somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক মিনিটের ছোট গল্প- ভালোবাসার লাল পাথর।

০২ রা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এক মিনিটের ছোট গল্প- ভালোবাসার লাল পাথর।


বুলবুলি নীড়ে ফিরে এসে দেখে ঠোঁটে ফুলের পাঁপড়ি নিয়ে বুলবুল অনেক আগেই গাছের ডালে বসে আছে।বুলবুলি বলে-আমি এবারও হেরে গেলাম বুলবুল। তবে জেনে রাখো ,আমি একদিন তোমাকে প্রেমে হারাবোই।

বুলবুল হেসে বলে- যেদিন তুমি আমাকে হারাবে সেদিন তুমি একটা লাল পাথর হয়ে যাবে। পাখি কি কোনোদিন লাল পাথর হয়? তাই তুমি পাথরও হবেনা, আমাকে হারাতেও পারবেনা।

পাশে এক মুনিয়া পাখী। বাতাসে তার মিষ্টি শিশ ভেসে আসে। মুনিয়া বলে- " ভালোবাসার রঙ লাগে যার, শরীর টুকটুকে লাল হয় তার।"

বুলবুলি সে কথা শুনে বলে,- দেখো কী সুন্দর এক লাল কৃষ্নচূড়া। লাল রঙ দেখলেই আমার বুকের ভিতর ভালোবাসা নদী উদ্বেলিত হয়। রোমান্চিত রেণু পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বুলবুল দূরে উড়ে যায়। ফিরে আসে কিছুক্ষণ পরে। বুলবুলি দেখে কী অপরুপ টুকটুকে লাল হয়ে ফিরে এসেছে বুলবুল। দেখতে কী যে ভালো লাগে। কিন্তু একি। বুলবুলি কি যেন ভেবে পাশেই গোলাপ কাননে উড়ে যায়। গিয়ে দেখে গোলাপের কাঁটায় কাঁটায় লেগে আছে বুলবুলের পালক।
বুলবুলি মনে মনে বলে- আমিও একদিন আরো বেশী লাল হবো। একেবারে রক্তলাল শাড়ী পরে তোমার সামনে এসে দাঁড়াবো।

তারপর, কতবার ঠোঁটে সবুজ ঘাস, সোনা ঝরা ধান, নতুন মন্জরি , হলুদ পাতা ,পুষ্পরেণু নিয়ে এসে বুলবুলি দেখে বুলবুল অনেক আগেই নীড়ে ফিরে বুলবুলির অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। ভালোবাসার কোনো প্রতিযোগিতায় সে বুলবুলকে হারাতে পারেনা।

কালকের দিনটি তবে একেবারে অন্যরকম। এ প্রতিযোগিতায় ওকে জিততেই হবে। ও যে বড় বেশী ভালোবাসে ওর বুলবুলকে।

প্রচন্ড শীতের রাত। ভোরের প্রথমলগনে ফুটবে শীতের অতি দূর্লভ নার্গিস ফুল। সেই প্রথম ফোঁটা ফুলের রেণু যে নিয়ে আসতে পারবে সেই জিতবে।নীড়ে বুঝি দুজনার প্রতীক্ষার প্রহর আজ শেষ হয়না। ব্যথা আর কুয়াশার ভিতর একসময় সন্ধ্যা নামে।

ভোরের আলো ফুটার আগেই বুলবুল আকাশে উড়াল দেয়। বুলবুলি যেন এতটুকুও বুঝতে না পারে। প্রিয়তমার ঘুম ভাঙ্গার আগেই সে নিয়ে আসতে চায় প্রথম ফুটা পুষ্পরেণু।

নার্গিস বনের ওপর ফর্সা আভা একটু একটু করে পড়তে শুরু করেছে। বুলবুল খুব খুশী। ওযে তার বুলবুলিকে কত বেশী ভালোবাসে। শ্রেষ্ঠতম প্রেমের নিদর্শণ নার্গিসের সৌরভে বুলবুলিকে সে সুরভিত করবে।

বুলবুল বনে নেমে আসে। একপাশে গোলাপ। আরেক পাশে নার্গিস। একটু একটু করে উড়ে সেই প্রথম কলি ফোঁটা নার্গিস ফুলটির কাছে গিয়ে প্রিয়তমার জন্য পুষ্পরেণু তোলে নেয়। এবার ঘুম থেকে জাগার আগেই বুলবুলিকে অবাক করে দেয়ার পালা।

কিন্তু হঠাৎ দেখে নিকটেই গোলাপ গাছটির নীচে নার্গিস ফুলের রেণু ঠোঁটে নিয়ে তার গভীর প্রণয়ের প্রিয়তমা বুলবুলি রক্তলাল হয়ে শুয়ে আছে মাটিতে। আর কোমল দেহখানা ঠান্ডায় জমে গিয়ে যেন নীরব, নিথর,নিস্তব্ধ এক পাথর হয়ে আছে।

বুলবুল বুঝতে পারে -প্রথম ফুটা নার্গিসের প্রেমমধু বুলবুলকে আগেই উপহার দেয়ার জন্য এই প্রচন্ড শীতের রাতে বুলবুলি সারারাতভর নার্গিস বনেই কাটিয়ে আগ্রাসী শীতের কষ্ট সহ্য করতে না পারে নিজেকেই সে মৃত্যুর কাছে সঁপে দিয়েছে। আর রক্তলাল হওয়ার জন্য গোলাপের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে লাল শাড়ি পড়ে আছে।

তার কথাই সত্যি হলো-প্রেমে জিততে গিয়ে প্রিয়তমা অবশেষে একটা লাল পাথর হয়ে গেলো।

বুলবুলের চোখে নামে অশ্রু।গোলাপ সে কান্না দেখতে পেয়েও কিছুই করার থাকেনা। শুধু তার পাঁপড়ি দুঃখ আর বিলাপ হয়ে দুজনার ওপর ঝরতে থাকে।

"বুলবুলি নিরব নার্গিস বনে,
ঝরা বন গোলাপের বিলাপ শুনে।"

(প্রবাসী পাঠক ভাই আর মাহমুদ ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ আমাকে পুশ করে গল্পটি লিখিয়ে নেয়ার জন্য। )
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৩
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×