somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প

০৩ রা মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধু অতঃপ........
জাহানুর রাহমান খোকন

স্নমান শ্রেনীতে প্রথম ক্লাশ,নতুন বন্ধু নতুন কলেজ,স্যারেরাই বা কেমন হবে এসব ভাবতেই রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারিনি।সকাল থেকেই মনটা অস্থির হয়ে ছিল,কখন নয় টা বাজবে।গোসল করেই তারাতারি ব্যাগ গুছিয়ে কলেজের গেলাম।ক্লাশে অনেক নতুন বন্ ধু বান্ধবির সাথে পরিচয় হলো।তবে যে ছেলেটির কথা না বললেই নয়,সে রাহাত।ক্লাশের একদম শেষ বেঞ্চটিতে সে বসেছিল।স্যারের প্রশ্নর উত্তর ছাড়া আর কোন কথাই বলছিল না।সব সময় চুপচাপ থাকতো।ওকে খুব আনমনা লাগছিল।একটা ক্লাসের পর আমি আমার ব্যাগ নিয়ে তার কাছে গেলাম,ব্যাগ রাখতে রাখতে বললাম আমি এখানে বসি?রাহাত কিছু বললো না শুধু ঠোটের কোনে অস্পষ্ট হাসি দিয়ে তার ব্যাগ সরিয়ে আমার বসার জায়গা করে দিল।আমি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম হ্যায় আমি দীনু।রাহাত তার হাত সরিয়ে নিল,খুব আস্তে উত্তর করলো,আমি রাহাত।ক্লাস চলাকালে আমাদের আর কোন কথা হলো না। ক্লাস শেষ হলো,রাহাত ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাচ্ছিল,আমি রাহাত কে বাই বলে বিদায় জানালাম,তার বিনিময়ে সে শুধু হাত উপরে তুলে বিদায় সংকেত জানালো।এর পর আমি ক্লাসে প্রায় সময় রাহাতের সাথেই বসতাম।ক্লাস না থাকলে আমরা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসতাম।দিনেদিনে আমরা দুজনে ঘনিষ্ট বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম।রাহাত তার সব কথাই আমাকে বলতো। রাহাত খুব গুছিয়ে কথা বলতো, প্রায় সময়ে আমরা পুকুর পাড়ে বসে গান শুনতাম ও বাদাম খেতাম।
এভাবেই আমাদের দিন চলে যাচ্ছিল।একদিন রাহাত ছুটতে ছুটতে এসে আমায় বললো দীনু চলো। আমি কিছু বলার আগেই দেখি ও আমার হাত ধরে টেনে আমায় পুকুর পাড়ে নিয়ে এসেছে।আর বললো দীনু তোকে যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম ঐ যে সেই মেয়েটা।রাহাত পুকুর পাড়ের খেজুর গাছের নিছের একটি মেয়েকে অাঙ্গুল তুলে দেখালো।আমি রাহাত কে বললাম তোর পছন্দ আছে।চল মেয়েটাকে বলি তুই ওকে ভালবাসিস।
আমার কথায় রাহাত সেদিন রাজি হয় নি,হেসে বলেছিল প্রেম হলো গরিবের ঘোড়া রোগের মতো।
তবে বন্ধুত্ব?
রাহাত বলে হ্যা তা করা যায়,প্রিয় মানুষকে কাছে থেকে দেখার এটাই একমাত্র উত্তম পদ্ধতি।
আমরা মেয়েটার কাছে গিয়ে জানতে পারলাম ওর নাম অহনা,ডাক নাম রিয়া।রাহাত বললো রিয়া.....!! রিয়া মানে তো অহংকারী। মেয়েটি সাথে সাথে আমাদের অবাক করে দিয়ে হো হো করে হাসতে লাগলো।হাসি থামিয়ে বললো নামে কি আসে যায়, সবাই অহংকারী হয় না মিস্টার।যারা অহংকারী হয় তাদের জন্য রিয়া নামের দরকার হয় না।এর পর আমাদের আড্ডায় নতুন করে অহনা যুক্ত হলো।আমরা প্রায় ক্লাস ফাকি দিতে থাকলাম।বেশ ভালই যাচ্ছিল আমাদের সময়। রাহাত প্রাইভেট পড়াতো।প্রতিদিন সকালে উঠেই ও আমাদের দুজনকেই এস এম এস করতো শুভ সকাল।আর রোজ রোজ শুভ সকাল এস এম এস এ আমাদের ইনবক্স ভরে উঠতো।একদিন আড্ডার সময় অহনা বললো দীনু রাহাতের নাম ভোরের কাক হলে ভাল হতো।এই কথায় আমরা খুব হেসেছিলাম।
এর কয়েকদিন পরে দেখলাম রাহাত ওর ফেসবুক আইডির নাম 'ভোরের কাক' রেখেছে।
আমি বুঝতে পারলাম বন্ধু রিয়ার প্রতি রাহাতের ভালবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি বরং ঢের বেরেছে।
