
শুনুন রবীন্দ্রনাথ,
আপনার সমস্ত গল্প কবিতা- মাটিতে পুঁতে রেখে
দিনরাত তাতে যদি পানি ঢালা হয়, তবে-
একটি বৃক্ষও জন্মাবেনা, আপনার বাংলাদেশ এখন
এমনই নিষ্ফলা ঠাকুর...
যেখানে ছিলে তুমি, আমাদের স্বপ্নের বিশ্রামাগার।
স্বপ্নেরা উধাও, দুর্গন্ধ একাকার, আজ সেটা স্মৃতি- ময়লার ভাগাড়,
কবর বঞ্চিত উচ্ছিষ্ট জমে থাকে- তার আঁধার
মাছিদের ভনভন কুকুর আর ক্ষুধিতের করুণ সমাহার!
অথচ কি পরিপাটীই না ছিল- একদিন তার...
জোসনার ঢেউ আছড়ে পড়তো- সপরিবার,
রঙধনু আগামী হামাগুড়ি দিয়ে যেত তার, এপার-ওপার!
আহ্লাদী ইচ্ছের মৌ মৌ গন্ধ, লেপটে থাকতো ঘর দুয়ার,
উচ্ছল জোনাকির মাতিয়ে রাখা হুল্লোরে
কি দারুণ-রঙ ছিল, রুপ ছিল তাঁর!!
আজ সেটা বিষাক্ত- দখল নোংরা আবর্জনার
জ্বলেনা লক্ষ কোটি নক্ষত্র তাঁরা- সেখানে আর,
বেহুঁশ পড়ে থাকা- ডালিম কুমার, লক্ষ্মীন্দর- বেহুলার।
বিলুপ্ত অতীত ধূসর সময়েরা, হা-করে থাকা আজ তার
নোংরা উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনা পাবার... !
একদিন যেটা ছিল স্বপ্নের বিশ্রামাগার- তোমার আমার
স্বপ্নেরা পলাতক- বিস্মৃতির দ্বীপান্তর,
ঐ ঘর আজ, দুর্গন্ধময় স্মৃতি- অথবা ময়লার ভাগাড়!!!
এখন মানবতা অন্ধ আড়াল, বিবেকের বীভৎস আকাল,
বেঁচে থাকে ভণ্ডামি, বেঁচে থাকে প্রতারণা-
অনিময়ম অবিচার বৈষম্যের দাম্ভিকতা!
ন্যায়ের রক্তে ভেজা স্বপ্নরা- মিথ্যের চকচকে মোড়কে,
বিপন্ন ইচ্ছেরা দাসত্বের আশ্রয়ে পড়ে থাকে, প্রেমকাঁটার মতো...
কুৎসিত কাপুরুষ, বিদ্বেষী মুখোশ- ভংধরা ভদ্রতায় এঁকে দেয়,
ধবধবে সাদার সযত্ন আড়ালে- বিবেকের বিকারতা!!
আপনার সোনার তরী, মৃত এক আত্মার কংকাল
গীতাঞ্জলী- ক্ষুধিতের অনলে পুড়ে ছারখার...
ছেলেবেলার স্বপ্নেরা- পড়ে মরে নিশ্চল অসাড়!
পরশ পাথর- নষ্টের উল্লাস ভাগাড়,
শেষের কবিতায় জোসনারা খুঁজে ফিরে- মিথ্যে আঁধার,
মেঘ এসে গিলে খায়- জোসনার টোল পরা গাল,
প্রমত্ত পদ্মায়, থেমে যায় কোলাহল-
ঢেউহীন শ্যাওলার সলজ্জ দখল,
এখানে হৃদয়ের, এমনই বীভৎস আকাল,
প্লাবনেও তুমুল খরা- শ্রাবনেও অজস্র ফাটল ...।
আরও শুনবে ঠাকুর, তোমার বাংলায় এখন-
কুকুরে শিকল পড়ায়- মানুষের পায় …।
ছবিঃ নেট থেকে...।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




