সারাজীবন যে পরের জুতো পলিশ করে গেলো-
সে কোনোদিন ভালো এক জুড়ো জুতো পরেনি।
ইটের ভাটায় ইট তৈরী করে যার সারা জীবন কাটে,
নিজের ঘরের দেয়ালে তার এক টুকরো ইটও লাগেনি।
যে শ্রমিক ভবনগুলো রঙ দিয়ে চাকচিক্যময় করে তোলে
তার সারা জীবনটাই বিবর্ণ রয়ে যায়।
দামী পালঙ্ক তৈরী করে যে অন্যের ঘরের শোভা বাড়ায়,
তার সন্তানেরা মাটিতে বিছানা করে ঘুমায়।
যে জমিনে শস্য ফলালো -সে জীবনভর রয়ে গেলো অনাহারী।
যে শ্রমিক হীরার খনিতে জীবন দিলো-
তার ঘরে জুটলো না দুবেলা আহার।
সাগরের বুক থেকে যারা মুক্তো আহরণ করলো-
তারাই রয়ে গেলো সবচেয়ে গরীব।
পোষাক কারখানায় যে মেয়েটি সকাল-সন্ধ্যা পার করে,
তার পরনে একটা ভালো কাপড়ও জুটলোনা কোনোদিন।
যে গোয়ালা দুধ দহন করে জীবন পার করে দেয়-
তার সন্তানেরা সারা জীবন অপুষ্টিতে ভোগে।
পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ আজ মাত্র দুভাগ মানুষের দখলে,
প্রতি নয়জন মানুষের মাঝে একজন জটর জ্বালায় জ্বলে।
নয়ভাগের একভাগ পৃথিবী আজ অভুক্ত, সম্পদের অসম বন্টনে
সব রাষ্ট্রপ্রধানের হাতই রক্তাক্ত কোনো না কোনো ভাবে মানুষের খুনে।
অবাক করা সভ্যতা তবু ঠিক ঠিক মানুষকে ভোলায়।
সভ্যতা বদলাবেনা যতদিন না পরেছে ফাঁসী এ সভ্যতারই গলায়।
© আরিফ
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



