somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃখী মানুষগুলোর এই দুঃখ বুঝার কেউ কি কোথাও আছেন?

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা নামকরা প্রতিষ্ঠানে ১০ জন সৎ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।
লিখিত পরীক্ষায় মোট পাশ করলেনও দশজন। এই দশজনের জন্য চিঠি পাঠানো হলো। সবাই চাকুরীত নিয়োগ পাবেন। তবে শর্ত একটাই- সবাই যেন ঠিক সময়ে মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত থাকেন।
পরীক্ষা ঠিক সময়ে শেষ হলো। দেখা গেলো নয়জন প্রার্থী উপস্থিত হয়েছেন। বাকী একজন বোর্ডের সামনে উপস্থিতই হতে পারেননি। বোর্ডের চেয়ারম্যান যিনি উপস্থিত হতে পারেন নি- উনাকেই চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা আশ্চর্য্য হয়ে জানতে চাইলেন- স্যার, যে উপস্থিত হতে পারেন নি। তাকেই কেন আপনি নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন।তাছাড়া, ওদের নয়জনকে জরিমানাও করলেন।

উনি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আলাদা একটি রুমে গেলেন। টেলিভিশানের পর্দায় সিসিটিভিতে ধারণকৃত ফুটেজ প্লে করা হলো।দেখা গেলো- ভবনের মূল গেটের বাইরে দশজন প্রার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। প্রহরী কাউকেই ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।
প্রার্থীরা বুঝাবার চেষ্টা করছেন- আজকে উনাদের মৌখিক পরীক্ষা। ঠিক সময়ে উপস্থিত হতে না পারলে উনাদের চাকুরিটা হবেনা। কিন্তু , প্রহরী কোনো কথাই শুণতে চায়না।

তিনজন প্রহরীকে ম্যানেজ করে মানে ঘুষ দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলেন। বাকী কয়েকজন ভবনের পিছন দিক দিয়ে পাচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করলেন। যেখানে স্পষ্টই লিখা আছে- "পাচিল টপকে ভিতরে ঢুকা আইনত অপরাধ।"আরো কয়েকজন ঢুকলেন ভবনের পিছনের গোপন পথটি দিয়ে। কিন্তু শুধু একজন লোক ঘুষও দিলেন না, পাচিলও টপকালেন না, গোপন পথটির অনুসন্ধান করলেন না। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রহরীকে বুঝালেন। তারপর ব্যর্থ হয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে গেলেন।

এবার আপনাদের বলি। প্রহরী দিয়ে গেট আটকে রাখাটা ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। যারা অসৎ তাদের জন্য মূলগেট বন্ধ করে রাখলেও ভিতরে ঢুকতে তাদের কোনো সমস্যা হবেনা।তারা ঘুষ দিয়ে, চোরা পথে, পাচিল টপকিয়ে যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে ফেলবে। শুধু আটকে যাবে সেই নিরীহ, ভদ্র, অসৎ পথে না যাওয়া লোকটি।

এই যে চোর, অসৎ , জঙ্গী, নাশতাকারীদের আটকে রাখার জন্য ভাইবার,স্কাইপ,টুইটার ইত্যাদি বন্ধ করে রাখছেন। আপনারা কি মনে করেন -এতো সহজেই অসৎ মানুষগুলোকে আটক রাখতে পারবেন। ওরা কোনো না কোনো ভাবেই - একটা না একটা উপায় বের করে ফেলবেই। যাদের অসৎ উপায়ে অর্জিত কাড়িকাড়ি টাকা আছে- এসব বন্ধ না খোলা তাতে ওদের কিছুই যায় আসেনা। ওরা প্রয়োজনে ফুরুৎ করে ওড়ে যাবে। হাগু আটকে গেলে প্রিয়তমা এলিজাবেথের কাছে ছুটে যাবে। হাঁচি আসলেই মাউন্ট এলিজাবেথের সাক্ষাৎ পাবে।
ওদের কোনো স্কলারশীপের দরকার নাই। অসৎ পিতার সম্পদের ভাণ্ডারতো রয়েই গেছে। প্রয়োজনে সাট্টিফিকেট কিনে নিয়ে নামের আগে, পিছে, পাছায় পদবী জুড়ে দিবে।

কিন্তু আটকে যাবে সেই নিরীহ ছেলেটি-যে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারের সাথে কথা বলার জন্য স্কাইপ নিয়ে বসে থাকে। কোনো মা অপেক্ষায় থাকেন কখন তার প্রবাসী ছেলেটির মুখটা দেখবেন। কোনো পিতা অপেক্ষায় থাকেন- এই বুঝি স্কাইপ খুলে দেয়া হলো। সদ্য জন্ম দেয়া সন্তানের প্রিয় মুখ এই মাত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠবে। অনেক ঘাম আর পরিশ্রমের টাকা কেউ সহজে সরাসরি লাইনে কথা বলে খরচ করতে চায়না। পরবাসে খেটে খাওয়া এই দুঃখী মানুষগুলো চায়- ভাইবারে, হোয়াটসআ্যপে প্রিয় মানুষগুলোর সাথে সারাদিনের ক্লান্তির পর একটু কথা বলতে। এই সহজ, সরল, হতভাগা মানুষগুলোই শুধু আটকে যাবে।

সরকার আছে , রাষ্ট্র আছে, দেশ আছে, রাজনীতি আছে। কিন্তু দুঃখী মানুষগুলোর এই দুঃখ বুঝার কেউ কি কোথাও আছেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৫৭
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×