somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনা ও তথাকথিত ইসলামী শাসনব্যবস্থা

২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে এধরনের প্রতিবাদ আগে কখনো হয়নি । এই প্রতিবাদ নিয়ে দুটি ধারনা এ মুহুর্তে প্রচলিত আছে । প্রথমটি হলো আমেরিকা ইউরোপ ও ইসরাইলের প্ররোচনায় কিছু ইরানী এই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে । এটি ইরানের কট্টরপন্থীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেবার চক্রান্ত । দ্বিতীয় যে ধারনা প্রচলিত সেটা হলো , ইরানের জনগনই কট্টরপন্থীদের শাসনে অতিষ্ট হয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে । বেশ কয়েকজন ইরানী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে । তারপরও প্রতিবাদ বন্ধ হয়নি । আমি আহমেদিনেজাদ বা মুসাভী কারো পক্ষেই নই । ইরানের জনগনই ঠিক করবে তারা আহমেদিনেজাদ বা মুসাভী কাকে বেছে নেবে ।

কিন্তু আমি যে জিনিসটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই , সেটি হলো , ইরানের তথাকথিত ইসলামী শাসনব্যবস্থার নানা ত্রুটি আজকে আমাদের সামনে চলে এসেছে ।

এক: ইরানের মোল্লারা ইসলামী নিয়মকানুন কড়াভাবে পালন করেন, ইরানীদের উপরও জোর করে ইসলামী নিয়মকানুন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ।
অথচ, সাধারন ইরানীরা এই কট্টরপন্থা পালন করতে না পেরে ইরানের বাইরে গিয়ে দুবাই, কাতার, সিঙ্গাপুর, জাপান, লন্ডন, কানাডা, প্রভৃতি দেশে গিয়ে তুলনামুলক স্বাধীন জীবন যাপন করছে । এসব দেশে বসবাসরত ইরানী মহিলাদের জীবনযাপন পদ্ধতি দেখলে অবাক হতে হবে । কর্মক্ষেত্রে আমার সাথে কিছু ইরানীর পরিচয় আছে, যারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় , কিন্তু ধর্মীয় কড়াকড়ির কারনে ফিরতে পারছে না । তারা এবার মুসাভীকে ভোট দিয়েছে । প্রসঙ্গত বলে রাখি, ইরানের বাইরে বসবাসরত ইরানীরা ইরানের নির্বাচনে ভোট দিতে পারে ।

দুই : ইরান তেল, গ্যাসসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ । দেশের আয়তন, লোকসংখ্যা, মানবসম্পদ প্রভৃতির বিচার করলে ইরান কোন অংশেই সৌদিআরব, দুবাই, কাতার সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর চাইতে কোন অংশেই কম নয় । কিন্তু ইরান এই দেশগুলোর চাইতে অর্থনৈতিক , বানিজ্যিক সবদিক দিয়ে পিছিয়ে আছে । ইরানের বাইরে বসবাসরত ইরানীরা এতে খুব নাখোশ । তাদের কথা হলো , আমাদের দেশে এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে কেন দেশের বাইরে গিয়ে থাকতে হবে ।

তিন: ইরান কয়েকটি ফিলিস্তিন গেরিলা গ্রুপকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করে থাকে । বলা যায় , ইরানের অর্থেই ঐ গ্রুপগুলো টিকে আছে । অধিকাংশ ইরানী জনগন তাদের দেশের অর্থের এই অপচয়ে নাখোশ । কারন ফিলিস্তিনের অধিকাংশ লোক ইরানীদের পছন্দ করেনা , ইরানের চাইতে সৌদিআরব সহ অন্যান্য আরব দেশকেই তাদের বন্ধু মনে করে ।

চার: ইরানে কঠোর ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রচলন করে , মোল্লাগন প্রচার করে, তারা ইসলাম খুব ভালভাবে পালন করছে । কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানরা ইরানের মুসলমানদেরকে মুসলমান বলেই স্বীকার করেনা ।

তাহলে দেখতে পাচ্ছি , ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা নামক তথাকথিত কিছু মোল্লাদের প্রনীত নিয়মকানুন ইরানের জনগনের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে ।

আসলে ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে আমাদের কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে , যা হলো,

১. রাষ্ট্র কখনো তার নাগরিকদের ধর্ম পালনে জোর করতে পারেনা , এতে কখনো শুভ ফল হয়না । ধর্ম পালন করা বা পালন না করা নাগরিকের নিজস্ব ব্যাপার , রাষ্ট্রের এতে উৎসাহ দেয়া বা বাধা দেয়ার কোন দরকার থাকতে পারেনা ।

২. তথাকথিত ইসলামী সমাজব্যবস্থা বা রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু হলেও রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত হবেনা । ইরান, সৌদিআরব সহ কিছু দেশে ইসলামী কট্টরপন্থা পালনে রাষ্ট্রীয় খবরদারি তাদের নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করতে পারেনি । বরং শাসকশ্রেনীর অধিকারকে সুরক্ষিত করেছে । শাসকশ্রেনী তাদের স্বার্থরক্ষায় সবসময় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে যাচ্ছে ।

৩. গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র , ধর্মতন্ত্র, পুজিবাদ প্রতিটি সমাজব্যবস্থাই সমাজে বসবাসকারীদের স্বার্থরক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে । প্রতিটি সমাজব্যবস্থায় ধনী দরিদ্রের পার্থক্য আরো ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে । প্রতিটি সমাজব্যবস্থা সবসময়ই কিছু গোষ্টীর স্বার্থরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে ।

যদিও পারফেক্ট সমাজ ব্যবস্থা আমরা কখনোই পাব না । কারন কোন সমাজব্যবস্থাই সমাজে বসবাসকারীদের সমান সুযোগ সুবিধা দিতে পারেনি ও আগামীতেও পারবে না । তাই গনতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মতন্ত্রের ছদ্ধাবরনে যখন শাসকশ্রেনী তাদের নিজেদের স্বার্থরক্ষায় আমাদের উপরে নানা ধরনের নিয়মকানুন চাপিয়ে দিতে চাইবে , তখন আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে ।







৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×