somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঃএকটি রুপক গল্প বা অবচেতন মনের খেয়ালীপনাঃ

২৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন একটা কবিতার একটা লাইন পড়ে হঠাৎ একটা গল্প লিখতে ইচ্ছা হল । এটা আমার প্রথম গল্প ।
কালু ও মাছুম দুই বন্ধু আজ থেকে ৪০ বছর আগে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে মুক্তিযুদ্ধে নৃসংশ ভাবে শহীদ হয়েছিল । এই মৃত্যুতে তাদের কোন অনুশোচনা ছিলনা ছিল একরাশ আশা, দেশ স্বাধীন হবে , দেশের মানুষ সুখে শান্তিতে থাকবে , সবাই মিলে এ দেশটাকে উন্নতি করবে । তখন এদেশে থাকবেনা কোন জুলুম নির্যাতন, ক্ষুধা দারিদ্র , সবাই স্বাধীন ভাবে নি:শ্বাস নিবে । আজ ৪০ বছর পর কালু ও মাছুমের ইচ্ছা হল নিজের দেশটাকে একটু দেখার । তারা কবরের রক্ষীদের অনুমতি চাইলে প্রথমত দিতে চাইনি পরে স্বাধীন বাংলার কথা শুনে অনুমিত দেয় । সে মোতাবেক তারা দুজন ২৬ শে মার্চ খুব সকালে বের হল দেশ ভ্রমনে প্রথমেই দেখল ছোট বড় নারী পুরুষ সকলের কারো হাতে কারো মাথায় শোভা পাচ্ছে লাল সবুজের পতাকা । বড়ই প্রীত হল দুজনে ।
কালু : বড় ভাল লাগছে রে মাছুম এই একটা লাল সবুজ রং খচিত পতাকার জন্যই তো যুদ্ধ করেছিলাম । দিলে শান্তি পালাম ।
মাছুম: আমার ও অনেক আনন্দ লাগছে , কিন্ত ওরা যাচ্ছে কোথায় ?
কালু: চল ঐ ছেলেটিকে জিঙ্গাসা করি , তারা পাশেই দাড়ানো একটি ছেলেকে জিঙ্গাসা করল । ছেলেটি জানাল আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবস তাই আমরা স্মৃতি শৌধে যাচ্ছি শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ।
মাছুম : দেখ কালু এত হাজার হাজার মানূষ এত এত ফুল দিয়ে আমাদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে , যুদ্ধ করে আমাদের জীবন টা স্বার্থকই হয়েছে ।
কালু: সবাই কি সুন্দর ভাবে একে অপরের হাতে হাত ধরে লাইন দিয়ে ফুল দিচ্ছে সত্যিই আমাদের দেশের মানূষ কত ভাল আর শিক্ষিত ।
এর কিছু পর দেখা গেল সম্পূর্ন বিপরিত চিত্র হঠাৎ করে শুরু হল মারা মারি এক দল আরেক দলকে লাঠি সোটা দিয়ে পেটাচ্ছে , দোকান ভাঙ্গচুর করছে ,আর কিছু ছেলে গাড়ী ভাঙ্গচুর করছে এ দেখে কালু বলল এদেশে একনও পাকিস্থানী আছে ? পাশে থেকে একজন বলল আরে না এরা বাংলাদেশীই এটা শুনে মাছুম বলল আশ্চর্য এই ছাত্র ও যুব সমাজ ৭১ সালে দেশকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করেছিল তারাই আজ নিজেদেরে মধ্যে মারামারি করছে দেশের সম্পদ নষ্ট করছে ?
মাছুম : চল অন্য দিকে দেখি এই বলে তারা হাটছে আর বিভীন্ন জিনিস দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে ।
কালু : রাস্তায় অনেক সুন্দর সুন্দর রং বে রংয়ের এত এত গাড়ী মনে হয় দেশটা অনেক উন্নতি হয়েছে
কিন্তু এতক্ষন থেকে জ্যাম লেগে আছে কেন ?
মাছুম : দেখ না কেউ ট্রাফিক সিগনাল মানছে না লাল বাতি জলছে অথচ সবাই আগে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে ।
কালু: সিগনালে দাড়িয়ে আনেক মানূষ ভিক্ষা করছে এ গাড়ী থেকে সে গাড়ী ছোট ছোট ছেলে মেয়ে , বৃদ্ধ বৃদ্ধা ।
মাছুম: এদশে মানূষ এখনও ভিক্ষা করে ? কেউ কেউ দামী গাড়ীতে ঘুরছে আর কেউ শেষ বয়সেও ভিক্ষা করছে !
কালু : ঐ দেখ কত বৃদ্ধ এক চাচা রিক্সা চালাচ্ছে আর তার ছেলের বয়সি একটা ছেলে তার রিক্সায় বসে বসে সিগারেট টানছে । হায়রে মানুষের বিবেক !!
