somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্র জীবনের গল্প

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ থেকে শত সহস্র মাইল দূরে বিশাল নীল জলরাশির মধ্যে শোঁ শোঁ শব্দে পানি কেটে এগিয়ে চলছে একটি জাহাজ। নাবিকেরা সবাই বাংলাদেশি। মাসের পর মাস দেশ থেকে, মাটি থেকে আর প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। বেতন হিসেবে পাওয়া ইউ এস ডলার বা ইউরো গুলো পাঠিয়ে দিচ্ছে দেশে। মাঝে মাঝে বুকের কোনে নিঃসঙ্গতার সুর বাজে। কাজের ফাঁকে হয়ত মনে পড়ে যায় প্রিয়জনের মুখটা। গুন গুন করে কেউ হয়ত গেয়ে উঠে “ওরে নীল দরিয়া, আমায় দে রে দে ছাড়িয়া।/ বন্দী হইয়া মনয়া পাখি হায়রে কান্দে রইয়া রইয়া।”
সমুদ্র জীবন নিয়ে মানুষের অনেক কৌতূহল থাকে। আমার সমুদ্র জীবনের মাত্র ১২ মাস হতে চলল। এখনও এই ক্যারিয়ারে আমি ছুটু মানুষ। আজ সমুদ্র জীবনের কিছু মজার গল্প শেয়ার করি। আগেই বলে রাখি। এগুলো সব শোনা গল্প অথবা বিভিন্ন জায়গায় পড়া। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নয়। তবে মনে হয় সবারই ভালো লাগবে। বিশেষ করে ব্লগে আমার মেরিনার বন্ধুদের।
IRISL ইরানের জাতীয় শিপিং কোম্পানি। বাংলাদেশের যেমন BSC. ওই জাহাজে কোন এক অফিসার। ৯ মাসের কন্ট্রাক্ট পেপার সাইন করে উঠেছে। এর মধ্যে জাহাজ পুরা দুনিয়া এক চক্কর দিয়ে ফেলেছে। ৯ মাস শেষ হয়ে ১০ মাস, ১১ মাস, ১২ মাস। কোম্পানি সাইন অফ ই করায় না। এই পোর্ট এ এই প্রবলেম, ওই পোর্ট এ এই প্রবলেম এসব হাবিজাবি বলে বেচারার সাইন অফ ব্লক। হয়ত তাদের ইচ্ছা জাহাজ আবার ঘুরে ইরান গেলেই ওরে নামাবো। তো এবার এক ক্রু তাকে বুদ্ধি দিল। স্যার আমি তো এই কোম্পানিতে বহুত দিন আছি। এক কাজ করেন। আবার সাইন অফ লেটার দেন। তবে সাইন অফের কারন হিসাবে লেখেন আমার বউয়ের বাচ্চা হবে। জরুরী ভিত্তিতে নামা দরকার। মুসলিম দেশ তো। এই জিনিসকে গুরত্ব দেয় আর আপনার সাইন অফ কনফার্ম। ওই অফিসার তাই করলো এবং হাতে হাতে ফল। নেক্সট পোর্ট এই প্লেন টিকিট ধরায়া বাড়ি পাঠায়া দিল। কিন্তু পরে সবাই বুঝতে পারলো আয়হায় এইটা কি হইল। কোম্পানি বুঝতে পারলো না ক্যান?:P:D:P:D.........। যাহোক আপনি ধরতে পেরেছেন তো??;)
আরেকটা ঘটনা বলি। আমাদের দেশি কোন একটা জাহাজের ঘটনা। ওই জাহাজে নতুন (ফ্রেশ) একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (জুনিয়র) উঠেছে। তো জাহাজের ডেক ক্যাডেট আর থার্ড মেট প্ল্যান করলো ওরে বকরা বানানো যায় কিভাবে। প্ল্যান অনুযায়ী তার কাছে গিয়ে বলা হল, জাহাজের সিস্টেম অনুযায়ী সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আপনাকে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল পরিশোধ করা লাগবে। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে তার কাছে বিল আসতে থাকল। জাহাজের কম্পিউটার রুম থেকে প্রিন্ট করা সুদৃশ্য বিল। তার উপর আবার মাস্টার এর সিল। অবিশ্বাসের কোন কারন নেই। খালি পানি আর বিদ্যুতের দাম টাই অবিশ্বাস্য। কখনো ৪.২৫ ডলার, কখনো ৫.৩৭ ডলার, কখনো ৩.৬৯ ডলার। এরকম অড ফিগার। বেচারা ভেবেই পায় না কোন মিটার ছাড়া এত নিখুঁত হিসাব জাহাজে কিভাবে করে। শুরু করলো রেশনিং। পানি খরচ কমিয়ে দুই দিনে একবার গোসল করা শুরু করলো। কেবিনে বিদ্যুতের অপচয় কমাতে এসি, ফ্যান, লাইট, টিভি সব অফ। তাও মাস শেষে বিল হিসাবে ১৫ ডলারের মত পে করা লাগলো। বাপরে না করেই এই অবস্থা। খরচ করলে তো পুরা বেতন ই যাইত এই ভেবে বেচারা শিহরিত হয়। আর পুলকিত হয় যাহোক খাদ্য তো ফ্রি। এটা দিয়া ওইটা পুসায়া নিমু। কিন্তু কয়দিন পর এক পার্টিতে যখন তাকে বিশেষ বকরা পুরস্কার হিসেবে ১৫ ডলার দেয়া হল:D এবং সবার সামনে ঘোষণা করা হল তখন সে বুঝতে পারলো আসলে সে ষড়যন্ত্রের শিকার।:((:(( এতদিন সবাই মজা দেখার জন্য বিষয়টা চেপে যাচ্ছিল। X((X((
আজ এ পর্যন্তই থাক। আরেকদিন সময় পেলে লিখব। ভালো থাকবেন সবাই। আজ কালের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছি দেশ ছেড়ে। দোয়া করবেন।



সমুদ্রবাড়ি

তারা পরিচিতি- কালপুরুষ, THE ORION

তারা পরিচিতি- সপ্তর্ষিমণ্ডল, THE URSA MAJOR

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×