somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চারটি বুদ্ধিজীবী ব্যাঙ , একটি কাছিম ও একটি কুতর্কের দোকান

০১ লা মে, ২০১৯ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নদী তীরে একটি কাঠের টুকরোর ওপর বসে আছে চারটি বুদ্ধিজীবী ব্যাঙ ও একটা বয়ষ্ক কাছিম। সান্ধ্য ভ্রমণে আসার আগে ব্যাঙ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এসেছে-আজ কোনোভাবেই কেউ কারো সাথে কুতর্কে জড়াবে না। সেই স্ট্যাটাসে লাইক পড়েছে মাত্র একখানা, লাভ পড়েছে দুটি আর হা হা পড়েছে অসংখ্য।

এমন সময় তুমুল বৃষ্টির স্রোতে কাঠের টুকরোটি নদীতে চলতে শুরু করলে ব্যাঙরা খুবই আমোদিত হল।

কিছুক্ষণ পরে প্রথম ব্যাঙটি বলল, এ এক অত্যাশ্চর্য জীবন্ত কাঠের টুকরো। এর আগে কোন কাঠের টুকরোকে এরকম চলতে দেখিনি।

দ্বিতীয় ব্যাঙটি বললো - যা মনে চাইলো-তাই বলে দিলা। সারারাত জেগে টকশো দেখলে বেরেনকে টেরেন করবা কীভাবে। আসলে, আমরা কুমিরের লেজের ওপরে বসে আছি। এবার, বাকিটুকু নিজের বিবেক খাটিয়ে বুঝে নাও হে মূর্খ ব্যাঙ। কেন এই কাঠের টুকরো নড়ছে।

তৃতীয় বুদ্ধিজীবী ব্যাঙটি বললো। রাখো তোমার কথা। কাঠের টুকরা নড়ছে না। আসলে আমাদের চিন্তা নড়াচড়া করছে। কারণ চিন্তা ছাড়া কোন কিছুই নড়াচড়া করে না। আর চিন্তা নড়াচড়া করার ফলে দুনিয়ার সব কিছুকেই মনে হয় নড়ছে। জগতের সবকিছু যার যার জায়গায় স্থির। আমাদের কুয়োকে কখনো নড়তে দেখেছো। আর, এই তুমি এভাবে গা ঘেঁষে বসছো কেন, চরিত্রহীন ?

চতুর্থ ব্যাঙটি বললো- বলোতো- নৌকা কি দিয়ে বানানো হয়? সবাই বললো-কাঠ দিয়ে। এই তো সবাই লাইনে আসছো। সুতরাং এই কাঠটি হলো আসলে নৌকা। এই কাঠের টুকরো, পানি, নৌকা এবং আমাদের মন এদের সবগুলোই গতিশীল। কেউ স্থির না।

তুমুল তর্কে আড্ডা হয়ে গেছে একটা কুতর্কের দোকান। ব্যাঙরা বুঝতেই পারছেনা- তাদের তর্ক নিরাপদ জায়গা থেকে তাদের এক অজানা বিপদজনক জায়গার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তারা কাছিমটির দিকে তাকালো। যে এতক্ষণ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাদের কথাবার্তা শুনছিল। তার মতামত জানতে চাওয়ায় সে বললো, “ আসলে তোমাদের কেউ পুরোপুরি সঠিক না। তোমাদের কুতর্ক আগে বন্ধ করো । না হয় স্রোতে তলিয়ে যাবে। সবাই আমার পীটের ওপর ওঠো। আমি তোমাদের কিনারায় পৌঁছে দেই।

কাছিম তার কথা শেষ করতে পারেনি। তার মত কোনো ব্যাঙের পক্ষে না যাওয়ায় চারটি ব্যাঙই মারাত্মক রাগান্বিত হল। তাদের কেউই মেনে নিতে পারছিলো না যে তার মতটি পূর্ণাঙ্গ সত্য নয় এবং বাকিরা সবাই পুরোপুরি মিথ্যা।

তারপরে এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটল। চারটি ব্যাঙ একত্রিত হয়ে কাছিমকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে উল্লাস করে বলতে লাগলো। সবজান্তা কাছিম-এবার তুই মর। পানিতে ডুবেই মর।

কাছিম সাঁতার কাটতে কাটতে ভাবলো- কুপ মানে হলো কুয়া আর মন্ডুক মানে হলো ব্যাঙ-সেজন্য এদের বলে কূপমন্ডুক। এই কূপমণ্ডুকদের ভুল ভাঙ্গানোটাই আসলে ভুল হয়েছে। সবাই তার নিজস্ব চিন্তা দিয়ে মনের ভিতর একটা আয়না তৈরি করে। আর সে আয়নায় সে নিজের মতো করে দুনিয়া দেখে।

তোমরা আমাকে ফেলে দিয়েছো ভালো কথা। কিন্তু নিজেদের কুতর্কে এভাবে ভেসে যেয়োনা। জগৎ কুয়ো নয়। এ জগৎ অনেক বড়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৯ রাত ৮:২৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একদিন ভালো লাগার দিন.....

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৭



সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে গেছি। রোববার বলেই সম্ভবত রাস্তাটা ফাঁকা। সকাল সাড়ে ন’টায় জামাত শুরু হবার কথা। লোক আসতে শুরু করেছে। মেয়েকে বললুম, মসযিদের কোথায় তোরা নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু ব্যাবসা - মানুষের মৃত্যুও একটি ব্যাবসা কর্ম হতে পারে !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:২৪



আমি লেখক বা সাহিত্যিক নই, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক সাহেব ও নই যে, দোকান - রেষ্টুরেন্ট - পার্লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মডেল মেয়ে - মহিলা নিয়ে লাল ফিতা কেটে কেক খাবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগলী’র মা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯

তাঁরও একটা নাম ছিল,
সে নামেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল,
যদিও তখন কোন জন্ম সনদপত্র রাখা হতো না।
তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যান নি, তাই তাঁর কাছে
কোন বিদ্যালয়ের একটাও সনদপত্র ছিল না।
তবুও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গোলমাল’ না হলে ফুটবল খেলা কঠিন হত। =p~ =p~

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৪


রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর – ৬



লিখাটা যখন ‘রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর’ সিরিজে লিখছি তাই শুরতেই ফুটবল নিয়ে একটা কৌতুক-
প্রেমিকার বাড়িতে বসে নতুন কেনা থ্রিডি টিভিতে ফুটবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×