মাছুম : চল সামনে যায় । এর পর তারা হাটতে হাটতে বিজয় স্বরনীতে আসল । এখানে এসে দেখল অনেক মানূষ কলসি পাতিল নিয়ে মিছিল করছে । এরা আবার আন্দোলরন করছে কেন ? পাশ থেকে একজন বলল পানির জন্য ।
কালু : আমাদের এই নদী মাতৃক দেশে মানূষ কে পানির জন্যও আন্দোলন করতে হয় ? পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠল মিরপুর আর পুরান ঢাকার অবস্থা তো আরো খারাপ ।
মাছুম : চল কালু ফিরে যায় এসব দেখে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে ।
কালু: দাড়া এসেছি যখন আরো কিছুটা সময় দেখি । এর পর তারা গেল মতিঝিলে , দেখে এখানেও অনেক মানূষ মিছিল করছে । জিঙ্গাসা করায় জানতে পারল শেয়ার বাজারে বিনিঢেয়াগ করে স্বর্বস্ব হারিয়ে ৩০ লক্ষ মানূষ রাস্তায় বসেছে । শেয়ার বাজার জিনিস টা তেমন বুঝল না তারা ।
মাছুম : ৩০ লক্ষ মানূষ ক্ষতিগ্রস্থ ! স্বাধীনতা যুদ্ধেও তো এত মানূষ ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি । এরপর তারা সামনে হাটতে হাটতে একটি পত্রিকার স্টল দেখতে ফেল ।
কালু : চল একটু পত্রিকা পড়ি । এই বলে তারা উভয়ে পত্রিকা পড়তে লাগল ।
মাছুম: দেখ কালু এই পত্রিকাই লিখেছে , সমুদ্র জয় , বাংলাদেশ ২০০ নটিক্যাল মাইল সমুদ্র জয় করেছে ।
কালু: এটাতো খুব ভাল খবর । কিন্তু এই পত্রিকাটাতে লিখেছে বাংলাদেশে আমেরিকান সৈন্যের অবস্থান । বিশেষজ্ঞ মহলের উদ্বেগ প্রকাশ ।
এাছুম : এটা কিভাবে সম্ভব যুদ্ধ করে এক দেশ কে তাড়িয়েছি এখন আবার এদেরকে কে ঢুকতে দিল তাহলে তো আমাদের দেশের স্বার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরুপ । তাহলে যুদ্ধ করলাম কিসের জন্য স্বাধীন দেশে অন্য দেশের সৈন্য থাকার জন্য !!!
কালু: আর দেখ এই পত্রিকাটাতে লিখেছে ফারাক্কার বাধের পর টিপাই মুখ সহ আরো অনেক নদীর উপর বাধ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে । সচেতন মহলের মতে এটা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীই মরুভূমিতে পরিনত হবে । সিউরে উঠে মাছুম ।
মাছুম : দেশের মানূষ কি করছে তাহলে ? মুক্তি যোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি করছে ? কোন প্রতিবাদ করছে না । ??
কালু: পত্রিকা পড়তে আর ভাল লাগছে নারে চল একটু নদীর ধার থেকে ঘুরে আসি । এই বলে তারা বুড়িগঙ্গার তীরে যায় ।
মাছুম : নদীর পানি এত কালো কেন আর এত কম পানি ? আমাদের সময় তো নদীর ভরা যৌবন ও স্বচ্ছ পানি ছিল ।
কালু: চল সন্ধ্যা হয়ে আসছে ফিরে যায়।
মাছুম : হ্যা চল ।
সন্ধ্যা নামে তারা হাটছে এমন সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় ।
কালু : কি ব্যাপার রে মাছুম সব অন্ধকার হয়ে গেল কারন কি ? পাশ থেকে বলে একজন বলে উঠল বিদ্যুৎ চলে গেছে ।
কালু:আর আসবে না ?
পথিক: আসবে তবে ঘন্টা দেড়েক পর ।
কালু: কেন ?
পথিক : দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম তাই ঘন্টাই ঘন্টাই বিদ্যুৎ যায় । গরম আর বিদ্যুতের জন্ত্রনায় মানূষের বারোটা বেজে যাচ্ছে । দেশের শিল্প খাত তো বন্ধ হবার উপত্রুম ।
কালু: ৪০ বছরেও বিদ্যুতের সমাধান হয় নি !
মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে ওরা দুজন এমন সময় দেখে ফুটপাতের উপর অনেক মানূষ শুয়ে আছে । কারো বিছানা নাই বালিশ নাই থাকলেও শত ছিন্ন ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ - বৃদ্ধাও এদের কাতারে আছে । দুখিনি মা তার সন্তানকে আগলে রাখার মিথ্যা প্রচেষ্টা করছে । পাশ দিয়ে শত মানূষ হেটে যাচ্ছে কিন্তু কেউ তাদের দিকে তাকিয়েও দেখছে না । অথচ তারা ছোট বেলায় দেখেছে বাবা চাচারা একে অপরের বিপদে আপদে এগিয়ে আসতে । হঠাৎ মনে হল তাহলে কি তাদের বাবা মা , আত্নীয় স্বজন সবার একই অবস্থা? ৪০ বছর আগে তাদের বাবা মায়ের কোল খালি করে কি লাভ হয়েছে ।
এসব দেখে ওদের মন খুব খারাপ হয়ে গেল । আত্নীয় স্বজন কে দেখতে যাওয়ার আর সাহস হল না । ৪০ বছর পর কি আশা নিয়ে দেখতে এসেছিলাম আর কি দেখছি । এমন সময় তাদের কানে ভেসে আসে হায়দার আলীর সেই বিখ্যাত গান “ কি দেখার কথা কি দেখছি কি শোনার কথা কি শুনছি ........... ত্রিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুজছি !! ” দুজনের চোখ ভিজে উঠল এই জন্যই কি তারা যুদ্ধ করেছিল দেশ স্বাধীন করেছিল । রাগের চোটে বলল কত কষ্ট করে যুদ্ধ করলাম দেশ স্বাধীন করলাম তার প্রতিদান এই ।
মাছুম : ৯ মাসে দেশ স্বাধীন করে ভুল করেছি যদি ৯ বছরে স্বাধীন হত তবেই এরা বুঝত স্বাধীনতার মর্ম । একরাশ কষ্ট নিয়ে ফিরে গেল ওরা ।
আশা করি এই লিখাটা নিয়ে কেউ বিতর্ক করেবেন না । কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য না ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১০:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×