somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিরমানী লিটন
সময়ের ব্যবধানে বেজে বেজে চলে, সূর্য চাঁদ সবচেয়ে- দূরতম শব্দের মাস্তল, যেন কোন অজ্ঞাত নিবাস থেকে ছুটে আসি।পরিচিত শ্টেশন এলেই তুৃমি দেখাও নিশান- আমি উঠে পড়ি...

অসমাপ্ত চিৎকার এবং আমাদের স্বাধীনতা....

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৭ ডিসেম্বর-১৯৭১।
তখনও বাতাসে বারুদের কাঁচা গন্ধ। মুহূর্তের শরীরের দগদগে ঘাঁ-য়ের চুইয়ে পড়া কসে- ফোটা ফোটা মৃত্যুর গুঙানী, হাহাকারে হাঁটছিল। বাতাসের কানে গলগলে রক্তক্ষরণের আর্তনাদ। মৃত্তিকার দীর্ঘ-নিঃশ্বাসের পোড়া ধোঁয়া। ঝলসিত আত্নার আহাজারির উপর দিয়ে ছুটে যাওয়া পিচাসী- খুড়ের, জীবন্ত ধূলায় - মৃত্যুরা তখনও উড়ছিল। হঠাৎ, জয় বাংলা স্লোগানের জঠর থেকে কে যেন বলে, "বুলুু, খবর পাইছস, কাল দেশ স্বাধীন হইছে.....! " কি- মজা, কাইল দেশ, স্বাধীন য়ইছে, কাইল আমগো ভাইজা আইবো। মা আর বাজানরে গিয়া খবরটা দিয়া আহি। মা আর বাজান হুনলে এমন খুশীই অইবা না....."


"মা- মাহো- ও মা, বা জা ন- খবর হুনছো? বটতলার মুরে, হবাই কইতেছে, কাইল দ্যাশ স্বাধীন অইছে। হুররে, কি মজা, দ্যাশ স্বাধীন। জয় বাংলা.....! মা, ওমা, বাজান...
তোমরা কতা কওনা ক্যা?
কাইল দ্যাশ স্বাধীন অইছে। আইজ আমগো ভাইজান আইবো। তুমরা খুশী অও নাই?
কি অইলো, কতা কও না ক্যান তোমরা ?
-না কইলা, আমি খালপাড়ে গিয়্যা খারাই থাহি। কি মজা, দ্যাশ স্বাধীন অইছে। আমগো ভাইজান আইবো। জয় বাংলা!!!
মা.... ও বাজান, তুমরা কান্দিতাছো ক্যান। ওইডা ক্যাডা, করিম ভাই ন্যা, তুমিও কান্দিতাছো?
ও করিম ভাই, আমগো ভাইজান না- তোমার সাথে গেছিলো? তুমি আইছো, তয় ভাইজান কো? তুমি কানতাছো ক্যান করিম ভাই? কইবানা, আমগো ভাইজানের কি খবর?
হাউমাউ করে করিম বলে উঠে, " তোর ভাইজান বাইচ্যা নাইরে- বুলু। তোর ভাইজান মইরা গ্যাছে। তোর ভাইজানের জীবনের দাম দিয়াই- কাইল দ্যাশ স্বাধীন ওইছে, তোর ভাইজান শহীদ অইছে.....
-" না...
আমার ভাইজান মরবার পারেনা। ভাইজান.....!!!
ভাইজান আমারে কইয়া গ্যাছে, বুলু, আমি যুদ্ধে যাইতাছি। যুদ্ধে থ্যাইকা ফিরা আইয়া- তরে ইস্কুলে ভর্তি করামু....! আমার ভাইজান মরবার পারেনা, ও ভাইজান গো, ভাইজান.....!!!
ভাইজান আমারে আরো কইয়া গেছিল... বুলু,
বুলু- আমি যুদ্ধে যাইতাছি। দরকার অইলে তুইও যাবি বুলু, তুইও যাবি। আমার ভাইজান মরবার পারেনা, ভা ই জা ন...…"

-অসমাপ্ত।

পুনঃ এই চিৎকার আহাজারি আর হাহাকার কান্নার আবেদন কখনো ফুরাবার? আমাদের আত্নার উত্তরাধিকার থেকে শেষ হবার ? তাই এই গল্প অসমাপ্তে শেষ হইয়াও, রয়ে গেছে আমাদের আত্নার অলিন্দের শিরা- উপশিরায়। তাই, এ অসমাপ্ত.......!!!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৩৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি বিলাস!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮



বৃষ্টির জন্য খুব বেশি হাহাকার জমেছিল বলেই কিনা,
জমিয়ে বৃষ্টি এসে রীতিমতো আমাদের জমিয়ে রেখেছে-
এখন গৃহ কারাবাস!
বৃষ্টি তুমি কিনা জমিয়ে রেখেছিলে এতটা ক্রোধ!
থামছেই না তোমার চোখ রাঙানি!
অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

×