বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর বিভিন্ন ইনডেক্স এর ভিত্তিতে র্যাংকিং করে থাকে। তেমনি একটি র্যাংকিং QS World University Rankings 2015 ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। এবং বিশ্বের সেরা ২০০০ ইউনিভার্সিটির মধ্যে বাংলাদেশের কোন ইউনিভার্সিটি নেই। তবে তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানেরের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে দ্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, বেঙ্গালুরু রয়েছে ১৪৭তম স্থানে এবং আইআইটি দিল্লি রয়েছে ১৭৯তম স্থানে।
যে ছয়টি সূচকের উপর র্যাংকিং করা হয়েছে :
1. Academic reputation (40%)
2. Employer reputation (10%)
3. Student-to-faculty ratio (20%)
4. Citations per faculty (20%)
5 & 6. International faculty ratio (5%) & international student ratio(5%)
র্যাংকিং এ শীর্ষেে অবস্থান করছে Massachusetts Institute of Technology ।
কেন সেরা ২০০০ ইউনিভার্সিটির মধ্যে বাংলাদেশের কোন ইউনিভার্সিটির নাম নেই?
মালোয়েশিয়ার আছে, ব্রাজিলের আছে, আর্জেন্টিনার আছে, কোরিয়ার আছে, তুরস্কের আছে, ভারতের আছে এমনকি রাজাকার রাষ্ট্র পাকিস্তানেরও একাধিক ইউনিভার্সিটি এই তালিকায় আছে।
আসুন এবার কারনগুলো দেখি। নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাঈ আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছে তাকে পরীক্ষা দিয়েই উত্তীর্ন হতে হবে, নোবেল কোটা কোন কাজে আসবে না। এখন আমাদের দেশের কথা চিন্তা করুন। উপজাতি কোটা, খেলোয়ার কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা, নারী কোটা। আমি। Employer Reputation কিভাবে হবে, যেখানে রাষ্টরের প্রথম শ্রেণীর জবে 55% কোটা!
বিদেশের ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরীতে গেলে মনে হয় এটা গুরুস্তান, পিনপতন নীরবতায় সবাই যার যার পড়াশোণা করছে। আর আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটি কী রকম সেটা নাহয় না-ই বললাম।
এবার আসি উচ্চশিক্ষায় গবেষণা প্রসংগে। বিদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোতে গবেষণা খাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। আর আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে এ খাতে কোন বরাদ্দ নেই। বুয়েটের মমতো একটা বিশ্ববিদ্যালয় বছরে মাত্র একটা গবেষণা সফল হয়! কারণ আমরা গরীব রাষ্ট্র?!
শিক্ষকদের অবস্থা দেখুন। ফাইভ পাশ করা কাউকে যদি প্রাইমারী স্কুলের টিচার বানানো হয় কিংবা এসএসসি পাশ করার পরদিনই যদি কাউকে হাইস্কুলের টিচার বানিয়ে দেওয়া হয়, অবস্থা কেমন হবে?বর্তমানে অনার্স শেষ করতেই অনেকে ইউনিভার্সিটির টিচার হয়ে পড়েন। না আছে কোন মৌলিক গবেষনাগ্রন্থ, বিশেষ প্রবন্ধ, না আছে প্রশিক্ষন!
আর ব্যাক্তিত্বহীনতা তো আছেই। এরা স্টুডেন্টদের কী শিখাবেন?
আর যারা অপেক্ষাকৃত ভালো তারা বিদেশ চলে যান।
রাজনীতি, টেন্ডারবাজি, হলদখল আর নাই বা বললাম।
সবচেয়ে বড় কথা হলো এ নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই।
শিক্ষামন্ত্রী কিংবা শিক্ষাবিদরা এ নিয়ে চিন্তাই করেন না। দরিদ্র রাষ্ট্র হওয়ার পরও বুয়েন্স আয়ার্স কিংবা কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটি পারলে আমরা পারবো না কেন?
ফেসবুকে কাউসার আলমের পোস্ট থেকে একটা জিনিস শেয়ার না করে পারছি না, ভুলে গেলে চলবে না,একটা দেশের উন্নতি জাতীয় সংগীত গাওয়া, ক্রিকেট খেলা কিংবা সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সে দেশের ইউনিভার্সিটির উপর।
জাতি হিসাবে আমরা অনেক এগিয়েছি। কেন উচ্চশিক্ষায় আরেকটু নয়?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




