somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই সাকা নাকি সেই সাকা না???

২৯ শে জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাকা চৌধুরী নাকি ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চের পর দেশেই ছিলো্ না...
উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পাকিস্তানে ছিলো...
লও ঠ্যালা...
তাহলে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতন চন্দ্র সিংহকে কে হত্যা করলো...?
নাকি কেউ তাঁকে হত্যা করে নাই...
তিনি এখনো জীবিত আছেন...?

মানুষ আজকাল খুবই বিরক্ত রাজাকারদের মামলা পরিচলনাকারিদের এহেন যুক্তিতে। একটা না দুইটা না এই পর্যন্ত পরপর তিনজন যুদ্ধাপরাধীর পরিচয় পরিবর্তন করে মামলা পরিচালনা করেছে এই লোকগুলো।
এই কাদের মোল্লা নাকি সেই কাদের মোল্লা না,
কাদের মোল্লা নাকি ১৯৭১ সালে মিরপুর কি জিনিস সেটিও জানতো না; কসাই কাদের নামের কোন এক বিহারীর অপরাধের দায় মোল্লা সাহেবের ওপর চাপানো হয়েছে। তারপর এই সাইদি নাকি সেই সাইদি না; দেলু শিকদার নামের কোন মানুষের অপরাধের এই নিরপরাধ মানুষটাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি নাকি তখন দুগ্ধপোস্য শিশু; জামাতের নামও শোনেনি।
এবং এখন এই সাকা চৌধুরীও সেই সাকা না,
সাকা তখন পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।
ডিফেন্স এই তিনজনের ক্ষেত্রে একই নিয়মে মামলা পরিচলনা করেছে। বারবার বলা হয়েছে ‘এই কাদের/সাইদি/সাকা নাকি যুদ্ধকালীন গনহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া সেই কাদের/সাইদি/সাকা নয়’ অন্য কোন মানুষের অপরাধের দায়ে তাদের মক্কেলদের ফাঁসানো হচ্ছে। তদের বিরুদ্ধে যে অপরাধের দায় দেয়া হয়েছে সেই অপরাধগুলো সংগঠিত হলেও তাদের মক্কেল সেখানে উপস্থিত ছিলো না!!!
মজাটা হচ্ছে একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে হলে সত্যি হতেও পারতো-
কিন্তু পরপর দুইজন না তিন তিন জনের ক্ষেত্রে মেনে নেয়া একটু কষ্টকর বৈ কি।
আসলে একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় কাদের মোল্লা, সাইদি এবং সাকা চৌধুরী তিনজনই ১৯৭১ সালে তেমন পরিচিত কেউ ছিলো না কিন্তু অন্যদিকে মুজাহিদ, নিজামি, গোলাম আযম এরা যথাক্রমে থানা, জেলা, শহর, দেশ এমনকি আন্তর্জাতিক ভাবেও সুপরিচিত ছিলো ১৯৭১-এর আগে থেকেই, এরা সবাই একেবারে কেন্দ্রে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলো রাজাকার-আলবদর-আলশামস কিলিং স্কোয়াডদের। আর তাই তাদের পরিচয় গোপন করে অন্য কাউকে মুজাহিদ/নিজামি/গোলাম বানানোর নাটক জামাত করতে পারেনি। এটা তাদের একটা স্ট্রাটিজি।

যাই হোক রায় প্রকাশের পর থলের বিড়াল বের হলো; মোটমাট শ'খানেক সাক্ষী আদালতে দাঁড়িয়ে সাইদি, কাদের মোল্লা, সাকাকে সনাক্ত করল। এর বাইরেও এই ফেসবুকে আমরা দেখলাম কাদের মোল্লার এক সময়ের সহপাঠী মোজাম্মেল এইচ খান একটা স্ট্যঅ্সা দিয়ে সনাক্ত করলেন মোল্লাকে। মোজাম্মেল কাকা যতদিন জীবিত আছেন যে কেউ তাদের 'কাদের মোল্লা' বিভ্রান্তি নিয়ে একেবারে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। এছাড়া আরেকজন সেলিব্রেটি সাক্ষী শহিদুল হোক মামাও যথেষ্ট এভেইলেবল।
সাইদির বেলায়ও তার হিসাব গোলমাল করলো তার নিজের একটা সাক্ষাৎকার, নিজের কণ্ঠে স্বীকার করলো তার জন্ম পিরোজপুর জেলায়, ১লা ফেব্রুয়ারী, ১৯৪০ সালে। তার মানে ১৯৭১ সালে ৩১ বছরের তাগড়া নওজোয়ান। তারপর বেফাঁসে আরও একটা কথা বলে ফেললেন নিজ মুখেই- ১৯৭০ সাল থেকে সাইদি জামাতের রোকন ছিলো।
তা- ১৯৭০ সালে জামাতের উচ্চপদস্থ একজন ব্যাক্তি ১৯৭১ সালে কি কি করতে পারে সেটা বাংলাদেশের মানুষদের ধারণায় আছে। এরপর প্রচুর সাক্ষ্য-প্রমাণ তো আছেই।

