somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তব জীবনে ধর্মের শিক্ষা

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সমাজে আমরা অনেকেই ধর্ম পালন করি, কিন্তু ধর্মের শিক্ষাটা আমাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয় না। কারন আমরা ধর্মকে নিছক কিছু রীতি-নীতির মধেই সীমাবদ্ধ মনে করছি। তবে ধর্ম মানে শুধুমাত্র কিছু আচার অনুষ্ঠান নয়, দ্বীন শব্দ দিয়ে বোঝানো হয়েছে একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা, অর্থাৎ ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন কিভাবে পরিচালিত হবে।

এই ধর্মের শিক্ষা আমাদের অন্তরে ধারন না করায় দেখা যায়, ধর্ম কর্ম ঠিকমতো নিয়ম মেনে পালন করার পরও আমাদের ব্যক্তিগত চারিত্রিক শুদ্ধতা আসে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়ছি, আবার একই সময় মানুষ ঠকাচ্ছি, অন্যের জমি-সম্পদ দখল করছি, অনবরত মিথ্যা বলে বেড়াচ্ছি নিজের সুবিধার জন্যে। বাড়ীর চাকরের সাথে মসজিদে এক কাতারে নামাজ পড়তে পারলেও বাসায় এসে এক টেবিলে ভাত খাওয়া সম্ভব হয় না। আমরা হাজার লক্ষ টাকা ব্যয় করে দেশে বিদেশে ঘুরতে যাই, কিন্তু এর চেয়ে কম টাকা দিয়ে গরীব দু্‌ঃখীর উপকার হতে পারে। অনেক সময় ঘরের ছেলে-মেয়ে বিরাট ভুল করলে তেমন দোষ হিসেবে ধরা হয় না, কিন্তু কাজের মেয়ে সামান্য ভুল করলেও তাকে ব্যপকভাবে শাসানো হয়, ক্ষেত্র বিশেষে বেদম মারধর ও করা হয়। অন্যের জমি দখল করাকে, ভেজাল বা মেয়াদোর্ত্তীন্ন পণ্য বিক্রী করাকে, গরীবের পেটে লাথি মেরে শোষন করাকে, অনবরত মিথ্যা বলে লোক ঠকানোকে আজকালকার সমাজে কোন দোষ ধরা হয় না, এসব কাজকে বুদ্বিমত্তার মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আমাদের কিছু সংখ্যক মাওলানা সাহেবগন ও ক্রমাগত এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নিয়ে কত বিষোদাগার করে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে কত বিভক্তি - সুন্নি, ওয়াহাবি, হানাফী, শাফেয়ী, শিয়া, জামাতি, বিভিন্ন মাজারপন্থী, বিভিন্ন পীরপন্থী, তাবলিগ, আহলে হাদিস, সালাফী, জিহাদী ইত্যাদি নানান দল-উপদলে বিভক্তি। প্রায় সময় দেখা যায়, জুমার নামাজের খুতবায় এরকম এক পক্ষ অন্য পক্ষকে নিয়ে আক্রমণ করাটাই হয়ে প্রধান আলোচ্য বিষয়। আর আমাদের মধ্যেও কিছু সংখ্যক জনগন এ ধরনের কাঁদা ছোরাছুরি বেশ উপভোগ করি। বিভিন্ন ধর্মীয় দল-উপদলের মধ্যে চরমপন্থা এখন প্রকট আকার ধারন করেছে। তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, মসজিদের মতোয়াল্লী বা কমিটি উপরোক্ত যে দলের অনুসারী হয়, ইমাম সাহেবকেও সেই পক্ষ অবলম্বন করতে হয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে সমাজের নানা অসংগতির চেয়ে তাদের বক্তব্যে ব্যক্তি তোষন প্রাধান্য পায়।

রাসুলাল্লাহ (সাঃ) এর অনেক হাদীস আছে যেখানে লেনদেনের এবং ব্যবসায়ীক অসততা নিয়ে, অভদ্রতা-অনম্রতা নিয়ে, কারো অপকার নিয়ে, সামাজিক অসমতা নিয়ে, সামাজিক দন্ধের বিরুদ্ধে, মিথ্যা ও চোগলখুরীর বিরুদ্ধে, প্রতারনা ও শোষন-জুলুম-দখলের বিরুদ্ধে, মুসলিম জাতির মধ্যে অনৈক্যের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। এর পরিণতিতে কাল কেয়ামতের ময়দানে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। দুঃখের ব্যাপার হলো আমরা ইসলামের সঠিক শিক্ষা না নেয়ায় বাস্তব জীবনে এবং কর্মে এই শিক্ষার কোন প্রতিফলন দেখতে পাই না। শুধুমাত্র কিছু রীতি-নীতির মধ্যেই আমরা ইসলামকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। রাসুলের(সাঃ) অনুসারী হিসেবে আমরা নিজেকে দাবী করলেও তার এবং তার সাহাবীদের জীবন যাপন পদ্ধতি ও কর্ম থেকে কোন শিক্ষা নিই না।

আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত চারিত্রিক শুদ্ধতা না আসলে নামায-রোযাও শুদ্ধ হবে না। হারাম ভক্ষনকারীর ইবাদত কবুল হয় না।

আসলে আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত ধ্যান-ধারনা ও চরিত্রের সাথে মিল রেখে আমরা নিজেরাই নিজের মত করে একটি জগাখিচুরী ধর্ম বানিয়ে ফেলেছি। সেই ধর্মই আমরা পালন করছি, আর নিজের মত করে যুক্তি দিয়ে বেড়াই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×