সদ্য বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার উপর অযাচিত ভ্যাটারোপের বিরূদ্ধে যে আন্দোলন করলো এবং যেভাবে তারা তাদের দাবী আদায় করতে সরকারকে বাধ্য করলো তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে সরকার বিরুধী আন্দোলনে বিগত বছরগুলোতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো সহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনসমূহ যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাত্র চারদিনের আন্দোলন এবং দাবী আদায় নিঃসন্দেহে এক অনন্য এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
তাদের এই আন্দোলনকে ছাত্রলীগের আক্রমন,হুমকী-ধামকী,এনবিআর এবং সরকারী আমলাদের মিথ্যা প্রলোভন,আশ্বাস,মাল বাবুর কথার ফুলঝুরি-সকাল বিকাল নিত্যনতূন তত্ত্ব-নানাভাবে ব্যহত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো।তারপরও ফার্মের মুরগী বলে খ্যাত বাঘের বাচ্চারা দাবী আদায়ে ছিল গ্রানাইট কঠিন অনড় এবং সরকারকে বাধ্য করেছে নতি স্বীকার করতে।যদিও ভ্যাট কেবল মাত্র প্রত্যাহার হয়েছে এবছরের জন্য এবং ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া কোমলমতি শিশুরা এখনো রয়েছে ভ্যাটের আওতায়!!!
তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা।আমার এই পোষ্টের বিষয় হচ্ছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনে বিস্ময়করভাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিরবতা এবং নির্লিপ্ততা!!!
আন্দোলনের বিগত চারদিনে কি ঢাকা কি চট্টগ্রাম কোথাও ছাত্রদলের কাউকে(cow) কোনো ভূমিকা রাখতে দেখলামনা।
একদিন স্রেফ আসাদুজ্জামান রিপন ভাইকে দেখলাম প্রেস ব্রিফিং করে তাদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে আরেকদিন দেখলাম অবঃ ব্রিগঃ হান্নান শাহকে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পক্ষে কথা বলতে।
ব্যাস এই!!!
এই কি রাজপথের একটি দলের ভূমিকা?এই কি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির নমূনা?
নিজের ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এই একটি ইস্যু নিয়ে ছাত্রদল পারত রাজনীতির মাঠ গরম করতে।
তারা ক্লাশ বর্জন করতে পারতো
সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকতে পারতো
হরতাল ডাকতে পারতো
সংবাদ সম্মেলন করতে পারতো
প্রতিকী অনশন করতে পারতো
মানব বন্ধন করতে পারতো
নিদেন পক্ষে অন্তত একটা মিছিল করতে পারতো
কিন্তু কোথাও কেউ নেই!!!
মনে পড়ে ছাত্রদের দাবী আদায়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রী কি বি চৌধূরী,কি জমিরউদ্দিন সরকার,কি এহসানুল হক মিলন কি শেখ হাসিনার সাদেক সাহেব,অতীতে এই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কাউকেই ছাড় দেয়নি।আর আজকের ছাত্রদল আন্দোলন দূরে থাক একটা মিছিল করারও যোগ্যতা রাখেনা!!!পারে শুধু কমিটিতে পোষ্ট না পেলে নিজেদের পার্টি অফিস ভাংচুর করতে।
ছিঃ
লজ্জায় মাথা নুইয়ে যায় কোনোকালে ছাত্রদল করেছি ভেবে।
এখন যদি বিরুধীরা বলে বিএনপি নেত্রী শুধুমাত্র বাড়ী আর পুত্রের মামলার বিরুদ্ধেই হরতাল ডাকেন,
আর বাধা দেবনা,কোনো কথাই বলবোনা,এই মুখে কুলুপ আটলাম,স্পিকটি নট।
ছাত্রদলের অথর্বদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পা ধুয়া পানি খাওয়া উচিৎ।আর বিএনপির উচিৎ শেখা কিভাবে আন্দোলন করে দাবী আদায় করতে হয়।
ছাত্রদলের হাইব্রিড গর্ধবদের বলছি,প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আর ফার্মের মুরগি বলোনা।বরং তারা যেনো তোমাদের দুয়ো দিতে না পারে তাই তাদের ছায়া এড়িয়ে লুকিয়ে গা বাঁচিয়ে শাড়ী চুড়ী পরে চলাফেরা করো।কারন সুইসাইড-তো তোমরা করতে পারবেনা।সে আত্মমর্যাদা বোধ এবং সাহস তোমাদের নেই।
প্রিয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ভাইবোনেরা,অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তোমাদের জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।তোমরা আমাদের অহংকার।আমরা তোমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি।এগিয়ে যাও বাঘের বাচ্চারা।স্বপ্ন দেখ,স্বপ্ন দেখাও,বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আস।
আর প্লিজ প্লিজ ছাত্রদলের মতন অথর্ব আর দূষিত হয়োনা।শিক্ষাজীবন ধ্বংস করোনা।
হৃদয়ের সমস্ত শুভকামনা তোমাদের জন্য।




সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