এরপর এলো সাকা চৌধুরী, এই নিস্পাপ মানুষটি নাকি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণও শুনেছিলেন। তারপর ২৯ মার্চ করাচী চলে যান পড়ালেখা করতে। আসামিপক্ষ ৪-জন সাক্ষী আনলেন তাদের দাবীর পক্ষে- একজন সাক্ষী সাকা নিজে!! (বিনোদন), একজন সাকার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়!! (রায়ে ফাস্ট কাজিন লেখা হয়েছে), একজন সাকার স্ত্রীর বোনের স্বামী!! (বিনোদন), একজন সাকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু!! (বিনোদন)।
সাক্ষির নমুনা দেখুন!!
আত্মিয়-স্বজন আর আসামি স্বয়ং নিজেকে শনাক্ত করলো!!!
অপরদিকে আমাদের প্রসিকিউশান সাকার ১৯৭১ সালে এই দেশে উপস্থিতির পক্ষে এমন কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করলেন; যেগুলো এক কথায় ফ্যান্টাসটিক!!!

মুক্তিযুদ্ধের সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বর্বর নির্যাতনের জন্য তাকে হত্যা চেষ্টায় তিনবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিবারই একটুর জন্য বেঁচে গেলেও শেষবারের অভিযানে গুরুতর আহত হয় সাকা। নিহত হয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। পরদিন পাকিস্তান টাইমস, বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকার খবরে তাঁর আহত হওয়ার কথা জানা যায়। লাহোরের পাকিস্তান টাইমসে সংবাদটি পরিবেশিত হয়েছিল পিপিআইয়ের বরাত দিয়ে। পাকিস্তান টাইমসের বরাত দিয়ে পরে ওই সংবাদ প্রকাশ করে বাংলা দৈনিক পাকিস্তানও।

‘বোমার আঘাতে ফজলুল কাদেরের ছেলে আহত : গুলিতে ড্রাইভার নিহত’ শিরোনামে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কনভেনশন মুসলিম লীগ প্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলের ওপর হামলা চালালে তিনি আহত হন। গত ২০ শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) রাতে ঢাকায় জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে গাড়ীতে তাঁর ছেলে ছিল সে গাড়ির ড্রাইভার এই হামলার ফলে নিহত হয়েছে।’
দৈনিক পাকিস্তানের ওই সংবাদে ফজলুল কাদের চৌধুরীর আহত ছেলের নাম উল্লেখ না করা হলেও তখনকার পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো এক গোপন রিপোর্টে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম রয়েছে। ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান ফর দ্য সেকেন্ড হাফ অব সেপ্টেম্বর ১৯৭১ শীর্ষক ওই রিপোর্টে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আহত হওয়ার ঘটনার বিবরণ আছে। আদালতে সেই ফাইলও যুক্ত করা হয়েছে।
সেখান থেকে আহত সাকাকে চট্রগ্রাম মেডিক্যালে নেয়া হয় এবং সেখানকার তখনাকর কর্মরত ডাক্তার এ কে এম শরিফুদ্দিন ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীকে সনাক্ত করেন। তার সু চিকিৎসা যে নিশ্চিত হয়েছিলো তার পূর্ণাঙ্গ বিবিরণ দেন।
এছাড়া সাক্ষী নাম্বার ২, ৪, ৬, ৭, ১৪, ১৫, ১৭, ১৯, ২২, ২৪, ২৮, ৩১, ৩২, ৩৭ -মোট ১৪ জন সাক্ষী মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে সাকাকে সনাক্ত করেছে, এদের অনেকেই তাকে নিজ হাতে খুন করতে দেখেছে। অনেকে দেখেছে পাকিদের গাড়িতে, অনেকে সরাসরি নির্যাতনের শিকার তার হাতে...
স্যালুট রাস্ট্রপক্ষ আইনজীবীদের...
স্যালুট বিচারকদের...
সব শেষে সেই পুরনো কথাই বলবো
আর কিছু না হোক...
অত্যাচারে কাতর মৃতপ্রায় তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা-
জীবনে শেষ বারের মত পানি খেতে চাইলে
যেই সাকা তার প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করতো...
তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার সময় যেন-
মাথাটা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়...

লিখাটা ভালো লাগলো তাই শেয়ার করলাম.....।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮



ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×