কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জের লোকাল পত্রিকায় একটি ছবি ছাপা হয়েছিল, একজন সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা কম্পিউটারে গেমস খেলছে অথচ সেই কর্মকর্তার ডেস্কের সামনে দীর্ঘ মানুষের লাইন।
সোনালী ব্যাংকে লেনদেন করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞা প্রায় সকলেরই আছে। মূলত সাধারণ মানুষদের নিয়ে সোনালী ব্যাংক ইঁদুর বিড়াল খেলা খেলে। সোনালী ব্যাংক অনুরাগী কেউ হয়তো বলতে পারেন, সোনালী ব্যাংক যত ফ্রি সার্ভিস দেয় সরকারকে সেটা আর কেউ দেয় না, সোনালী ব্যাংকে প্রতিদিন যত মানুষ আসে তত মানুষ অন্য ব্যাংকে যায় না। এ প্রশ্নগুলোর উত্তরে বলছি, সোনালী ব্যাংক সরকারকে সুবিধা দেয় নিজেদের লাভের জন্য, যেন কোটি কোটি টাকা লোপাটে সহায়তা করে নেজেদের পকেটেও টু-পাইস ঢোকানো যায়। আর দ্বিতীয়ত সবচেয়ে বেশি মানুষ আসবে বলে বিনোদনের জন্য লোকজন দাঁড় করিয়ে গেমস খেলতে হবে সেটা মানা যায় না। ব্যাংকের এই সোনার স্টাফদের মনে রাখা উচিত এইসব সাধারণ মানুষের কষ্টে উপার্জন করা টাকা থেকেই আপনাদের মাস শেষে বেতন হয়!
এবার নিজের কয়েকটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি, হয়তো এই অভিজ্ঞতার কারণে পোস্টটি অনেকের কাছে প্রতি হিংসা পরায়ণ মনে হতে পারে, তারপরেও বলছি কারণ সত্য সত্যই, আর যে ঘটনা আমার সাথে ঘটেছে তা অন্য অনেকের সাথেও হয়তো ঘটেছে। একবার সোনালী ব্যাংকে ড্রাফট কাটতে গেছি, ফরম পূরণ করে কাউন্টারে টাকা জমা দিবো, লোক নেই, কোথায় গেছে নামাজ পড়তে, তখন বাজে মাত্র পৌনে একটা। যাই বুঝলাম তিনি খুবই ধার্মিক তাই আজানের আগেই নামাজে চলে গেছেন, কাউন্টারে পাশের লোককে টাকা জমা নেয়ার কথা বললাম, তিনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন আমি এইমাত্র মানুষ খুন করে এসেছি। যাইহোক ওই কর্মকর্তার নামায় দুইটা পর্যন্তও শেষ হতে না দেখে ড্রাফট করেই ফিরে আসি। পরদিন গেলাম চাষাঢ়া কর্পোরেট অফিসে। একজন কর্মকর্তা আমাকে ডেকে নিয়ে খুব বিনম্রভাবে বললো, ভাই আপনার বাড়ির আশেপাশে আর কোন ব্যাংক নেই? আপনি এখানে এসেছেন কেন? ... আর এরপর আর আসবেন না। কর্পোরেট অফিস আপনাদের পাঁচশত টাকার ব্যাংক ড্রাফট করার জন্য খোলা হয়নি। পরে আরও একবার ড্রাফট করার প্রয়োজন হলে আমি এবার গেলাম ধার্মিকদের আখড়া নারায়ণগঞ্জ ফরেন এক্সচেঞ্জে। কিন্তু এবার এক কর্মকর্তা যা শোনালেন শুনে আমি থ। এ ব্যাংক থেকে কয়েকবার ড্রাফট করলেও তিনি বললেন, এখান থেকে ড্রাফট করা যাবে না, আপনি কর্পোরেট শাখায় যান। এখন আপনারাই বলুন, আমি যদি এদের শ্বশুরের পুত্র বলি গালি দেই, তাহলে কি আমার খুব বেশি দোষ হবে? অন্যায় হবে?
বলছি না সোনালী ব্যাংকের সব অফিসারই একরকম। দশমণ দুধ নষ্ট করার জন্য যে একফোঁটা চনাই যথেষ্ট আশা করি তা কাউকে বলে দিতে হবে না।
পাদটীকা: প্রমিত বাংলা নিয়ম অনুযায়ী’ আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে সবসময় ‘ই’কার হবে। যেমন- সোনা ও আলি হবে সোনালি, রূপা ও আলি হবে রূপালি। কিন্তু এখানে বানানের ক্ষেত্রে সোনার ব্যাংকের ঝামেলা। এখন আপনার সন্তানকে আপনি পড়ালেন একরকম যে যদি ব্যাংকের সাইনবোর্ড দেখে অন্যরকম লেখে, তখন এ দায় কে নেবে!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