অহনাও ক্লাসে ফাস্ট হওয়া রাহাতকে ভালবাসতো।কিন্তু প্রাইভেট মাস্টার রাহাতকে সে সমাজ সন্মানের জন্য কাছে টানতে পারেনি।অহনা রাহাতকে প্রাইভেট পড়ানো ছেড়ে দিতে বলতো।রাহাত ছেড়েও দিয়েছিল।
অনেকদিন থেকে অহনাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না,কলেজেও আসে না।পরে জেনেছিলাম অহনা এক ডাক্তারকে বিয়ে করে ঢাকা চলে গেছে।তারই বাবার বন্ধুর ছেলে।এরপর রাহাতকে খুব আনমনা দেখাতো।একদিন শুনি রাহাত রোড এক্সিডেন্ট করেছে।রাহাতকে আমি ডাক্তারের কাছে নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু রাহাত যায়নি।ও ব্যাথার ট্যাবলেট খেয়েছে মাত্র।
একদিন ভোর সকালে রাহাতের ফোন,দীনু কিছু টাকা হবে।ডাক্তারের কাছে যেতাম।আমি রাহাতকে টাকা দিয়েছিলাম।ঢাকা থেকে এসে রাহাত জানালো কোন সমস্যা নেই।কিন্তু ওর যে কিছু একটা হয়েছে আমি টের পেতাম।রাহাত প্রায় ব্যাথায় হাতের মধ্যে চাপ দিত।
একদিন রাহাত আমায় একলা ডেকে নিয়ে বললো দীনু একটা কথা বলি প্লিজ কাউকে বলবি না,আমার হাতে ইনফেকশন করেছে গোটা শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পরেছে।আর একটা কথা অহনাকে এটা বলবে না।আমি মারা যাওয়ার পর অহনাকে বলিও আমি ওকে খুব ভালবাসতাম।আমি হ্যা কাউকে জানাবো না বলে শুধু মাথা নেড়ে সাই দিয়েছিলাম।
পড়াশুনা শেষ হয়েছে অনেকদিন। চাকুরীরত থাকায় রাহাতের কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম।অহনার অসুস্থতার খবর পেয়ে ওকে দেখতে যাই।অহনা রাহাতের কথা বলেছিল,আমি কিছুই বলতে পারিনি,কারন আমি বাস্তবতার কাছে আমার বন্ধুটিকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।তাই সেদিন অহনার বাসা থেকে ফেরার সময় রাহাতের বাসায় গিয়ে একটি কবর দেখে বুঝতে বাকি থাকে নি যে কে।কেউ দেখে ফেলার আগেই স্থান ত্যাগ করেছিলাম।
অনেকদিন পরে অহনা কলিকাতা থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছে শুনে দেখতে যাই।কথায় কথায় রাহাতের মৃত্যু সংবাদ ও তাকে ভালবাসার কথা বলেছিলাম।
সেদিন প্রথম রাহাতের জন্য অহনার চোখ দিয়ে জল পরতে আমি দেখেছিলাম।তাহলে কি অহনাও রাহাতকে ভালবাসতো.........?
এর পর কেটে যায় অনেক সময় আমি ভুলে যাই কলেজের হাসিখুশি সেই বন্ধু রাহাত ও অহনার কথা।বাবা মা মরা মেয়ে আমি,মামা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন।ছেলে কলকাতায় থাকেন।পেশায় স্কুল শিক্ষকতা। ছেলেটির সাথে আমার প্রায় ফোনে কথা হতো।একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোনে এস এম এসস দেখি শুভ সকাল।রাহাতের জন্য আমার বুকটা হাহাকার করে উঠলো। এর কিছুদিন পর মামা ঘটা করে আমার বিয়ে দিলেন।কিন্তু বাসর ঘরে গিয়ে দেখি রাহাত বসে আছে।বুকের ভিতর ধুক করে লাগলো,রাহাত মরেনি!তাহলে কবরটি কার ছিল(?)।রাহাত চিরচেনা বন্ধু আমার,ওই সকল প্রশ্নের সাগর থেকে আমায় বাচিয়ে বললো দীনু সেদিন পুকুর পাড়ে কথাগুলো বলার পর বাসায় চলে যাই,গিয়ে শুনি ছোট বোনটা তার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছে।আমার অসুস্থতার কথাও মা শুনেছিল। মা বিষটা মেনে নিতে না পেরে মারা যান।বোনটাও নাই,তাই কলিকাতায় চলে যাঈ,অহনা ও তোমার কথা খুব মনে পরতো,খোজ নিয়ে জানলাম তুমি বিয়ে করনি।মামাকে প্রস্তাব দিলাম হয়ে গেল।
এই বলে রাহাত প্রশ্ন করলো,আচ্ছা দীনু আমি রাহাত এটা জানলে কি তুমি আমায় বিয়ে করতে?কথাটা বলে রাহাত সেই পুরনো দিনের মতো হো হো করে হাসতে লাগলো।
আমি ভুলে গেলাম ওর প্রশ্নর কথা।রাহাতের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে আমি দুচোখে অশ্রু সিক্ত করে ভেসে চললাম স্বপ্ন সংসারে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×