
আমার বয়স তখন ১৭ ।আমাদের চৌদ্দপুরুষ কৃষক। আমিও কৃষিকাজ করি আর নদীতে খেয়া নৌকা চালাই। বৈশাখ মাসের এক গ্রাম্য মেলায় আচমকা আমি তাকে দেখি এবং প্রথম দেখায় মেয়েটির প্রেমে পড়ি। খোঁজ নিয়ে জানলাম- আমাদের এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী মিয়া বাড়ীর একমাত্র মেয়ে সে। তাই-তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়া মানে-নিজের কল্লাটা মাথা থেকে আলগা হয়ে যাওয়া। কিন্তু, আমার মনতো মানেনা। না পারি ঠিকমতো কৃষিকাজ করতে, না পারি ঠিকমতো নৌকা চালাতে। মেয়েটি যেখানে যায়- আমিও সেখানে তাকে গোপনে গোপনে অনুসরণ করি। এভাবে কেটে গেলো পুরো তিনটি বছর। এই তিন বছরে বলতে গেলে আমার নাওয়া নাই, খাওয়া নাই, ঘুম নাই। আর সবচেয়ে বড় বেদনা , তিন বছরে তাকে একটি কথাও বলতে পারলামনা। এমনকি তার মুখোমুখিও দাঁড়াতে পারলাম না।
একদিন হঠাৎ লোকমুখে জানলাম এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ধনী ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। এখন, আমার কি হবে। আমার বুকের ভিতর কান্নার ঢেউ ওঠছে। দেখতে দেখতে, বিয়ের দিনক্ষণ এগিয়ে এলো। আজ রাতেই তার বিয়ে। আমি আমার বুকের ভিতরের কান্না শুণতে পাচ্ছি। ওদের বাড়ি থেকে গান বাজনার শব্দ এসে তীক্ষণ তীরের মতো বুকে এসে বিঁধছে।
রাত বাড়ছে। আমি বসে আছি আমার ছোট খেয়া নৌকায়। মনে হচ্ছে একবার চীৎকার করে হাউমাউ করে কাঁদি।এমন সময় দেখলাম- কে একজন দ্রত দৌড়ে নৌকার দিকে আসছে। কিছুই বুঝতে পারছিনা। আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই-সে নৌকা চালাতে শুরু করলো।
আমি কোনোদিন অঘোর ঘুমের ঘোরে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি-আমার জীবনে এরকম অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটবে।
আমি কিছু বলার আগেই- সে প্রথম যে শব্দটি বললো- তা হলো বেকুব। তুমি মস্ত বড় বেকুব।
বিগত চল্লিশটি বছর ধরে -ওর মুখে এই "বেকুব" শব্দটিই আমি প্রতিদিনই শুণছি। এর চেয়ে মধুর শব্দ যে আর কিছু নাই। আমি ওর জীবনে মস্ত বড় এক বেকুব হতে পেরে খুব খুশী।
Gmb Akash-এর ইংরেজী লিখার ভাবানুবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



