
হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র বলে
মায়া তাকে অ্যাপ্লাইড কেরানীর স্টুডেন্ট বলে ডাকতো।
মৃত্তিকা বলত ইতিহাস কোন সাবজেক্ট হলো নাকি !
ইহারা ইহারা যুদ্ধ করিয়া,তাহারা তাহারা মারা গেলো,
ইহারা আর তাহারার জায়গায় নামগুলি লিখলেই সেকেন্ড ক্লাশ
আর ঠিকমতো সন তারিখ লিখলেতো ওভার বাউন্ডারি,
এক্কেবারে প্রথম শ্রেনিতে প্রথম। ব্যাস,
মায়া হামলে পড়তো- মৃত্তিকার দুই কান ডলে মুচরে রক্ত লাল করে দিতে,
মৃত্তিকাও তার স্পর্শের উষ্ণতা পাওয়ার আশায়
হামেশাই এই কাজটা করতো।
নীল নামের যে ছেলেটি- সারাক্ষণ মায়ার সাথে লেপটে থাকতো-
সুদর্শন স্মার্ট অভিজাত হলেও, সে ছিল মৃত্তিকার চোখে বিষ,
নীল জামা, নীলশাড়ি, নীল সানগ্লাস, নীল জুতো,
এমন কি নীল চোখও সে সহ্য করতে পারতো না!!
অন্যদিকে একই বিভাগের হওয়ায়, নানাকারনে মায়া তাকে এড়িয়ে চলতে পারেনা।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ফাউল, লাল কার্ড, হলুদ কার্ড চলতেই থাকতো।
বিস্ফোরক সময়সীমা কখনও কখনও অতিরিক্ত সময় গড়িয়ে
সাডেন ডেথে গিয়ে ঠেকতো ...!!
ফাইনাল পরীক্ষার পর দ্রুতই মায়া বিসিএসে টিকে,
সরকারী চাকুরীতে যোগ দেয়,মৃত্তিকা অপেক্ষা করতে থাকে
চাকুরীর প্রার্থনায়, চিঠি বিনিময় হয়, দেখা সাক্ষাতও হয় কাল ভদ্রে...
এক দুপুরে জরুরী টেলিগ্রাম পায় মৃত্তিকা,মায়া পাঠিয়েছে-
"বিশেষ বাক্তিগত কারনে বাধ্য হয়ে আমাকে বিয়ে করতে হচ্ছে,
কাল বিয়ে, ভুলে যেও- পারলে ক্ষমা করো ।"
সেই থেকে মুছে গেছে মৃত্তিকার মায়া...!!
আজ ১৫ বছর পর, মৃত্তিকা অফিস শেষে বই মেলার পথ ধরে হাঁটছে,
ঘণ্টা খানেক সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরবে- এমন ইচ্ছায়…
মেলার গেটে পৌছতেই সে দেখে
নীল মার্সিডিসের পেট ফুঁড়ে বেড়িয়ে আসছে একজোড়া নীল,
নীল পাঞ্জাবি আর নীল শাড়ি পড়ে
মায়া আর নীল হাত ধরা-ধরি করে নামছে।
মৃত্তিকা আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিলনা,
হতাশা ক্ষোভ আর দহনের শিখায় ফেরার পথ ধরল
পা চলছিল না তবুও হাঁটে আর ভাবে-
নীল শুধু বেদনাই নয়, কখনও তা- সুখের আল্পনা !!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




