কলকাইত্তা পকেটমার মদনার নিমন্ত্রণে ঢাকাইয়া পকেটমার মপিজ বেড়াতে এসেছে।
মদনাঃ ব্যবসা কেমন চলছে গো দাদা?
মপিজঃ আমরা ঢাকার পোলা, এ কও কিলা, এক চুটকিতেই চালাই খেলা।
টিকাটুলি থেকে সায়েদাবাদ, আর গাবতলী থেকে মীরপুর
দু আঙ্গুলেই কাটছিগো দাদা- সকাল, সন্ধ্যা, রাত দুপুর।
মদনা মপিজের কথায় খুব খুশী হয়। দুজনে একবারে হরিহর বন্ধু। কথা বলতে বলতে রসগোল্লার দোকানে ঢুকে। মদনা বলে- তুমি আমার শহরে এসেছো , একেবারে বেশ করে খাও। দেশে গিয়ে বদনাম করিসনে গো দাদাভাই।
দুজনে ইচ্ছেমতো খেয়ে বের হয়। মদনা শুধু মপিজের খাওয়ার বিলই পরিশোধ করেনা। নিজ টাকায় বন্ধুর জন্য টিকেট কাটে।এমনকি আরো কয়েকটি রসগোল্লার হাড়ি মপিজের জন্য কিনে দিয়ে বন্ধুকে বিদেয় করে।
এইপাড়ে এসে মপিজ একটা সিগারেট কিনতে যাবে। পকেটে হাত দিয়ে দেখে - কাম সারছে। রসগোল্লার দোকানেই মদনা যা ঘটানোর ঘটিয়েছে। সে মিটমিট করে হাসে। ঠিকই আছে, পকেটমারের সংবিধানে- ভাই, বেরাদর, বন্ধু স্বজন- সবাই কাস্টমার। সুযোগ পেলেই মেরে দিতে হয়। না হলে যে পকেটমারের স্বভাব আর চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়।
মদনা ঘরে ফিরতেই তার স্ত্রী বলে- কিগো- বন্ধুরে পেয়ে যে বউকে একেবারে ভুলে গেলে। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
কয়টা'র কথা খেয়াল হতেই মদনা হাতের দিকে চেয়ে দেখে- এদিকেও কাম একেবারে সারার মতো সারছে। মপিজকে এতো চোখে চোখে রাখার পরও - চুটকিতেই কোন ফাঁকে মেরে দিয়েছে।
এর কিছুদিন পর- মদনা এবার ঢাকা আসে। দোয়েল চত্বর পার হয়ে চীনাবাদাম খেতে খেতে দুজন রমনা পার্কে ঢুকে ।
দুজন দুজনাকে খুব ভালো করে নজরে রেখেছে। চোখের বাইরে কেউ কাউরে যেতে দেয়না।
মপিজ বলে,তা, আবে হালায় আছোস ক্যামন? মালপাতি কাটতাছোস কেমন?
মদনাঃ আর দাদা বলিস্ না।
হাওড়া থেকে শিয়ালদহ , রেসকোর্স থেকে শালিমার।
নাচাইছি কলকাত্তা শহর, সব যে দু আঙ্গুলের কারবার।
মপিজঃ আবে কামডা করছস কি? এই পার্ক অইলো আমগো হেডকোয়ার্টার। এইখানে সবার একটা পরীক্ষা হয়। দিবি নাকি একখান পরীক্ষা। বুঝি তুই কেমন মাতার? দোস্ত, ওই যে দেখবার লাগছস উঁচা খাড়া একখান গাছ। এউগা কালা কাউয়্যার বাসা ভি দ্যাহা যাইতাছে। ওর পেডের নিচে ধলা আন্ডা ভি আছে। এউগা আন্ডা গাছে উইঠা এমুন কইর্যা লইয়্যা আইবি মাগার কাউয়া উড়বার পারব না। পারবি? পারলেই - তোর সাট্টিফিকেট হালায় আমি লিখুম। আর তোরে গুরু মানুম ,হারা জিন্দেগীর গুরু।
কথা কওন শেষ হতে না হতেই মদনা গাছে উইডা কাউয়্যার তলা থাইক্যা এমুন নিঁখুত ভাবে আন্ডা লইয়া আইলো কাউয়্যা ভি মাগর টেরই পাইলোনা। এবার গোঁফে তা দিয়ে ঝাড়ি দিয়া কয়- তুমি কি আমাকে বাঙ্গাল পেয়েছো গো দাদা। বুলেছিলাম না- দু আঙ্গুলে কোলকাতা নাচাইছি। আরে এতো সামান্য দু কাউয়্যা। ওপরে এক পক্ষী কাউয়া আর নীচে এক বাঙ্গাল কাউয়্যা।
দু কাউয়্যার এক কাউয়্যাও ঠের পেলিনা দাদা। ওপরে চেয়ে দেখো দাদা- তোমার টুপি গাছের মগডালে কত সুন্দর হাওয়ায় উড়ছে। টুপি এখন পুরো ঢাকা শহর দেখে।
মপিজঃ হ,বুঝছি। তুই কলকাত্তারে দু আঙ্গুলে নাচাছ ঠিকই। আন্ডাভি লইয়া আইছোস ঠিকই, পক্ষী ঠেরই পায় নাই, ঠিকই।আমার টুপিও গাছে উড়াইতাছোস, ঠিকই। কসম খোদা কিছুইবি বুঝবারই পারি নাই। পন্নাম নে গো দাদা ।পন্নাম নে।
মাগর গাছে উঠোনের টাইমে যে দুই আঙুলে তোর ধুতি আমি খুইলা রাইখা দিছি, তুই তো হালায় ট্যারই পাছনাইক্যা। নিচে একবার হাত দিয়া হাতাইয়া দ্যাখ, আর ভালো কইরা চাইয়্যা দেখ, পুরা কলকাতার জি সিনেমা আর জলসা দ্যাহা যাইবার লাগছে।মাগর তোর এন্টেনা একটু বেকাত্যাড়া আছে। তাই ছবি ঝাপসা মারতাছে। আমগো লগে কনো পাট নিবিনা। বুঝছস,আমরা ঢাকাইয়া পোলা। নামবার ওয়ান ,সাকিব খান। আমরা ভেরি ভেরি ইস্মাট।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৯ সকাল ৮:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



