ব্যাখা হচ্ছে বড়লোকের রোগ, ভুমি অফিসের একজন দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মচারির এই রোগ হবে কেন? অফিসে খুব ঝামেলা হচ্ছে, কয়েকটা ফাইল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ওই ফাইল গুলো আনিস খুব যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছে।কাজটা রফিক সাহেবের,আনিসের ধারনা কাজটা উনিই করিয়েছেন। হেসে হেসে একটা মানুষ কিভাবে যে অন্যের ক্ষতি করে!
কখন ঘুমিয়ে পড়ল সে নিজেই জানে না। ঘুম ভাঙ্গল বেলা করে। মাখা ব্যাথাটা এখন আর নেই। সকালের শুভ্র সতেজতা মনে শরীরে আরামদায়ক আলস্য।
আজ মিরাকে কথা দেয়া আছে রাতে তাদের বাসায় খাবে । মিরার মা খুব করে বলেছে যেতেই হবে। আনিস ঘড়ি দেখলো । অনেক বেলা হয়ে গেছে । এ সময় অফিসে যাওয়ার কোনো মানে হয় না । সে বিছানা ছেড়ে বাথরুমে গেল। মুখে দাড়ি গোফেঁর জঙ্গল। মনে হচ্ছে কতদিন সেভ করেনি। তার মনে হল এক রাতে বয়স অনেকখানি বেড়ে গেছে । চোখের নিচে কালি পরেছে।
সে অনেকটা সময় নিয়ে সেভ করল ।তারপর রওনা হলো নিউমাকের্টের দিকে । তাকে কিছু একটা উপহার কিনে দেয়া দরকার । আজ তার বিশতম জন্মদিন ।
ঠিক আটটায় আনিস উপস্থিত হলো । বেল দেয়ার সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল । যেন কেউ আগে থেকেই জানত আনিস আসবে । আজ মিরাকে খুব সুন্দর দেখাচচ্ছে । এমনিতেও সে অসম্ভব সুন্দরী । চেহারায় কিশোরী সুলভ লাবন্যতা এখনো পুরোপুরি কাটেনী।
আনিস হেসে বলল শুভ জন্মদিন মিরা। মিরা কিছু বলল না, কেবল হাসলো । আনিস তার পিছু পিছু বসার ঘরে ঢুকল । সেখানে আরো একজন অতিথী আছেন । ভদ্রলোক নিচু স্বরে ফোনে কথা বলছেন । চোখ তুলে দেখলেন আবার ফোনে মন দিলেন । আনিস বসল । মিরাদের এই বসার ঘড়টা অনেক বড় । অনেকটা আগেকার জমিদারদের মত করে সাজানো । এক পাশের দেয়ালো একজন শুভ্র দাড়িওয়ালা লোকর ছবি টানানো । দোতলা বাড়িটাতে শুধু মিরা আর ওর মা থাকেন। আগে দু:সম্পকের এক খালা ও খাকতেন।বাড়ির অনেক ঘড় খালি পরে থাকে । মিরা মা আনিস কে এই বাড়িতে উঠে আসার জন্যে অনেক বার বলেছে ।আনিস আসেনি । একা থাকতেই তার বেশি ভালো লাগে ।
মিরার মা চা নিয়ে আসল । আনিস তাকে খালা ডাকে। আনিস চা নিল, অনেকটা সময় বসে গল্প করল ।মিরা চলে যেতেই খালা ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । ভদ্রলোকের ডাক নাম জামিল। তিনি দেশের বাইরে থাকেন। এই কয়েকদিন হলো দেশে এসেছেন। এখানেই খাকবেন । সেই সাথে আরও জানা হলো এর সাথেই মিরার বিয়ের কথা ভাবছেন তিনি। আনিস মনযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে । তিনি খুব সুন্দর করে গল্প করতে পারেন ।
কিছুক্ষন পরেই আনিস উঠল । তার আর ক্ষুধা নেই । মাথা ব্যাথাটা আবার বোধহয় ফিরে আসবে ।বাইরে বাতাস শুরু হয়েছে । গুরি গুরি বৃস্টিও হচ্ছে । সে পকেট থেকে বেলী ফুলের মালাটা বের করে হাতে নিল । হেটে হেটে বাসায় ফিরতে হবে, রাতে খুব বৃষ্টি হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:১৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×